"বিভীষিকাময় রাত "
![]() |
|---|
চারপাশে মোটামুটি অনেক জায়গাতেই ডাকাতি হওয়ার ঘটনা শোনা যাচ্ছে। আমাদের বাড়ির পাশেই ওই দিন খুব বাজে একটা ঘটনা ঘটে গেল। লোকটা বিদেশ থেকে আসলো দুইদিন হয়নি তিন দিনের মাথায় ওদের ঘরের সমস্ত টাকা-পয়সা স্বর্ণ অলংকার সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেল। রাতে ঘর থেকে বের হওয়াটা অনেক বিপদজনক একটা বিষয় হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকদিন থেকেই চেষ্টা করছি রাতে ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য। কেননা রাত যখন গভীর হয়ে ওঠে তখনই কিন্তু ডাকাতের হামলা বেড়ে যায়। এখন তো নতুন পদ্ধতিতে ডাকাতি করা শুরু করেছে। ছোট বাচ্চার কান্নার আওয়াজ শোনা যায়, কোন মহিলা মানুষ এসে সাহায্য চাইতে থাকে।
এভাবেই কিন্তু বর্তমান সময় ডাকাতি হচ্ছে আমাদের এদিকে। প্রয়োজন ছাড়া রাতে ঘর থেকে বের হওয়াটা মোটেও পছন্দ করি না আমি আগে থেকেই। তবে গতকাল রাতে যে ঘটনাটা ঘটেছিল সেটা সত্যিই বিশ্বাস করার মত নয়। যেহেতু ননদের হাজব্যান্ড বাহির থেকে এসেছে উনাদেরকে দাওয়াত করতে হবে। তাই আগে থেকেই সবকিছু প্রস্তুতি নিয়েছিলাম এটা আমি আমার একটা পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম। গতকাল উনারা আমাদের বাসায় এসেছিলেন। সবাই মিলে অনেক বেশি আনন্দ করছি খাওয়া দাওয়া করেছিলাম সন্ধ্যার পরে। এরপরে আমার ভাগ্নিরা রাতে বারবার আমাকে অনুরোধ করছিল ছাদে যাওয়ার জন্য। আসলে প্রচন্ড পরিমাণে গরম পড়ছে কারেন্ট চলে যাওয়ার কারণে ঘুমও আসছে না।
আর আমার রুমে এত পরিমানে গরম লাগে যেটা বলে বোঝানো সম্ভব না। সবাই বাহিরে বসে গল্প করছে আমরা সবাই মিলে মোট পাঁচজন আমরা ছাদে চলে গেলাম গল্প করছিলাম। আমার শ্বশুরমশাই ঘরের পেছনের দরজা খুলে উনি বাহিরে গিয়েছিলেন উনার প্রাকৃতিক কাজের জন্য। তখন সময় রাত সাড়ে বারোটা হবে। শাশুড়ি ছোট ননদের জামাই ছোট ননদ মেজো ননদের জামাই সহ তারা সামনের দরজায় বসে গল্প করছে। যেহেতু কারেন্ট নেই তাই কারো চোখে ঘুম নেই। একটু পরেই আবার উঠতে হবে সেহরি খাওয়ার জন্য এতেও কিন্তু কারো কোন মাথাব্যথা নেই। সবাই চিন্তা করতেছে যদি ঘুম না আসে কারেন্ট না আসে, তাহলে এভাবেই সেহেরী খেয়ে তারপর ঘুমিয়ে পড়বে।
![]() |
|---|
আমার ভাগ্নিরা আমি আমার বড় ছেলে এবং আমার মেজ ননদ আমরা সবাই মিলে ছাদে গল্প করছি। হঠাৎ করেই আমরা দেখতে পেলাম আমাদের বাইরের বাথরুমের পাশে কিছু একটা লাইট জ্বলছে। আমি প্রথমে একবার দেখেছিলাম আমি ততটা গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু পরবর্তীতে যখন আমার মেজ ননদ দেখল। তখন সে আমাদের সবাইকে কথাটা বলল। এরপরে আমরা চুপ করে ছাদের উপর দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমার শশুর সম্ভবত ঘরে যখন প্রবেশ করেছিলেন, তখন উনি দরজার লক করতে ভুলে গিয়েছিলেন। উনি যেহেতু অসুস্থ মানুষ অনেক কিছুই উনার মনে থাকে না। লাইটের আলোটা একটু একটু করে আমাদের বাড়ির দিকে প্রবেশ করল। এরপর দেখলাম আমাদের ঘরের দিকে প্রবেশ করার জন্য এগিয়ে আসলো।
আমরা চুপ করে শুধুমাত্র ছাদের উপর থেকে বিষয়টা লক্ষ্য করছিলাম। হঠাৎ করেই লাইটের আলোটা বন্ধ হয়ে গেল। তারপর আমরা সবাই মিলে তাড়াতাড়ি করে ছাদ থেকে নিচে নেমে আসলাম। দরজা খোলা রয়েছে দেখতে পেলাম বুঝতে আর বাকি রইল না ঘরের ভেতরে নিশ্চয়ই প্রবেশ করেছে, কেউ তো আছে। সবার কাছে কিন্তু মোবাইল আমার মোবাইলটা আমার রুমে আর সবার মোবাইল সবার হাতে হাতে। আমার মনেই ছিল না যে আমার বালিশের পাশে আমার মোবাইলটা রাখা। হঠাৎ করে আমার বড় ছেলে রুমে প্রবেশ করল, তারপর ও আমার মোবাইলটা হাতে নিয়ে আবার বাহিরে বের হয়ে গেল। আমরা সামনের দরজায় বসেই গল্প করতে লাগলাম, পেছনের দরজা লক করে দিয়ে। তারপর হঠাৎ করে আমার বড় ছেলে বলে উঠলো ও ঘুমাতে যাবে।
