ছেলেবেলার বান্ধবীর আইবুড়ো ভাত

in Incredible India3 months ago (edited)

নমস্কার বন্ধুরা। সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আপনাদের সাথে ছোটবেলার বান্ধবীর বিয়ের কিছু মুহূর্ত শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।

প্রথমেই আমার এই বান্ধবীটির সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিই। ওর নাম বাবলি। ওর সাথে আমার পরিচয় ক্লাস ফোর থেকে। কীভাবে পরিচয় সেটাও বলি। আসলে আমার মা ওদের বাড়িতে কাজ করত। এটা বলতে আমার একেবারেই লজ্জা করে না। যে কাজটা করে উপার্জন করে মা আমাদের পড়ালেখা করালো, বড়ো করলো সেই কাজটাকে আমি একেবারেই ছোটো করতে পারি না। মায়ের কর্মসূত্রেই ওদের বাড়িতে যাওয়া। সেখানে আমার বয়সী ওর সাথে আমার পরিচয়। যদিও পরবর্তীকালে জানতে পারি ও মানে বাবলি আর আমি একই দিনে জন্মেছি। আমাদের দুজনের জন্মদিন একই দিনে। পরবর্তীকালে হাইস্কুলে আমরা একসাথে পড়াশোনা করেছি।

1000345682.jpg

সেই থেকে এখনো পর্যন্ত আমাদের বন্ধুত্ব রয়েছে। যদিও হাই স্কুলের পরে সেভাবে আর দেখা-সাক্ষাৎ হয় না। তবুও যোগাযোগ রয়েছে। ওদের বাড়ির সবাই আমাকে খুব ভালোবাসে। বাড়ির কাজের লোকের মেয়ে বলে কোনোদিন আমাকে discriminate করেনি। সেই জন্যই আমিও ওদের খুব শ্রদ্ধা করি। গতকাল ছিল ওর বিয়ে। খুব মজার ব্যাপার হলো ওর শ্বশুর বাড়ি আমার শ্বশুর বাড়ির খুব কাছেই। ওর বাবা কয়েক সপ্তাহ আগে আমাদের বাড়িতে এসে কার্ড দিয়ে বাড়ির সকলকে নিমন্ত্রণ করে গিয়েছিল। সেই সাথে আমাকে আগের দিন থেকে বাবলির সাথে থাকতে বলেছিল। প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি, ওদের বাড়ির বিয়ের ফটোগ্রাফির কাজ দাদাই করছিল।তাই আইবুড়ো ভাত উপলক্ষ্যে আমি দুপুর দুটোর দিকে ওদের বাড়ি গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখলাম, ইতিমধ্যে ও আইবুড়ো ভাতের জন্য শাড়ি পরে সেজে নিয়েছে। অন্যদিকে বাড়ির সকলে ওর জন্য ওর পছন্দমতো খাবার রান্না করে, সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছে। তারপর সবাই এসে উপস্থিত হলে, ওকে সেখানে বসানো হয়। এরপর শুরু হয় আশীর্বাদ পর্ব।

1000345686.jpg

প্রথমেই ওর বাবা ওকে আশীর্বাদ করে। এরপর আশীর্বাদ করে ওর মা। কিছুদিন বাদে যেহেতু আমারও পালা আসছে তাই এখন যার বিয়েতেই যাই না কেন, বিষয়গুলো খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারি। যদিও আমি ভীষণই ইমোশনাল মানুষ। তাই আমার মনে হয় আমি সারা বিয়ে জুড়ে কান্নাকাটিই করবো। আইবুড়ো ভাতের দিনও হয়তো নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারবোনা। তবে ওদের বাড়িতে সেই দিন কান্নাকাটির কোনো পর্ব হয়নি।

1000345688.jpg
এরপর একে একে বাড়ির সমস্ত বয়োজ্যেষ্ঠরা আশীর্বাদ পর্ব সারছিল। ওর মামা, মামি এবং আরো অনেক আত্মীয়-স্বজন আশীর্বাদ করছিল। অন্যদিকে ক্যামেরাম্যান ফটো তুলছিল। দাদার যেহেতু দুটো বাড়িতে কাজ ধরা ছিল তাই দুই জায়গাতেই ম্যানেজ করতে হচ্ছিল। যদিও আরো অনেকে ছিল ওদের টিমে। তাই অসুবিধা হচ্ছিল না।

1000345690.jpg
সবশেষে আমাদের পালা। আমরাও ওর সাথে কিছু ফটো তুলে নিয়েছিলাম। তারপর ওকে খেয়ে নিতে বলা হয়েছিল। যেহেতু অনেক বেলা হয়ে গেছিল তাই ওর খিদেও পেয়ে গিয়েছিল। সেই সময় আমাদেরকেও খেয়ে নিতে বলা হয়েছিল। তাই আমরাও খেতে চলে গিয়েছিলাম। খাওয়া শেষ হলে আমরা কিছুক্ষণ গল্প করেছিলাম। তারপর যেহেতু আমার পড়ানো ছিল তাই আমি বাড়ি চলে এসেছিলাম।

1000345692.jpg
আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Sort:  

Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟

Loading...
Loading...

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.29
JST 0.050
BTC 69046.77
ETH 2027.96
USDT 1.00
SBD 0.49