কলকাতা সফরের শেষ গন্তব্য ছিলো- "কলকাতার বিখ্যাত ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন।
গত কয়েকটি পোস্টে আমি আপনাদের সাথে শীতকালে কলকাতার সৌন্দর্য্য উপভোগের সফর শেয়ার করেছিলাম। যেখানে প্রথম পর্বে দিদির হাজব্যান্ডকে ডাক্তার দেখানো দিয়ে শুরু হওয়ার পর, প্রথমে ভিক্টোরিয়া দর্শন, তারপর বিড়লা প্লানেটরিয়াম ঘুরে, তিতলি ও তাতানের পছন্দের রেস্টুরেন্ট চাইনিজ ওক্ এ লাঞ্চ সারার প্রতিটি মুহূর্ত শেয়ার করেছি।
আজকের এই পোস্টে একেবারে অন্তিম পর্ব অর্থাৎ "ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম বা যাদুঘর" পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে উপস্থিত হলাম। আশাকরি আপনাদের আজকের পোস্টটি পড়েও ভালো লাগবে।
|
|---|
কলকাতার এতো কাছে থেকেও এতোগুলো বছরে যে সকল জায়গাগুলো পরিদর্শনের সুযোগ হয়নি, তার মধ্যে অন্যতম ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম। সত্যি কথা বলতে এক দিনের মধ্যে এতোগুলো জায়গা ঘুরে দেখা প্রায় অসম্ভব। তবে দিদি এই তিনটে জায়গা সিলেক্ট করেছিলো, কারণ এই প্রতিটি জায়গা বেশ কাছাকাছি।
তাই একই দিনে যদি এই তিনটে জায়গা দেখানো হয়ে যায়, তাহলে আর আলাদা করে ছুটির প্রয়োজন হয় না। যেহেতু খুব সকালে ডক্টরের কাছে অ্যাপোয়েন্টমেন্ট ছিলো, তাই সম্পূর্ণ দিনে আমরা এই তিনটে জায়গা কভার করতে পেরেছিলাম।
|
|---|
কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম (ভারতীয় জাদুঘর) ভারতবর্ষের প্রাচীন ও বৃহত্তম জাদুঘর। যেটা ১৮১৪ সালে স্যার উইলিয়াম জোন্স দ্বারা, এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গলের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
পরবর্তীতে এটি ১৮৭৮ সালে চৌরঙ্গী রোডে (বর্তমান জওহরলাল নেহেরু রোড) স্থানান্তরিত করা হয়। এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম এবং বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন জাদুঘর হিসেবে এটি ভারত ও বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক বিশাল ভান্ডার।
|
|---|
তবে সত্যি কথা বলতে মিউজিয়ামে আরও অনেকটা সময় নিয়ে ঘুরে দেখার প্রয়োজন ছিলো। আমরা মিউজিয়ামে পৌঁছেছিলাম প্রায় সাড়ে তিনটের পর। সোমবার মিউজিয়াম বন্ধ থাকে। সপ্তাহের অন্যান্য দিন সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যে ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এতো বড় জায়গা এতোটুকু সময়ের মধ্যে ঘুরে দেখা আসলেই সম্ভব ছিলো না।
|
|---|
মিউজিয়ামের ভিতরে ছবি তোলা নিষিদ্ধ নয়, তবে তার জন্য আপনাকে আলাদা করে পারমিশন করাতে হবে। আমাদের কাছে সেদিন খুব একটা সময় ছিলো না। তাই নরমাল টিকিট কেটেই আমরা ভিতরে ঢুকে গিয়েছিলাম। ফোনটা আমাদের কাছেই ছিলো, আলাদা করে ফোন রেখে যাওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। তবে সব জায়গাতে মোটামুটি গার্ড ছিলো, তাই সব জায়গার ছবি তোলা অসম্ভব ছিলো।
|
|---|
পরবর্তীতে বেশ কয়েকজনকে দেখলাম যে জায়গা গুলিতে চোখের আড়ালে কিছু ছবি তোলা সম্ভব হয়েছিলো, সেখানে সকলেই কমবেশি ছবি তুলছে। তাই আমিও কিছু কিছু ছবি তুলেছিলাম। তবে কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে ছবি তোলা মানা নয়।
সেই জায়গা গুলোতে দাঁড়িয়ে কিছু স্মৃতিকে ক্যামেরাবন্দি করেছিলাম। বিশেষ করে তিতলি ও তাতানের জন্য ছবিগুলো তুলেছি, কারণ জীবনে প্রথমবার কলকাতার বিখ্যাত স্থান গুলি পরিদর্শনের স্মৃতি ওদের কাছেও থেকে যাক, এটা আমি চাইছিলাম।
|
|---|
