মেহেন্দি পরা
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আপনাদের সাথে আরও একটি নতুন গল্প শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।
গত ৩রা ফেব্রুয়ারি ছিল আমার বিয়ে। আর এই বিয়েকে কেন্দ্র করে এখন বেশ অনেক রিচুয়ালসই পালন করা হয়। তবে বাঙালি বিয়েতে সঙ্গীত বা মেহেন্দির রিচুয়ালস আগে ছিল না। তবে ধীরে ধীরে বিভিন্ন কালচারের সং মিশ্রণের ফলে এখন হিন্দু বিয়েতেও এই কালচার টা দেখা যায়। তাই বিয়ের আগে অনেকেই বাড়িতে মেহেন্দি ফাংশন রাখে। যেদিন বাড়ির মেয়ে-বৌ রা হাতে মেহেন্দি পরে। তবে আমি প্রথম থেকেই বিয়েতে মেহেন্দি পরতে চাইনি। আমার অন্য আরেকটি প্ল্যান ছিল। তাই মেহেন্দি ফাংশন আমি রাখতে চাইনি। তবে আমার সব বান্ধবীদের এই মেহেন্দি ফাংশন হয়েছে এবং ওরা খুব সুন্দর করে সেজে ফটো তুলেছে ও ভিডিও করেছে। তাই আমিও চেয়েছিলাম বিয়ের কয়েক সপ্তাহ আগে একটু সেজে, মেহেন্দি আর্টিস্ট এর কাছ থেকে মেহেন্দি পরে ফটো তুলে রাখবো ও পরে অ্যালবামে সেগুলোকে অ্যাড করে দেবো। আজকে আমি আপনাদের সাথে সেই দিনেরই কিছু গল্প শেয়ার করব।
মেহেন্দি পরার জন্য আগে থেকেই মেহেন্দি আর্টিস্টকে পছন্দ করে রেখেছিলাম। শুধু মেহেন্দি পরলেই তো হবে না, তার জন্য প্রয়োজন একটা প্রপার ব্যাকগ্রাউন্ড ও মেকআপ। ব্যাকগ্রাউন্ড এর জন্য আমি দুটো কালারের শাড়ি কিনেছিলাম-- লাল আর হলুদ। আর সেই সাথে কিনেছিলাম দুটো কালারের প্লাস্টিকের গাঁদা ফুল -- হলুদ আর কমলা। এই পুরো আয়োজনটা করা হয়েছিল আমার হবু শ্বশুর বাড়িতে। আমি আর আমার বর আগের দিন রাতের বেলায় সব কিছু কিনে এনেছিলাম। তারপর রাতের বেলাতেই ঐগুলো গুছিয়ে কাজ চালানোর মতো একটা ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি করে রেখেছিলাম। ক্যামেরায় ফটো তোলার পর ব্যাক গ্রাউন্ডটা ভালোই লাগছিল। যেহেতু কিছুদিন পরেই আবার বিয়ে উপলক্ষ্যে ডেকোরেশনের অনেক খরচপাতি ছিল তাই এইটুকু মেহেন্দি শুটের জন্য আর বেশি টাকা-পয়সা খরচ করে আমরা ডেকরেটর কে দিয়ে ডেকোরেট করিনি।
মেকআপ আর্টিস্টের গল্প আপনাদের সাথে অন্য কোন পোস্টে শেয়ার করব। আজকে শেয়ার করব শুধুমাত্র মেহেন্দি পরার অভিজ্ঞতা ও মেহেন্দি আর্টিস্ট কে নিয়ে। মেহেন্দি আর্টিস্ট হিসেবে আমি যাকে পছন্দ করেছিলাম সে আমার পূর্ব পরিচিত। তবে আমি অনেক ছোটবেলায় ওকে দেখেছি। আসলে ওর মাসির বাড়িতে আমরা আগে ভাড়া থাকতাম। তখন ও ঘুরতে আসত মাঝে মাঝে। সেই সময়ই ওকে দেখেছি। তাছাড়া বড় হওয়ার পর আমাদের আবার দেখা হয়েছিল একটা কোর্স করার সময়। ফেকবুকে ওর মেহেন্দি পরানোর কাজ আমি দেখেছি। ও আমার ফেসবুক ফ্রেন্ডেও আছে। তাই প্রথম থেকেই ওর কাজ আমার খুব ভালো লাগতো। সেই কাজ দেখেই আমি ওকে একবার বলেছিলাম, "যদি বিয়েতে মেহেন্দি পরি, তাহলে অবশ্যই জানাবো।" আমি যে মেহেন্দি করেছিলাম সেটা ছিল সেমি ব্রাইডাল। আমি খুব বেশি মেহেন্দি করতে চাইনি তাই সেমি ব্রাইডাল মেহেন্দিটাই করেছিলাম।

সেই দিন ও বিকেল বেলায় আসবে বলেছিল। আমিও সেই সময়ের মধ্যে রেডি হয়ে শ্বশুর বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। তারপর আমার বর ওকে বাসস্টপ থেকে আনতে গিয়েছিল। ও আসার পর ধীরে ধীরে ওর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রগুলো বের করছিল। আমি আমার কিছু কাজ সেরে বসে পড়েছিলাম। কারণ ও যেহেতু একাই মেহেন্দি পড়াবে তাই ও বলেই রেখেছিল যে ওর প্রায় ৩-৪ ঘন্টা সময় লাগবে।

আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। বাকি পর্ব আপনাদের সাথে পরবর্তী পোস্টে শেয়ার করব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Curated by: @ahsansharif