নিজের প্রথম আইবুড়ো ভাত
নমস্কার বন্ধুরা। সকলে কেমন আছেন? আজকে প্রায় দুই মাস পরে আমি আবার পুনরায় steemit এ লেখা শুরু করছি। মাঝের এই সময়গুলোতে অনেক কিছু ঘটে গেছে। যা আপনাদের সাথে এখনো পর্যন্ত শেয়ার করা হয়নি। দিন দিন গল্পের ঝুলি বেড়েই চলেছে, কিন্তু বিভিন্ন কারণে আপনাদের সাথে তা শেয়ার করা হয়ে ওঠেনি। তবে এবার মনস্থির করেই নিয়েছি যে আজকে থেকে আবার পুনরায় নিয়মিত আপনাদের সাথে বিভিন্ন গল্প শেয়ার করব। তাহলে চলুন আজকের গল্পকথা শুরু করা যাক।।
এর আগে আমি বহুবার আপনাদের সাথে আমার বান্ধবীদের আইবুড়ো ভাতের গল্প শেয়ার করেছি। আগে যারা আপনারা নিয়মিত আমার লেখা পড়তেন তারা জানেন যে আমাদের একটা বান্ধবীদের গ্রুপ আছে। সেই গ্রুপের যে কারোর বিয়ে ঠিক হলে আমরা তাকে আইবুড়ো ভাতের নিমন্ত্রণ করতাম। এই ভাবেই আমরা আমাদের বহু বান্ধবীদের আইবুড়ো ভাত খাইয়েছি। তবে দেখতে দেখতে এবার আমার পালাও চলে এলো। যদিও প্রথম আইবুড়ো ভাতের নিমন্ত্রণটা আমি আমাদের সেই বান্ধবীদের গ্রুপের তরফ থেকে পাইনি। কারণ প্রথম আইবুড়ো ভাতটা খেয়েছিলাম পৌষ মাসে। অনেকেই পৌষ মাসটাকে কোন শুভ কাজের জন্য যথার্থ মাস বলে মনে করেন না, তাই এই মাসে শুভ কাজ অনেকেই এড়িয়ে চলে। তবে আমি আমার বান্ধবীদের জানিয়ে রেখেছিলাম তারা যদি আইবুড়ো ভাত খাওয়াতে চাই তাহলে পৌষ মাস থেকে শুরু করতে পারে কারণ মাঘ মাসেই যেহেতু বিয়ে ছিল তাই ওই অল্প কয়েকদিনের মধ্যে পরপর এত খাওয়া সম্ভব হবে না।
তাই প্রথম নিমন্ত্রণটা পেয়েছিলাম আমার বি.এড কলেজের বান্ধবীদের কাছ থেকে। যদিও ওরা চেয়েছিল আমাকে একটা সারপ্রাইজ দেবে, তবে আমি সেই সারপ্রাইজটা ভেস্তে দিয়েছিলাম। কীভাবে? দাঁড়ান বলছি। আসলে ওরা আমাকে আগে থেকে জানায়নি যে ওরা আমাকে আইবুড়ো ভাত খাওয়াবে। এমনি আমাদের প্ল্যান হয়েছিল রেস্টুরেন্টে গিয়ে একদিন সময় কাটাবো। যেহেতু বিএড কলেজের পর তাদের সাথে আমার নিয়মিত আর দেখা সাক্ষাৎ হয় না তাই মাঝে মাঝেই আমরা এরকম প্ল্যান করি। সেই মতো আমরা একটা দিন ঠিক করেছিলাম রেস্টুরেন্টে যাওয়ার জন্য। তবে যাওয়ার আগের দিন, আমি জানতে পারি যে পরের দিন আমাকে এক জায়গায় যেতেই হবে, তাই আমি ওদেরকে জানাই যে আগামীকাল আমার যাওয়া হবে না। তখন ওরা বাধ্য হয়ে আমাকে বলেই ফেলেছিল যে, "তুই না গেলে তো আমাদের যাওয়ার কোন মানেই হয় না, কারণ আমরা সবাই মিলে তোকে আইবুড়ো ভাত খাওয়াবো।"
এটা শুনে এত খুশি হয়ে গিয়েছিলাম যে পরের দিনের কাজকর্ম ফেলে আইবুড়ো ভাত খাওয়ার জন্য চলে গিয়েছিলাম। আসলে এতদিন বান্ধবীদের আইবুড়ো ভাত খাইয়েছি, আর এই প্রথমবার আমার আইবুড়ো ভাত হবে এটা ভেবে আমি ভীষণ এক্সাইটেড হয়ে গিয়েছিলাম। তাই, বেশি এক্সাইটমেন্টে পরের দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজও ভুলে গিয়েছিলাম। যেহেতু সেই সময়টাই প্রচন্ড শীত পড়েছিল, তাই ওরা কেউই শাড়ি পরে আসতে চায়নি। যদিও অন্য সময়ে আমরা শাড়ি পরেই দেখা করি। কারণ শাড়ি পরলে বেশ ভালো ভালো ফটো ওঠে। আর আমরা সকলেই ফটো তুলতে খুব ভালবাসি। তবে প্রচন্ড শীতের জন্য ওরা একেবারেই শাড়ি পরতে চাইনি। তবে আইবুড়ো ভাতে আমি ঠিক করেই রেখেছিলাম যে আমি শাড়ি পরবো। তাই ওরা শাড়ি পরে না আসতে চাইলেও আমি কিন্তু শাড়ি পরেই গিয়েছিলাম।
পরবর্তী পর্বে অবশ্যই আপনাদের সাথে আমার প্রথম আইবুড়ো ভাত খাওয়ার গল্প বিস্তারে বলবো। আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।