![]() |
|---|
আমি বললাম ঠিক আছে তুমি রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো আমরা এখানেই আছি। কিন্তু ও রুমে আসার পর চিৎকার শুরু করে দিল। আমরা সবাই দৌড়ে এসে দেখি একটা লোক আমার রুমের ওয়ারড্রব এ ড্রয়ার এর তালা খোলার চেষ্টা করছে। তখনো কিন্তু কারেন্ট নেই মোবাইলের আলোতে যতটুকু দেখতে পাচ্ছি। সবাই মিলে লোকটাকে ধরার অনেক চেষ্টা করলাম, কিন্তু মুখে কালি মাখা শরীরের মধ্যে মনে হয় সম্ভবত প্রচুর পরিমাণে তেল মেখে রেখেছে ধরতে গিয়েও ধরতে পারলাম না। অনেক চেষ্টা করেও আমরা সবাই ব্যর্থ হয়ে গেলাম। হয়তোবা উনি আমার রুমে এসেছিল আমার মোবাইল বা সবার মোবাইল যেহেতু রয়েছে, মোটামুটি ভালই চুরি করতে পারত কিন্তু আমার সবাই সজাগ থাকার কারণে কিছুই করতে পারলো না। তবে গতকালকে বলবো আমার ছেলের কারণেই আমরা বুঝতে পেরেছি। তা নাহলে আমরা কখনোই বুঝতে পারতাম না। উনি আবার পেছনের দরজার লক খুলে বের হয়ে যেতে পারত।
মোটামুটি বলা যায় অনেকটা ভয়ের মধ্যে কালকে রাত কাটিয়েছিলাম। বর্তমান সময়ে গ্রামাঞ্চলে কিংবা শহরের প্রতিটা জায়গায় ডাকাতির পরিমাণটা অনেক বেড়ে গেছে। আমাদের সবাইকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। আমরা যদি সতর্ক থাকতে না পারি তাহলে কিন্তু যে কোন সময়ে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই সবাই সতর্ক থাকুন পাড়া-প্রতিবেশী সবার ফোন নাম্বার নিয়ে রাখুন। কেননা কোন বিপদ হলে অবশ্যই সবাইকে কল করতে পারবেন। কিন্তু আমাদের কালকে কারোর ফোন নাম্বার ছিল না। যার কারণে আমরা কারো কাছে কল করতে পারিনি। তবে একটু পরেই কিন্তু মসজিদের মাইকে এলান করে দেয়া হয়েছিল, এলাকার মধ্যে ডাকাত প্রবেশ করেছে। সবাই যেন সাবধান থাকে। অনেকটা ভয়ের মধ্যে কালকে রাত আমরা পার করলাম। যাইহোক সবাই সাবধানে থাকুন।



@tipu curate
Upvoted 👌 (Mana: 4/8) Get profit votes with @tipU :)
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য আপনাদের সাপোর্ট আমাদের জন্য নতুন করে কাজ করতে হচ্ছে এখন দিয়ে থাকে ভালো থাকবেন।
আপনার পোস্টটি পড়ছি আর আমার ভয়ে গাঁ কাঁটা দিয়ে উঠছে।এটা সত্যি,দেশে দিন দিন যে কি হতে চলেছে তা আমাদের ধারণার বাইরে চলে যাচ্ছে। আমরা সাধারণ মানুষ খুবই অসহায়। বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা এতটাই ভেঙে পড়ে যাচ্ছে যা বলার কোন উপায় নেই ।
আজ আমরা নিজের বাড়িতেও শান্তিতে থাকতে পারছি না, নিরাপদে থাকতে পারছি না ।সৃষ্টিকর্তা সেই চোরের হাত থেকে আপনার ছেলেকে রক্ষা করেছে ,এটাই অনেক ধন্যবাদ। এখনকার ডাকাত বা চোর বলুন ওরাও অনেক ভয়ানক হয় ।দেখা গেল, ওরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে আসে, তা দিয়ে যদি কোন ক্ষতি করে দিত ।এবারের মত আপনারা রক্ষা পেলেন। আমাদের সকলকেই সচেতন থাকতে হবে আর সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতে হবে, যেন সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায় ।এছাড়া আমাদের কিছুই করার নেই ।
আপনি একেবারেই ঠিক বলেছেন বর্তমান সময়ে দেশের অবস্থা মোটেও ভালো না সেটা শহরে হোক কিংবা গ্রামে আমার মনে হয় সরকার সঠিক না থাকার কারণে আইন ব্যবস্থা না থাকার কারণে বর্তমান সময়ের মানুষ নিজেরা নিজেদের মতো করে চলতে শুরু করেছে ডাকাতের পরিমাণটা যেমন বেড়ে গেছে ঠিক তেমনি দর্শন এগুলো যেন আরো অনেক বেড়ে গেছে মনে হয় অবশ্যই একজন সুস্থ সরকার নির্বাচন করা খুব প্রয়োজন আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ চমৎকার মন্তব্য করার জন্য ভালো থাকবেন।