"পাহাড় ছেড়ে বাড়িতে ফেরার অনুভূতি"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
মাঝখানের পাঁচটা দিন পেরিয়ে অবশেষে আজ বাড়িতে ফিরলাম। বাড়ি ফেরার আনন্দ যেমন আছে, ঠিক তেমনি পাহাড় ছেড়ে চলে আসার জন্য একটা খারাপ লাগার অনুভূতিও রয়েছে মনের ভিতরে।
আসলে পাহাড়ের প্রতি এই অদ্ভুত টানটা আমি প্রথমবার দার্জিলিং থেকে ফিরে এসেই অনুভব করেছিলাম। তারপর এই প্রথম গেলাম সিকিমে। কি যে অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা সেগুলো অবশ্যই পরবর্তী পোস্টগুলোতে ধীরে ধীরে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। পাশাপাশি ফটোর মাধ্যমে আপনাদেরকেও সেই সমস্ত জায়গায় ঘোরানোর চেষ্টা করবো।
![]()
|
|---|
তবে আজকের পোস্টে একেবারে শেষ দিনের অনুভূতি লিখতে চলেছি। আমাদের ঘোরার একেবারে অন্তিম দিন আমরা কাটিয়েছিলাম ঋষিখোলায়। এই জায়গাটার নাম হয়তো আপনারা অনেকেই শুনে থাকবেন। আমিও এই প্রথমবার গেলাম ঋষিখোলায়।
এমন সুন্দর পরিবেশ, এমন সুন্দর অভিজ্ঞতা এর পূর্বে কখনো হয়নি। হয়তো অনেক ভালো ভালো হোটেলে থেকেছি, সেখানের পরিবেশ উপভোগ করেছি। তবে ঋষিখোলার পরিবেশ একেবারেই আলাদা ছিলো। পাশ দিয়ে বয়ে চলা ঋষি নদীর জলের আওয়াজ যেন এখনও শুনতে পারছি।
শেষ দিন ঋষি খোলা থেকেই আমরা নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। কারণ সেখান থেকে ছিলো আমাদের বাড়ি ফেরার ট্রেন। ট্রেনের সময় ছিল সন্ধ্যা ছটায়। আমরা ঋষি খোলা থাকে সকাল ১১টা নাগাদ গাড়িতে করে রওনা দিয়েছিলাম। রাস্তায় দুই একবার দাঁড়ানো হয়েছিলো, তবে শিলিগুড়ি পার করতেই এতো জোরে বৃষ্টি শুরু হল যে, আমরা প্রায় অবাক।
![]()
|
|---|
সত্যিই পাহাড়ের মর্জি বোঝা বড় দায়। কারণ তার কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত এতো রোদ্দুর ছিলো যে, বাইরে ভালো করে তাকানো পর্যন্ত যাচ্ছিলো না। তবে মুহূর্তের মধ্যেই পাহাড়ের রূপ বদলে গেলো। শুরু হলো অঝোরে বৃষ্টি। তবে গাড়ি ছুটেছিলো তারা নিজস্ব গতিতে। কারণ ড্রাইভার দাদা আমাদেরকে জলপাইগুড়ি স্টেশনে নামিয়ে, আরও অন্য পর্যটকদের নিয়ে যাবেন।
![]()
|
|---|
তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওনার আমাদেরকে পৌঁছে দিতেই হতো। যাইহোক এই দিন ছিলো ড্রাইভার দাদার সাথে আমাদের শেষ কথোপকথন। তাই গাড়ির মধ্যে বসে বেশ কিছুক্ষণ ওনার সাথেই গল্প হলো। এতোদিন উনি আমাদের সাথে ছিলেন। নর্থ সিকিম থেকে শুরু করে ওয়েস্ট সিকিম পর্যন্ত সমস্ত জায়গাতে উনিই ছিলেন আমাদের যাত্রাসঙ্গী।
ওনরা গাড়ি চালাতে এতো বেশি দক্ষ হন যে পাহাড়ি রাস্তার বাঁকগুলো দেখলে আমরা সাধারণত ভয়ে শিউরে উঠি। কিন্তু ওনরা কি সুন্দর ভাবে সেই রাস্তায় গাড়ি চালান। পাহাড়ে চারিদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ চোখে পড়ে। তার মধ্যে দিয়ে একে বেঁকে চলা রাস্তা গুলো দিয়ে ছুটে চলা গাড়ি গুলোর মধ্যে, বোধহয় আমাদের মতন বহু পর্যটক এই সুন্দর প্রকৃতি উপভোগ করতে করতেই নিজেদের যাত্রা শুরু করে কিংবা শেষ করে।
![]()
|
|---|
শিলিগুড়ি পার করে যখন আমরা আবার সেবকের রাস্তা ধরলাম, তখন দেখলাম রাস্তার দুই ধারে কি অপূর্ব সুন্দর ফুল গাছ রয়েছে। যেদিন আমরা এই রাস্তা ধরে প্রথমবার গিয়েছিলাম, সেদিন ভোর রাতের অন্ধকার ছিলো, তাই হয়তো রাস্তার দুপাশের সবুজ গাছপালা চোখে পড়লেও, ফুলগুলোর রং ভালোভাবে বুঝতে পারিনি।
![]()
|
|---|
তবে এদিন ফেরার সময় সেবকের রাস্তার দুপাশে এই ফুলগুলো প্রত্যেকের নজর কেড়েছে। গাড়ির মধ্যে থেকে দুই একটা ফটো তোলার চেষ্টা করেছি, আশাকরছি আপনারা ছবি দেখে ফুলটির রং বুঝতে পারছেন।
ঘন্টা পাঁচেকের রাস্তা অতিক্রম করে আমরা সাড়ে চারটে নাগাদ এনজিপি স্টেশনে পৌঁছে গিয়েছিলাম। আমাদের গাড়ির সময় ছিলো ছটায়। তবে ট্রেন সাড়ে পাঁচটা নাগাদ প্লাটফর্মে দিয়ে দেয়, যাতে সকলে নিজেদের সিটগুলো দেখে নিয়ে ভালোভাবে বসতে পারে, তাই আধঘন্টা সময় এখানে দাঁড়ায়।
