"নতুন জীবনের শুরুর প্রথম পর্ব - আইবুড়ো ভাত"

in Incredible India17 hours ago
IMG_20260120_002613.jpg
"পিয়ালীর বিয়ের প্রথম পর্বের আয়োজন"

Hello,

Everyone,

"বিয়ে" এই দুটি অক্ষরের শব্দটি শুধুমাত্র দুটো মানুষের জীবনকে নয়, বরং সম্পর্কে আবদ্ধ করে দুটো পরিবারকেও। অনেক মতানৈক্যতা, ভালোলাগা, মন্দলাগা, সমস্ত কিছু নিয়ে গড়ে ওঠে একটি "সংসার"। তাই তো প্রতিটি মানুষ নিজেদের জীবনের এই বিশেষ দিনটিকে, আরও বিশেষ করে তোলার পরিকল্পনা করে চলেন অবিরাম।

তবে আজকালকার জেনারেশনের কাছে বিয়ে জিনিসটার তেমন কোনো মূল্য নেই ঠিকই, তবে যদি আমরা পুরনো দিনের কথা ভাবি, তাহলে বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে তখনকার দিনের মেয়েদের জীবনযাপন আমাদের মনে ভয়ের অনুভূতি জাগায়।

কারণ সেই সময় "বাল্যবিবাহ" একটা মেয়ের জীবনে কি কি পরিবর্তন আনতো, আর "সতীদাহ প্রথার" মাধ্যমে সেই ছোট্ট মেয়েটির জীবনের কি পরিণাম হতো, তা কমবেশি আমরা সকলেই ইতিহাসের পাতায় পড়েছি। যুগের উন্নতির সাথে সাথে সবটাই পরিবর্তন হয়েছে। পাশাপাশি "বিয়ে", "সংসার" ও "পরিবার" এই সমস্ত কিছু সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, তৎকালীন সময়ের থেকে একেবারেই বিপরীতমুখী হয়েছে।

তৎসত্ত্বেও বিয়ে নিয়ে আমাদের সকলেরই কিছু পরিকল্পনা মনের কোনো কোণায় থেকেই যায়। বিশেষ করে মেয়েদের। যেহেতু আমি একটা মেয়ে, তাই মেয়েদের অনুভূতি সম্পর্কেই স্পষ্ট ধারণা দেওয়া সম্ভব।

IMG_20260120_002510.jpg
"পিয়ালী: কয়েকদিন বাদেই যার‌ বিয়ে"

যাইহোক উপরের এতোগুলো কথা বললাম, কারণ আজ আমার বান্ধবী পিয়ালীর আইবুড়ো ভাত সুসম্পন্ন হলো। আয়োজনটা আমি এবং রাখি দুজনে মিলেই করেছিলাম। আমার দার্জিলিং এ ঘোরার পোস্ট যারা পড়েছেন, তারা এই দুটো নামের সাথে আশাকরি পরিচিত।

যাইহোক পরের মাসে পিয়ালীর বিয়ে, আর এই মাসে আমার মামা শশুরের মেয়ের বিয়ে রয়েছে। সেখানে ব্যস্ততার কারণে এর পরে আর সময় দিতে পারবো না বলে, আজকেই রাখিদের বাড়িতে ওর আইবুড়ো ভাতের আয়োজন করা হয়েছিলো।

IMG_20260120_002856.jpg
"দত্তপুকুর ‌স্টেশনে তোলা ছবি"
IMG_20260120_111818.jpg
"মছলন্দপুর নামার পর তোলা ছবি"

ইচ্ছে ছিলো খুব সকাল সকাল যাবার, তবে সব সময় ইচ্ছে থাকলেও উপায় হয় না। তার উপরে আজ আবার ট্রেনের গন্ডগোল ছিলো। সকালের দিকের কাজ মোটামুটি গুছিয়ে নিয়ে স্টেশনে পৌঁছে টিকিট কাটছি, তখনই দেখলাম একটা ট্রেন বেরিয়ে গেলো। এরপরে অপেক্ষা করতে হলো প্রায় ৫০ মিনিট।

ফোনে রাখীর সাথে কথা বলে জানতে পারলাম ও কাজ মোটামুটি গুছিয়ে নিয়েছে, শুধু কিছু জিনিস আমাকে কিনে নিয়ে যেতে বলেছিলো। সেগুলো জেনে নিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর, ট্রেন এলো।

IMG_20260120_131545.jpg
"চিলি চিকেনের প্রস্তুতি চলছে"
IMG_20260120_132700.jpg
"পকোরা ভাজার মুহূর্ত"
IMG_20260120_141824.jpg
"চিকেন কষা"
IMG_20260120_131552.jpg
"বাকি জিনিস গোছানো চলছে তখন"

