বান্ধবীর বিবাহ বার্ষিকী
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলে খুব ভালো আছেন। আজকে আবারও চলে এসেছি আপনাদের সাথে একটি নতুন গল্প শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।
গত 13 ই ফেব্রুয়ারি ছিল আমার এক বান্ধবীর দ্বিতীয় বছরের বিবাহ বার্ষিকী। সেই উপলক্ষ্যে ও এবং ওর হাজবেন্ড একটা ছোট পার্টির আয়োজন করেছিল। তাই আমাদের বান্ধবীরা সেই দিন সেখানে আমন্ত্রিত ছিলাম। আমাকে এবং আমার বরকেও নিমন্ত্রণ করেছিল। যেহেতু আমার মায়ের বাড়ির কাছাকাছি একটা রেস্টুরেন্টে পার্টিটা আয়োজন করা হয়েছিল তাই আমি সকালবেলায় ওই বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। অনুষ্ঠান ছিল দুপুর বেলায়।

দুপুর ১.৩০ টার সময় আমাদের যাওয়ার কথা ছিল। তাই আমি দেড়টার মধ্যে রেডি হয়ে গিয়েছিলাম। যেহেতু আমার সদ্য বিয়ে হয়েছে, তাই যেকোনো অনুষ্ঠানে এখন শাড়ি পরে যেতে বেশ ভালো লাগে। শাড়ি পরে, সিঁদুর পরে বেশ নতুন বৌ- নতুন বৌ লাগে। তাই ওখানে যাওয়ার জন্যও আমি একটা শাড়ি পরে নিয়েছিলাম। শাড়িটা আমার খুব পছন্দের একটি শাড়ি। তাই ওটা পরে নিজেকে বেশ ভালোই লাগছিল।
কিছুক্ষণ পর আমার একটা বান্ধবী আমাদের বাড়ি এসেছিল। আমরা দুজন একসঙ্গে যাব বলে ঠিক করেছিলাম। তবে ও যখন এলো তখন দেখলাম ও একটা জিন্স- টপ পরে এসেছে। ওর দুই বছর হলো বিয়ে হয়েছে। বিয়ের প্রথম প্রথম ওকেও দেখতাম সুন্দর করে শাড়ি পরে, সিঁদুর পরে সব জায়গায় যেত। দেখতে বেশ মিষ্টি লাগত। তবে দুই বছর পর সেই সব একটু কমে গেছে। কিন্তু আসামাত্রই যখন দেখল যে আমি শাড়ি পরেছি এবং নতুন বৌ দের মতোই সেজেছি, তখন ও জিন্স টপ পরে কিছুতেই আর যেতে রাজি হল না।
তাই আমি ওকে জিজ্ঞাসা করলাম," আমার একটা শাড়ি দেবো? পরবি?" । ও রাজি হয়ে গেল। আর যেহেতু আমাদের দুজনের ফিগার মোটামুটি একই তাই আমার ব্লাউজও ওর গায়ে ফিট হয়ে গেল। তারপর সুন্দর করে শাড়ি পরে, সিঁদুর পরে নতুন বৌদের মতো করে ও সেজে নিল। ওকেও দেখতে খুব সুন্দর লাগছিল। আমরা একসঙ্গে বেশ কিছু ফটোও তুলেছিলাম।
এরপর আমরা একটা টোটো গাড়ি করে সেই রেস্টুরেন্টে পৌঁছে গেলাম। সেখানে ইতিমধ্যে আমাদের আরেক বান্ধবী এসে হাজির হয়েছিল। ও অনেকক্ষণ ধরেই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। তারপর আমরা বেশ কয়েকটা ফটো তুলেছিলাম। তারপর আমরা সিঁড়ি বেয়ে চলে গিয়েছিলাম রেস্টুরেন্টের দোতলায় যেখানে সেই দিনকার অনুষ্ঠানটা আয়োজন করা হয়েছিল।
যাওয়া মাত্রই বান্ধবী সঙ্গে দেখা হয়ে গিয়েছিল। কিছু বলার আগেই ও আমাদের হাতে একটা করে স্টার্টারের বাটি ধরিয়ে দিয়ে চলে গিয়েছিল। স্টার্টারে ছিল ফিশ ফিঙ্গার ও একটা চিকেন বল। সেগুলোর আর ছবি তোলা হয়নি। সেই মুহূর্তে আমি কোন গিফট নিয়ে যাইনি কারণ, আমার বর তখন আমাদের সাথে আসেনি। ও কিছুক্ষণ পরে এসেছিল আর তখন ও গিফট কিনে এনেছিল। যেহেতু যে বান্ধবীর বিবাহ বার্ষিকী ছিল সে ভীষণই ব্যস্ত ছিল, তাই আমরা বাকি তিনজন বান্ধবীরা মিলে বেশ অনেকগুলো ফটো তুলেছিলাম এবং গল্প করছিলাম।
এরপর শুভায়ন মানে আমার বর এসেছিল। ও নিজে পছন্দ করে বান্ধবীর জন্য এবং বান্ধবীর বরের জন্য wristwatch এর সেট এনেছিল। যেটা দেখতে খুব সুন্দর ছিল। এরপর আমরা খেতে বসে গিয়েছিলাম। খুব সিম্পল কিন্তু সকলের পছন্দের মেনু রাখা হয়েছিল। পোলাও, মটন, কোল্ড ড্রিংকস, মালাই চমচম ইত্যাদি।
খাবার খেয়ে আমরা কিছুক্ষণ সময় বসে ছিলাম। তারপরে আমার যেহেতু পড়ানো ছিল তাই আমি আর বেশিক্ষণ থাকতে পারিনি। তাই সকলকে টাটা জানিয়ে আমি চলে গিয়েছিলাম। এইভাবেই একটা সুন্দর দুপুর আমরা কাটিয়েছিলাম।
আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।



Curated by: @pandora2010