"সর্ষে ক্ষেতে বান্ধবীদের সাথে সময় কাটানো কিছু সুন্দর মুহূর্তের গল্প "

in Incredible India27 days ago
IMG_20260122_182056.jpg
"আমরা তিনজন"

Hello,

Everyone,

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে। আমার দিনটি আজ বেশ ব্যস্ততার মাঝে কেটেছে।

তার উপর আমার শরীরটা খুব একটা ভালো নেই। মাঝখানে যখন খুব ঠান্ডা পড়েছিলো, তখন শীতে কষ্ট পেলেও, অন্তত সর্দি কাশিতে কষ্ট পাইনি। তবে গত কয়েকদিন ঠান্ডা একটু কমতে শুরু করেছে, অর্থাৎ দুপুর বেলাতে আবহাওয়া যথেষ্ট গরম থাকে, কিন্তু সন্ধ্যাবেলা এবং ভোরের দিকে আবার শীত অনুভূত হয়। সুতরাং এই দুই মিলে গতকাল থেকেই নাক বন্ধ, গলা ও সারা শরীর ব্যথা, এবং কাশি শুরু হয়েছে।

1769088842882.jpg
"গতবছর প্রাইমারি স্কুলের সরস্বতী পুজো"
1769088842865.jpg
"সরস্বতী পুজোর দিন আমি ও রাখি"

তার উপর আবার আজকে আমাদেরকে কল্যাণী যেতে হবে। কারণ শুভর বোনের বিয়ে আছে আগামীকাল অর্থাৎ সরস্বতী পুজোর দিন। যদি এই বিয়েতে যোগদান করতে না হতো, তাহলে সরস্বতী পুজোর দিন আমি, রাখি এবং পিয়ালী মিলে হয়তো আমাদের স্কুলের সরস্বতী পূজায় একসাথে অঞ্জলি দিতাম।

1769088842845.jpg
"আমরা চারজন-পিয়ালি,সঙ্গীতা,রাখী ও‌ আমি"

তবে তেমনটা আর এই বছর হচ্ছে না। কিন্তু গত বছর এই সরস্বতী পূজার দিনটিতে ছোটো বেলার দিনগুলো ফিরে পেয়েছিলাম প্রাইমারি স্কুলে অঞ্জলি দিতে গিয়ে।

যাইহোক আমার আগের পোস্টে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম পিয়ালীকে আইবুড়ো ভাত খাওয়ানোর গল্প। সকাল থেকে তাড়াহুড়ো করে আমি সেখানে গিয়ে পৌঁছেছিলাম এবং সমস্ত কিছু আয়োজন করা হয়েছিলো। আর সবশেষে আমরা একসাথে খাওয়া দাওয়া শেষ করার পর, তিনজন মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম একসাথে সরষে ক্ষেতে যাবো।

IMG_20260122_181951.jpg
"ক্ষুদ্র হলেও সরষে ফুলের সৌন্দর্য্য কিন্তু অতুলনীয়"

কারণ একথা আপনারা সকলেই জানেন যে, সরষে ক্ষেতে শীতকালে সকলেই ছবি তুলতে পছন্দ করে। সূর্য প্রায় অস্ত যাওয়ার সময় হয়ে এসেছিলো, তাই খুব বেশি দেরি না করে তাড়াহুড়ো করেই পৌঁছে গিয়েছিলাম সর্ষে ক্ষেতে।

IMG_20260122_182124.jpg
"আমাদের‌‌ একই ধরনের কূর্তি(পিয়ালির তরফ থেকে আমাদের জন্মদিনের উপহার)"

একটা জিনিস হয়তো আপনারা ছবি দেখলে খেয়াল করবেন, আমাদের সকলের কুর্তিটা প্রায় একই রকমের। আসলে প্রথমে পিয়ালী নিজের কুর্তিটা কিনেছিলো। আর পরে আমাকে ও রাখিকে জন্মদিনে গিফট করেছিলো। যেহেতু একই মাসে আমাদের জন্মদিন। ও বলেছিল তিনজনে মিলে একসাথে এই কূর্তি পরে কোথাও একটা ঘুরতে যাবো।

এরমধ্যে সেটা সম্ভব না হলেও এই দিনে ও ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল যাতে আমরা দুজনে ওর দেওয়া কূর্তিটা পরি। তাই আমরাও আর ওর ইচ্ছে পূরণ না করে পারিনি। যাইহোক সেখানে গিয়ে বিভিন্ন পোজে আমরা ছবি তুললাম। সরষে ক্ষেত দেখলে এমনিতেই মন ভালো হয়ে যায়।

