বিয়ের আগে একটা সুন্দর সন্ধ্যা
নমস্কার বন্ধুরা। সকলে কেমন আছেন? যেমনটা কথা দিয়েছিলাম যে এবার থেকে প্রত্যেকদিন আপনাদের সাথে আমার জীবনের নানা রকম গল্প শেয়ার করব, সেইমতো আজকেও চলে এসেছি আপনাদের সাথে নতুন একটি ঘটনা শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে।
যেহেতু মাঝে বেশ অনেকদিন আমি এই প্ল্যাটফর্মে লেখালেখি করতে পারিনি তাই আপনাদের সাথে বহু গল্প জমে আছে। আজকে আমি যেই দিনের গল্প শেয়ার করছি, সেটি আমার বিয়ের তিনদিন আগের ঘটনা। বিয়ের আগে আগে সবার যেমন ভীষণ ব্যস্ততা থাকে, টেনশন থাকে যে সবটা ঠিকঠাক ভাবে হবে কিনা.... এই সমস্ত কিছুই তখন আমাদের মধ্যে চলছিল। তার মধ্যে তো কেনাকাটি চলতেই থাকছিল। বিয়ে মানেই একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেখানে প্রচুর কেনাকাটি, নিয়মকানুন ইত্যাদি থাকেই। এর মাঝে আলাদা করে হবু বরের সাথে বেরোনোর সময়ই হতো না। যদিও বা বেরতাম, শুধুমাত্র কোন কিছু কেনার জন্যই একসাথে বেরোনো হতো। তাছাড়া আগের মতো নিজেদের মতো করে সময় কাটানোর জন্য বেরোনোর মতো সময় পেতাম না। তবে সেই দিন আমরা ভেবেই রেখেছিলাম, বিয়ের আগেএকটা দিন অন্তত আমরা নিজেদের জন্য রাখবো। সেইমতো সেই দিন আমরা সন্ধ্যেবেলায় আমাদের শহরেই থাকা একটি ক্যাফে/ রেস্টুরেন্টে চলে গিয়েছিলাম।
যদিও বা ভেবেছিলাম আমরা দুজন মিলেই সেখানে যাব। তবে সেখানে পৌঁছনো মাত্র আমার বরের এক রিলেটিভ ফোন করে জানতে চাইলো আমরা কোথায় আছি, সেও তার বৌকে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে ছিল। ওদের দুই মাস হলো বিয়ে হয়েছে। আসলে সম্পর্কে ও আমার বরের মামা হয়, যদিও ওর থেকে মাত্র তিন বছরের বড় তাই ওকে মামা বলে ডাকা হয় না, বরং বন্ধুর মতোই ওরা মেশে। ও ওর বৌকে সন্ধ্যা বেলায় প্রায়ই নিয়ে বেড়োয় আর আমাদের শহর ঘুরিয়ে দেখায়। কারণ মেয়েটি নন বেঙ্গলি। ওর বাড়ি উত্তরপ্রদেশে। তাই ও এখানকার কিছুই চেনে না। যাইহোক, আমরা কোথায় আছি জানার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরাও চলে এল।
যদিও ওরা সম্পর্কে আমার মামা- মামি হয়, কিন্তু আমি তথাই দাদা আর প্রিয়া দি বলেই ডাকি। ওরা আসার পর প্রথমেই চা অর্ডার করা হয়েছিল।আমি সব সময় চা খেতে ভালোবাসি না। তাই আমি চা অর্ডার করিনি। তবে বাকি তিনজনের জন্য চা অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। এক একজনের জন্য এক এক রকমের চা অর্ডার দিয়েছিল--- মসলা চা, লেমন টি, গ্রাস লেমন টি ইত্যাদি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা চা দিয়ে গিয়েছিল। চা খাওয়ার পর আমরা কিছুক্ষণ গল্প করছিলাম। যেহেতু ওরাও সদ্য বিবাহিত আর আমাদেরও বিয়ে হতে চলেছিল, তাই বিয়ের পর আমরা একসাথে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলাম।

এরপর আমরা manchow soup অর্ডার করেছিলাম। যেহেতু প্রিয়া দি ভেজ খায়, তাই একটা ভেজ স্যুপ আর তিনটে চিকেন স্যুপ অর্ডার করা হয়েছিল। যেহেতু এর আগে এখান থেকে আমরা manchow soup খাইনি, তাই এখানকার টেস্ট কেমন হবে তা নিয়ে আমাদের মধ্যে একটু আশঙ্কা ছিল। তবে যখন স্যুপ টা টেস্ট করলাম দেখলাম অসাধারণ খেতে। এর আগে আমরা যেমন খেয়েছিলাম ( অন্য রেস্টুরেন্টে) ঠিক একই রকম স্বাদ। আমাকে প্রত্যেকের খুব ভালো লেগেছিল। যদিও পরিমাণ টা একটু কম ছিল অন্য জায়গার তুলনায়, তবুও স্বাদটা যেহেতু খুব ভালো ছিল তাই, পরিমাণ কম ছিল বলে আক্ষেপ নেই।

এরপর আমরা আরো বেশ কিছুক্ষণ বসে ছিলাম এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গল্প করছিলাম। তারপর আরো বেশ কিছু ফটো তুললাম। বেশ কিছু বিষয় নিয়ে পরিকল্পনা করলাম। তারপর রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে কিছু কেনাকাটা সেরে বাড়ি ফিরে এলাম।

আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