![]()
|
|---|
যাইহোক আমরা নিজেদের প্রয়োজনীয় খাবার কিনে নিলাম। তারপর প্রয়োজনীয় জল নিয়ে, ফ্রেশ হয়ে একেবারে ৬ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে অপেক্ষা করলাম আমাদের ট্রেন সেখানে আসার কথা ছিলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রেন দিয়েছিলো, আমরাও নিজেদের মতো করে ধীরে ধীরে নিজেদের সিটে বসে পরেছিলাম।
মন খারাপ সেই মুহূর্তে আরও তীব্র হতে শুরু করেছে, কারণ কিছুক্ষণের মধ্যেই এনজিপি ছেড়ে আমাদের ট্রেন রওনা করবে কলকাতার উদ্দেশ্যে। ভাগ্যিস রাতের দিকে ট্রেন ছিলো। দিনের বেলায় হলে গরমে আরো বেশি কষ্ট পেতাম, কারণ তার একদিন আগে পর্যন্ত আমরা রীতিমতো সোয়েটার গায়ে দিয়ে, রাতে কম্বল নিয়ে শুয়েছিলাম, এতোটাই ঠান্ডা ছিলো গ্যাংটকে।
![]()
|
|---|
তবে কলকাতায় গরম যে এতটা তীব্র হবে সেই সম্পর্কে আগে থেকেই আলোচনা হয়েছিলো নিজেদের মধ্যে। যাইহোক কিছুক্ষণের মধ্যে ট্রেন ছাড়তে শুরু করল আমরাও ঘোরার অভিজ্ঞতা নিয়ে, পরবর্তীতে কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায়, এই সমস্ত বিষয়ে গল্প করতে করতে দেখলাম মালদায় পৌঁছে গিয়েছি। মালদায় আমার দাদাদের বাড়ি সে কথা আগেও আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। তবে মালদা টাউন থেকে ওদের বাড়ি আরো দু-একটা স্টেশন পরে। আমাদের ট্রেনটা মালদা টাউন হয়েই কলকাতায় চলে আসবে।
একথা শুনে দাদা ও বৌদি আমাকে মালদাতে নেমে পড়তে বলছিলো। ইচ্ছা যে একেবারেই করছিলো না, একথা বলবো না। তবে বাড়ির প্রতি একটা দায়বদ্ধতা থাকে। তাই এবার আর মালদায় যাওয়া হলো না। তাছাড়া কয়েকদিন বাদে বৌদি আর দাদার ছেলে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসার কথা রয়েছে, তাই ওরা এলে সেই সময় ওদের সাথে দেখা হয়ে যাবে।
যাইহোক এই রকম ভাবে কিছুটা সময় পার হলে রাতের খাবারের সময় হলো। বাকি সকলে খেয়ে নিলো আমি রাত্রে শুধু একটা আপেল ও কলা খেয়েছিলাম, কারণ আমার একাদশীর উপবাস ছিলো। তাই বাইরের কোনো জিনিস গতকাল আমার আর খাওয়া হয়নি।
![]()
|
|---|
এরপর সকলে নিজেদের মতো শুয়ে পড়েছিলো। আমিও যথেষ্ট ক্লান্ত ছিলাম, তাছাড়া ট্রেনের মধ্যে নেটওয়ার্কও খুব একটা ভালো ছিলো না বলে, কখন যেন আমিও ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতে পারিনি। হঠাৎ করে প্রবল বৃষ্টির আওয়াজে ঘুম ভাঙলো।কোন প্লাটফর্মে ছিলাম সেটা বুঝতে পারিনি, তবে ভীষণ জোরে বৃষ্টি হলো বেশ কিছুক্ষণ। বৃষ্টির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের ট্রেনে ছুটেছিলো।
শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিলো ৫.০৬ মিনিটে। তবে যখন শিয়ালদহে ট্রেন এসে পৌঁছালো, তখন ৪.৪১ মিনিট। সময়ের বেশ কিছুটা আগেই পৌঁছে দিয়েছে। প্লাটফর্মে নেমে আবার লাগেজ নিয়ে সোজা লোকাল ট্রেনের দিকে এগিয়ে গেলাম। সেখানে আবার লোকাল ট্রেনের টিকিট কেটে অপেক্ষা করতে হলো ৪৫ মিনিট মতন।সকালে বনগাঁর দিকে ট্রেন বেশ কিছুটা লেটে লেটেই ছাড়ে। তাই সকলে মিলে প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে লোকাল ট্রেনে চেপে ফিরলাম বাড়িতে।
![]()
|
|---|
বাড়িতে শাশুড়ি মা, শুভ তখনও ঘুমাচ্ছিলো। কলিং বেল বাজানোর পর শাশুড়ি মা উঠে দরজা খুলে দিলেন। সবার প্রথমে আমি উপরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে স্নান করে পারণ শেষ করলাম, যেহেতু একাদশীর উপবাস ছিলো। তারপর এক এক করে ঘরের কাজ শেষ করলাম।
ছাদে গিয়েই চোখ পরল আমাদের টাইম ফুলগাছগুলোর দিকে। তখনও হয়তো অতটা ভালোভাবে ফোঁটেনি। কারণ সকালের রোদ্দুর তখনো ভালোভাবে পড়েনি ফুল গুলোর উপরে।
ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।