IMG_20260122_181913.jpg

একটা সময় ছিলো যখন স্কুল থেকে ফিরে প্রতিদিন বিকেলে এই সরষে ক্ষেতে যেতাম। তবে আজ এগুলো সবই স্মৃতি। এখন প্রতি বছর সর্ষে ক্ষেত দেখার বা সেখানে গিয়ে ছবি তোলা সৌভাগ্য হয়, একথাও বলতে পারছি না।

রাখির ও পিয়ালীর দুটো আলাদা আলাদা ইউটিউব চ্যানেলেও আছে। ওরা সেখানে মাঝেমধ্যে ছোট রিলস্ ও নিজেদের জীবনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে। পিয়ালীর ইচ্ছা ওর বিয়েতেও আমরা বান্ধবীরা মিলে ছোট ছোট কিছু ভিডিও তৈরি করবো, যেগুলো ও আপলোড করবে স্মৃতি হিসেবে।

IMG_20260122_182018.jpg

যদিও আমি ছবি বা ভিডিও কোনোটাতেই কম্ফোর্টেবল ফিল করি না। কিন্তু কখনো কখনো কারো কারো আবদার ফেলে দেওয়া যায় না। তাই খানিক অনিচ্ছাসত্ত্বেও, বলতে পারেন বান্ধবীর ইচ্ছায় সায় দিয়েছিলাম।

যাইহোক এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলে রাখি যে, যেসকল জমিতে এই সরষে চাষ হয়েছে, আজ থেকে কয়েক মাস আগে সেখানেই অনেকটা জল ছিলো। নৌকা চালিয়েযাতায়াত করতে হচ্ছিলো। এমনকি আমি নিজেও সেই সময় গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কারণে নৌকায় চড়েছিলামরাখি এবং পিয়ালীর সাথেই। তার প্রশ্ন আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি যারা কর্মী তাদের জন্য আরো একবার শেয়ার করলাম যাতে আপনারা এই পোস্টটি পড়ার মাঝে কয়েক মাস আগেই এই সরষে ক্ষেতের অবস্থা কি ছিল সেটাও দেখে নিতে পারেন।

IMG_20260122_182038.jpg

সরষে ক্ষেতে যাওয়ার সময় সেই কথাই ওদেরকে বলছিলাম যে, কয়েক মাস আগে এই জমিতে নৌকা চড়লাম, আজ পায়ে হেঁটে শক্ত মাটির উপর দিয়ে যাচ্ছি। প্রকৃতির কি অপূর্ব পরিবর্তন তাই না? কয়েক মাস আগে যেখানে সকলে মাছ ধরছিলো, আজ সেখানকার সমস্ত জল শুকিয়ে রীতিমতো মাটিতে ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে।

যাইহোক ওদের সাথে সন্ধ্যাটা দারুণ কেটেছে। আশা করি ছবি দেখেই বুঝতে পারছেন। এরপর আমার বাড়ি ফেরার সময় হয়েছিলো। ইচ্ছে করছিল না ওদেরকে ছেড়ে আসতে। মনে হচ্ছিলো ওই দিনটা থেকে গেলে আরও ভালো মুহূর্ত কাটানো সম্ভব হতো।

IMG_20260122_181846.jpg

কিন্তু জীবন আপনাকে সব সময় নিজের মতো করে সময় উপভোগ করার সুযোগ দেয় না। কিছু দায়িত্ব কর্তব্য পালন করতে বাধ্য করে। তাই ওদের বিদায় জানিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছিলাম।

ওইদিনের তোলা কিছু ছবি আমি আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। কিছু ছবি আমার নিজের ফোনে তোলা, আবার কিছু ছবি ওদের দুজনের ফোনে তোলা যেগুলো আমি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিয়ে, ক্রপ করে করে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। ছবিগুলো দেখে আপনাদের কেমন লাগলো, অবশ্যই জানাবেন। ভালো থাকবেন সকলে।

Sort:  
Loading...

¡Congratulations!
We support quality posts, good comments anywhere and any tags.


1000435518.png

Curated By: @vivigibelis
 26 days ago 

Thank you for your support @vivigibelis. 🙏