বিশাল আকার বিল্ডিং এর বড় বড় ঘরে, আলাদা আলাদা ভাবে বিভিন্ন জিনিস রাখা ছিলো। সেটা মমি থেকে শুরু করে জীবাশ্ম, কঙ্কাল, বিভিন্ন ধরনের মৃত মাছ, বাঘ, শেয়াল, হরিণ, কুমির, কচ্ছপ, পাখি, হাতি, বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী, আরও অন্যান্য অনেক কিছু।
সব জিনিস এতো সুন্দর ভাবে সাজিয়ে রাখা আছে যে সেগুলো এতো কম সময়ে দেখে খুশি হওয়া সম্ভব ছিলো না। প্রত্যেকটি তথ্য যদি নিজেকে পড়ে নিতে হয়, তাহলে তার জন্য অনেকটা সময় নিয়ে যেতে হবে। কারণ সেখানে শুধুমাত্র যে এই সকল জিনিস সংরক্ষণ করা হয়েছে তা নয়, প্রতিটি জিনিসের ইতিহাসও সেখানে বর্ণিত আছে।
|
|---|
তাই অনেকটা সময় নিয়ে সেগুলোকে পড়লে ভারতীয় ইতিহাসের অনেক তথ্যই সেখান থেকে জানা সম্ভব। তবে যেহেতু আমরা সবশেষে এই মিউজিয়ামে গিয়েছিলাম, তাই সম্পূর্ণটাকে সুন্দরভাবে দেখার সময় ছিলো না। তিতলি তাতান ছুটে ছুটে সবকিছু আনন্দের সহিত দেখছিলো। ফলতো ওদেরকে সামলাতে গিয়ে আমাদের আর আলাদাভাবে সেই সকল তথ্যগুলো পড়ার সুযোগ হয়নি।
|
|---|
তবে সম্পূর্ণ জায়গা ঘুরে দেখার পর ঠিক করলাম একদিন আমি এবং দিদি শুধুমাত্র এই ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামটাই দেখতে আসবো। সেদিন আমাদের সাথে আর কেউ থাকবে না এবং অনেকটা সময় আমরা হাতে পাবো, সেদিন এই সম্পূর্ণ জায়গাটা ঘুরে, প্রতিটি জিনিস পড়ে, তা উপভোগ করতে পারবো। কারণ এই সকল জিনিস এতো মূল্যবান যে, সবকিছু ঘুরে দেখানো সৌভাগ্যের বিষয়।
যাইহোক সারাটা দিন হয়তো আমরা অনেক জায়গাতেই ঘুরেছি, তবে তাতান এবং তিতলি সবথেকে বেশি মজা পেয়েছিল এই মিউজিয়ামে এসেই। বিশেষ করে বড় বড় কঙ্কাল গুলো দেখে ওরা অনেক বেশি আনন্দ পেয়েছে। সন্ধ্যা প্রায় নেমে আসছিলো এবং মিউজিয়ামও প্রায় বন্ধ হওয়ার সময় চলে এসেছিলো, যার কারণে আমরা তাড়াতাড়ি উপর থেকে নিচে এসে আরও কিছু ছবি তুলে নিয়েছিলাম।
|
|---|
অনেকক্ষণ ধরে হাঁটাহাঁটি করে ক্লান্ত হয়ে যাওয়াতে, পাশের একটা কাঠের চেয়ারে বসেছিলাম। ঠিক উল্টো দিকে চোখ পরতেই দেখলাম আরও একজন সদস্য কাঠের চেয়ারের অন্য প্রান্তে বসে আছেন। তিনিও বোধহয় জাদুঘর দেখতেই এসেছেন। যাইহোক ফেরার ঠিক আগের মুহূর্তে এমন একজন সদস্যের সঙ্গে দেখা হওয়াতে ভালোই লাগলো।
সম্পূর্ণ দিনটা আমরা খুবই উপভোগ করেছি, তবে বাড়ি ফেরার পথে যথেষ্ট ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। সারাদিন হেঁটে কলকাতা দর্শন করা কিন্তু নেহাৎ কম কষ্টের নয়।
|
|---|
তবে কি জানেন তো, কলকাতার এক আলাদা সৌন্দর্য্য আছে, আলাদা পজিটিভিটি আছে, যা আপনাকে ক্লান্ত হতে দেবে না। কারণ প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন নতুন সৌন্দর্য্য চোখে পরবে আপনার।
সেটা কলকাতার ফুটপাতে দোকানের ভিড় থেকে শুরু করে, রাস্তায় চলা অসংখ্য গাড়ির শব্দ হোক। কিংবা রাস্তার পাশের ছোট্ট ছোট্ট চায়ের দোকানে কিছু মানুষের ভিড় থেকে শুরু করে, মেট্রো স্টেশনের দিকে ছুটে চলা মানুষের ভিড় হোক, সবটারই আলাদা সৌন্দর্য্য রয়েছে।
তাই এইসব জিনিস গুলোকে উপভোগ করার জন্য যা প্রয়োজন তাহলো- একটা সুন্দর দিন, ভালো সঙ্গী, আর কলকাতাকে ভালোবাসার অনুভূতি। এই সমস্ত কিছু মিলিয়ে এক অসামান্য দিন কাটিয়েছিলাম, যার প্রতিটি মুহূর্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। আর আজ এই পোস্টের মাধ্যমে সেইদিন কলকাতা শহর দর্শনের ইতি টানলাম।
ভালো থাকবেন সকলে। ভালো কাটুক আপনাদের সারাটা দিন।































Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