স্টেশনে নেমে সেখান থেকে সমস্ত কিছু কিনে নিয়ে রাখিদের বাড়ি পৌঁছে দেখি, রান্না প্রায় শেষের দিকে। শুধু মাংস আর চিলি চিকেন বাকি ছিলো, তাই দেরি না করে রাখির সাথে রান্নার কাজে হাত লাগালাম। একদিকে চিলি চিকেন তৈরি হলো, আর অন্যদিকে রাখি চিকেন কষা বসিয়ে দিয়েছিলো।

আগে যা যা রান্না হয়েছিলো সেই সমস্ত কিছুই আলাদাভাবে তুলে রাখা হয়েছিলো। রাখি অনেক কিছুই আয়োজন করেছিলো, সবকিছু মিলিয়ে ওর আইবুড়ো ভাতের মেনু কি কি ছিলো, সেটা একবার আপনাদের সাথে শেয়ার করি, -

"পিয়ালীর আইবুড়ো ভাতের আয়োজনের মেনু"

নংখাবারের মেনুছবি
১.ফ্রায়েড রাইস ও পাঁচ রকম ভাজাIMG_20260120_153456.jpg
২.ভেজ ডালIMG_20260120_153511.jpg
৩.রুই মাছের ঝোলIMG_20260120_153515.jpg
৪.চিলি চিকেনIMG_20260120_153520.jpg
৫.চিকেন কষাIMG_20260120_153525.jpg
৬.চাটনি ও পাঁপড়IMG_20260120_153501.jpg
৭.মিষ্টি ও দইIMG_20260120_153530.jpg
৮.পেস্ট্রি, কোলড্রিংসIMG_20260120_153536.jpg
৯.স্যালাডIMG_20260120_153505.jpg

আমাদের রান্না প্রায় শেষের মুখে, তখনই পিয়ালী চলে এলো। বেশ কিছুক্ষণ কথা হলো বিয়ের সমস্ত কিছু নিয়ে। কিছু পরিকল্পনাও হলো। তারপর এলো ওকে খেতে দেওয়ার বিষয়। সমস্ত আয়োজনটা আমি রাখি এবং পাশের বাড়ির একটা বোন মিলেই করেছিলাম।

IMG_20260120_002626.jpg
"এই‌ বোনটির নাম শ্রীতমা,‌আজ‌ অনেক সাহায্য করেছে আমাদের"

খুব সুন্দরভাবে খাবারের প্লেটগুলো সাজিয়ে দেওয়ার পর, গাঁদা ফুলের পাপড়িগুলো ছড়িয়ে নিয়ে খুব সুন্দর ভাবে ডেকোরেট করা হয়েছিলো। তার সাথে গোলাপের পাপড়িও দেওয়া হয়েছিলো। এরপর এলো ফটো তোলার পালা। তাই এক এক করে সকলেই কম বেশি ছবি, ভিডিও তুলে নিয়েছিলাম।

IMG_20260120_004551.jpg
"রাখীর মা মারা গেছেন, তাই ওর বাবাকে দিয়েই আর্শীবাদ পর্ব সারা হলো"
IMG_20260120_004640.jpg
"আমরা তিনজন- আজীবনের স্মৃতি"

এই স্মৃতিগুলোই তো আসলে থেকে যাবে। পরিবর্তন প্রত্যেকের জীবনেই আসবে, বন্ধুত্বের রং বদলাবে, তবে যা থেকে যাবে তা হলো এই সুন্দর স্মৃতিগুলো। যাইহোক পিয়ালীর জীবনের নতুন পথ চলার এটা শুভারম্ভ ছিলো।

পরবর্তীতে আরও অনেক সুন্দর মুহূর্ত কাটবে যেগুলো একে একে আপনাদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করবো। আপনারাও পিয়ালীকে আশীর্বাদ করবেন, যাতে ওর বিবাহিত জীবন সুন্দর কাটে। ওর সকল পরিকল্পনা যাতে বাস্তবায়িত হয়।

জীবনে ওঠা পড়া থাকবেই, তার মধ্যে থেকেই জীবনকে উপভোগ করতে হবে। যাইহোক আমার তরফ থেকেও পিয়ালীর জন্য অনেক শুভকামনা রইলো। যতটা আনন্দ সহযোগে আজকের দিনটা কাটলো, এমনই আনন্দময় হোক ওর বিয়ের প্রতিটি আয়োজন।

যাইহোক আইবুড়ো ভাতের আয়োজনটা আপনাদের কেমন লাগলো, সেটা সম্পর্কে আপনাদের নিজস্ব মতামত মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। সকলে ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।

Sort:  
Loading...
 7 hours ago 

Thank you for your support @wirngo. 🙏