দেড় মাস পরে মা আমার সাথে দেখা করতে এল
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? আজকে আবারো চলে এসেছি আপনাদের সাথে নতুন একটি গল্প শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।
গত ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ আমার বিয়ে হয়েছে। তারপর থেকে বেশ কয়েকবার আমি মায়ের কাছে গিয়েছি দেখা করতে। তবে ওই বাড়ি থেকে আমাদের এই বাড়িতে মানে শ্বশুরবাড়িতে এত দিনের মধ্যে কেউ আসেনি। আমার খুব মন খারাপ করে। এতগুলো বছর যাদের সাথে থাকলাম, তাদেরকে ছেড়ে অন্য একটা জায়গায়, আলাদা পরিবেশে, নতুন মানুষদের সাথে মানিয়ে নেওয়া তো খুব সোজা ব্যাপার নয়। তাই আমারও সময় লাগছে। তাই মন খারাপ করলেই আমি ঐ বাড়ির থেকে ঘুরে আসি। তবে মা, দাদা, বৌদি এই বাড়ি এসে কখনো থাকেনি। তাই আমি আর আমার বর একটু অভিমান করে বলেছিলাম, "তোমরা এবার আমাদের বাড়ি না এলে, আমরাও কিন্তু আর যাব না। আসলে নতুন বিয়ে হয়েছে, তাই মা চায়ছিল, নিজের মতো করে সংসারটা একটু গুছিয়ে নিই, তারপরে আসবে। মায়েরা তো বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখেই কাজ করে। তাই হয়তো এতদিন আসেনি। আসেনি মানেই এটা নয় যে আমার কথা ওদের মনে পড়েনি।

তাই দুইদিন আগে আমাদের বাড়ি থেকে সবাই, মানে- মা, দাদা, বৌদি, ভাইপো এসেছিল। আর সঙ্গে এসেছিল আমার খুব কাছের আর এক বৌদি। ওরা যখন ফোন করে আমাকে বলেছিল যে ওরা গাড়ির থেকে নামলো, আমি তো খুব আনন্দে গেটের কাছে গিয়ে অপেক্ষা করছিলাম যে ওরা কখন আসবে। তারপর দেখলাম একে একে সকলে আসছে। কি যে খুশি হয়েছিলাম কি বলবো! নিজেদের পরিচিত মানুষের অনেক দিন পরে কাছে পেলে যেমন লাগে ঠিক সেইরকম। আমার ভাইপো আমাকে খুব ভালোবাসে, আমিও খুব ভালোবাসি। ও এসে 'পিন' 'পিন' বলে ডাকতে ডাকতে আমার কোলে উঠে পড়েছিল। তারপর অনেক আদর করেছিলাম। মাও আমাকে আদর করেছিল।

আমার বর আগে থেকেই বাজার করে এনেছিল। ওরা কিছুক্ষণ বসলো। তারপর ওদেরকে কোলড্রিংস দিয়েছিলাম। তারপর বৌদি আর আমি দুজনে মিলে রান্না করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমার বৌদি খুব ভালো রান্না করে তাই বেশিরভাগ রান্নার দায়িত্ব বৌদিকেই দিয়েছিলাম। দুপুরের মেনুতে ছিল, সাদা ভাত, একটা ভর্তা, মুসুরির ডাল, ট্যাংরা মাছের ঝাল, সুক্ত, চিকেন, চাটনি, পাঁপড়, মিষ্টি। শুধু যে আমি আর আমার বৌদি রান্না করছিলাম তা নয়। আমার শাশুড়ি মাও সাহায্য করছিল। আসলে সেই দিন আমার শাশুড়ির মায়ের এক জায়গায় একটা মিটিং ছিল তাই ওনাকে সেখানে যেতে হয়েছিল। যদিও যাওয়ার আগে ভাত, ডাল রান্না করে রেখে গিয়েছিল। তারপর ফিরে এসে আমাদেরকেও সাহায্য করেছিল।
বৌদিকে বেশিক্ষণ রান্না ঘরে রাখিনি। ঘুরতে এসেছে তাই বৌদিকে দিয়ে তো বেশিক্ষণ কাজ করানো যায় না। আবার আমি নিজেও একা একা এত মানুষের খাবার রান্না করতে পারতাম না তাই আমার বর আমাকে খুব সাহায্য করেছে। রান্নাবান্না যে আমার বর খুব ভালো পারে তাই নয়, তবে খুব সাহায্য করে। খুব ক্লান্তির সময়ে সেটাও খুব ভালো লাগে। আমার বর যে শুধুমাত্র আমাকেই রান্নার কাজে সাহায্য করে তা নয়, এমনকি মাকেও সাহায্য করে। সেই দিন রান্নাবান্নার কাজে সাহায্য করার পাশাপাশি রান্নাঘর পরিষ্কার করার কাজেও কিন্তু আমাকে সাহায্য করেছিল।

রান্নাবান্না শেষ করে, রান্নাঘর পরিষ্কার করে, আমরা সকলে একসঙ্গে টেবিলে খেতে বসেছিলাম। খাওয়া-দাওয়া, গল্প সব মিলিয়ে সেই দিন দুপুরটা খুব সুন্দর কেটেছিলাম।

আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
|
|---|
