পোলো বাবুর অন্নপ্রাশন
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? আবারো চলে এসেছি আপনাদের সাথে নতুন একটি গল্প শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।
এই মাসের প্রথম থেকেই পরপর আমাদের অনেকগুলো নিমন্ত্রণ ছিল। সব নেমন্তন গুলোই যেহেতু ও কাছের আত্মীয়দের দিক থেকে ছিল তাই সব জায়গাতেই আমাদের যেতে হয়েছে। গত পরশু ছিল আমার শশুর মশায়ের পিসতুতো বোনের নাতির অন্নপ্রাশন। সম্পর্কের দিক থেকে একটু দূরের হলেও আমার শ্বশুর বাড়ির সঙ্গে ওদের সম্পর্ক খুব ভালো। তাই সব অনুষ্ঠানেই আমার শ্বশুর বাড়ির দিকে থেকে যেমন নিমন্ত্রণ করা হয় ঠিক তেমনি ওরাও আমাদের নিমন্ত্রণ করে।

তবে আমাদের বৌভাতে ওরা আমন্ত্রিত থাকলেও, আসতে পারিনি কারণ পোলো মানে ওনাদের একমাত্র নাতির ভীষণ শরীর খারাপ ছিল। তাই ওনাদের সাথে আমার আগে কখনো পরিচয় হওয়ার সুযোগ হয়নি। ১০-১৫ দিন আগে ওরা আমার শ্বশুরবাড়ি এসেছিল পোলোর অন্নপ্রাশনের নিমন্ত্রণ করতে। তবে সেই দিন আমি আমার মায়ের কাছে গিয়েছিলাম। তাই বাড়িতে না থাকায় ওদের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়নি। তবে বিয়েতে না আসার জন্য আমার শ্বশুরমশাই একটু অভিমান করেছিল। কিন্তু ওরা এসে বিষয়টা বুঝিয়ে বলাই শ্বশুরমশাই বুঝতে পারেন। ওরা বৌভাতে না আসতে পারলেও আমার জন্য একটা গিফট এনেছিল। যেটা আমার শাশুড়ি মায়ের কাছে দিয়ে গিয়েছিল।

তাই অন্নপ্রাশনের নিমন্ত্রণ রক্ষার্থে আমরা সেই দিন রেডি হয়ে গিয়েছিলাম। অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠান ছিল রাতে। পোলোর ভালো নাম সারাংশ। যেহেতু আমি আমার শ্বশুর বাড়ির কয়েকজন বাদে বাকি আর কাউকেই সেই ভাবে চিনি না তাই শ্বশুর বাড়ির দিকের অনুষ্ঠান বাড়িতে যেতে আমার খুব একটা ইচ্ছে করেনা কারণ আমি কেমন যেন আনন্দ করতে পারিনা। সকলের সাথে মিশে যেতে আমার একটু সময় লাগে। যাই হোক, আমি, মা, বাবা সকলে রেডি হয়ে গিয়েছিলাম। যদিও বাবা গিফ্ট কিনতে গিয়ে একটু লেট করছিল। তারপর যখন এলো, আমরা Rapido থেকে toto গাড়ি বুক করেছিলাম।
আমার বর একটা কাজে গিয়েছিল। ও প্রথমে বলেছিল যাবে না। তবে পরে আমরা সবাই গিয়েছি দেখে কাজ সেরে একেবারে সেখানে চলে গিয়েছিল। তাই আর ড্রেস চেঞ্জ করার সময় পায়নি। যাইহোক, সেখানে পৌঁছে আমরা সকলের সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তারপর বাবা গিফ্ট টা দিয়ে দিয়েছিল যেটা পোলো বাবুর জন্য কিনে আনা হয়েছিল। আমি যেহেতু ওদের পরিবারের নতুন বৌমা, তাই সকলেই আমাকে খুব ভালোবেসেছিল। আমরা কিছুক্ষণ বসে বসে পোলোর ফটোশুট দেখছিলাম।

এরপর আমরা স্টার্টারের স্টলে চলে গিয়েছিলাম। স্টার্টারে ছিল ফিস বল আর চিকেন পকোড়া। সেগুলো আর ছবি তোলা হয়নি। সেগুলো খেয়ে কিছুক্ষণ বসে ছিলাম। তারপর আমরা খেতে চলে গিয়েছিলাম। যেহেতু আমরা অনেক লেট করি গিয়েছিলাম তাই আমরাই ছিলাম শেষ ব্যাচ। মেনুতে ছিল --রাধাবল্লভী, চানা পনীর, সাদা ভাত, ভেজ ডাল, ঝুড়ি আলু ভাজা, ভেটকি ভাপা, কাতলা কালিয়া, আমের চাটনি, পাঁপড়, দই,ক্ষীরপুলি, কালাকাঁদ, মিষ্টি পান।

খাওয়া-দাওয়া সেরে, সকলের সাথে দেখা করে আমরা আবার বাড়ি ফিরে এসেছিলাম।
আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

