Holi 2026 (Last part)
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আপনাদের সাথে এই বছরের হোলির দিনের শেষ পর্ব নিয়ে। এর আগের পর্বে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম যে এই বছর ছিল আমার বিয়ের পর প্রথম হোলি। তাই আমরা সকাল সকাল মায়ের বাড়ি চলে গিয়েছিলাম রং খেলতে। তারপর সেখানে এক বৌদির বাড়ি নিমন্ত্রণ ছিল। সেখানে দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরেছিলাম।
এখানেই কিন্তু আমাদের হোলি বা রং খেলা শেষ হয়ে যায়নি। সেখান থেকে সকলকে বিদায় জানিয়ে আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম আমার বরের colleague দের সাথে দেখা করতে। ওর তিনজন colleague সেই দিন বেশ কিছু আয়োজন রেখেছিল, যেটা আমার একেবারেই জানা ছিল না। আমার বর আমাকে বলেছিল যে আমরা জাস্ট একবার সেখানে যাব এবং সকলের সাথে দেখা করে চলে আসব। তাই আমি রাজি হয়ে গিয়েছিলাম।
আমি আর আমার বর প্রথমে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলাম যেখানে বাকিদের আসার কথা ছিল। একটা colleague এর বাড়িতে মিটিংটা আয়োজন করা হয়েছিল। আমরা যখন প্রথমে পৌঁছলাম তখন দেখলাম বাকিরা কেউই আসেনি। তাই আমরা একটু ঘুরে আবার কিছুক্ষণ পরে আসি। তখন সকলে চলে এসেছিল। আমরা ভিতরে গিয়ে বসেছিলাম। একটা colleague এর ছোটো একটা ছেলে ছিল, সে তো আমাদের রং মাখানোর জন্য খুবই আগ্রহী ছিল। সেই সাথে ইতিমধ্যে অনেক রং নিজেও মেখে ছিল। ছোট বাচ্চা যেহেতু রং মাখাতে চাইছিল তাই খুব সাগ্রহেই আমরা রং মেখেছিলাম।
এরপর দেখি সাজিয়ে গুছিয়ে প্লেটে করে আমাদের জন্য কচুরি, তরকারি ও মিষ্টি আনা হয়। কিন্তু আমি আর আমার বর যেহেতু কিছুক্ষণ আগেই পেট ভরে খেয়ে এসেছিলাম তাই আমাদের পক্ষে আবার খাওয়া একেবারেই সম্ভব ছিল না। আর সেই দিন সেখানে কোন খাবার আয়োজন ছিল সেটা আমার বর আমাকে আগে থেকে বলেইনি। তাহলে হয়তো প্রথমের নিমন্ত্রণটাতে পরে যেতাম। যাইহোক, আমরা না খেতে চাইলেও অল্প করে খেতেই হয়েছিল। কচুরি ,মিষ্টি শেষ করতে না করতেই দেখি ফিশ বল ও ফিশ ফিঙ্গার নিয়ে হাজির। সেই মুহূর্তে এত ভালো ভালো খাবার দেখেও একেবারেই খেতে মন চাইছিল না কারণ অলরেডি পেট ভরে গিয়েছিল। কিন্তু এত কষ্ট করে বানিয়েছিল তাই একটু টেস্ট করতেই হয়েছে। দুটো আইটেমই দারুন বানিয়েছিল।

খাওয়া-দাওয়া শেষে শুরু হল রং খেলা। ঘরের মধ্যে দিব্যি বসে আছে, এমন সময় দেখি সবাই রং নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা শুরু করল। যে বিষয়ে আমরা অবশ্য অবগত ছিলাম। আমরাও সঙ্গে করে রং নিয়ে গিয়েছিলাম। ঐখানে যাওয়ার আগে আমরা শুধুমাত্র আবির দিয়ে রং খেলেছিলাম। কিন্তু এখানে এরা সিলভার কালারের একটা রং ব্যবহার করছিল। সেটাই একে অপরকে মাখিয়ে দিচ্ছিল। মাখানো শেষে একে অপরকে ভূতের মত দেখতে লাগছিল। প্রথমদিকে তো আমি সকলের রঙ্গ তামাশা দেখছিলাম। তবে পরে সবাই মিলে আমার উপরেও চড়াও হয়েছিল।

এইভাবে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর, আবার শুরু হয় রং খেলার শেষ পর্ব। বাইরে উঠোনে বেরিয়ে সকলে মিলে আমরা দারুণ রং মাখামাখি করেছিলাম। আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে চিনতে পারছিলাম না। কি সাংঘাতিক যে রং রেখেছিলাম কি বলবো। রং মেখে সেই দিনটাকে স্মৃতির পাতায় ধরে রাখার জন্য আমরা বেশ কয়েকটা ফটোও তুলেছিলাম। রং মেখে, ফটো তুলে , গল্প করে সময় কাটানোর পর ফেরার আগে আবার ছিল খাবারের আয়োজন। দুপুরের মেনুতে ছিল, মটন কষা, সাদা ভাত, কাতলা ভাপা আরও কত কি। এত খাবার কি একদিনে খাওয়া যায়! তবুও সকলেই নাছোড়বান্দা। তাই অল্প করে খেতেই হয়েছিল।

খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমরা বাড়ি ফিরে এসেছিলাম। এভাবেই আমাদের এই বছরের রং দোলের দিনটি কেটেছিল।আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

