 "বিড়লা প্ল্যানেটরিয়াম" |
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলেই ভালো আছেন।
আমার আজকের পোস্টের মাধ্যমে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো বিড়লা প্ল্যানেটরিয়াম ঘুরে দেখার মুহুর্তের গল্প। গতকালকের লেখার মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম দিদিদের সাথে আরও একবার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে যাওয়ার বিভিন্ন মুহুর্ত।
সেই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের কাছে খুব কাছেই, জওহরলাল নেহেরু রোডে এই বিড়লা প্লানেটোরিয়াম অবস্থিত। যা এশিয়ার বৃহত্তম তারামণ্ডল এবং মহাকাশ সম্পর্কিত প্রদর্শনী ও শো-এর জন্য বিখ্যাত।
 "দূর থেকে দেখতে সত্যিই সাঁচী স্তূপের মতোই লাগছিলো" |
এটি সাঁচী স্তূপের আদলে তৈরি এবং মহাকাশপ্রেমীদের জন্য একটি দারুণ উপভোগ্য স্থান। এর একেবারেই পাশে রয়েছে সেন্ট পল'স ক্যাথিড্রাল। সেখানেও মানুষের ভিড় নেহাৎ কম নয়। ১৯৬২ সালে বিড়লা কোম্পানির একটি শিক্ষামূলক সংস্থা দ্বারা এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো এবং ১৯৬৩ সালে এটার উদ্বোধন করা হয়।

"বিড়লা তারামণ্ডলের টিকিটের দাম" |
| জনপ্রতি | টিকিট মূল্য | স্টিম প্রাইস |
| সর্ব সাধারণের | ১৪০ টাকা | ২১.৪০ স্টিম |
| শিক্ষার্থীদের গ্রুপ(২৫ জন বা তার বেশি ) | ৭০ টাকা | ১০.৭০ স্টিম |

৩ বছরের কম বয়সী সকলেই বিনা মূল্যে শো দেখতে পারবে। প্রতিদিন টিকিট শোয়ের আধঘণ্টা আগে কাউন্টার থেকেই কাটতে হয়। ওখানে গিয়ে জানতে পারলাম অনলাইনে টিকিট বুকিং আপাতত বন্ধ আছে। সকলের বোঝার সুবিধার্থে শো বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় দেখতে পাওয়া যায়। প্রত্যেকটি ভাষার জন্যে আলাদা সময় আছে। সাধারণত দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শো চলে। তবে রবিবার ও ছুটির দিন সকাল ১০টা থেকে অতিরিক্ত শো থাকে।
 "কোন ভাষায় কখন শো হয়, তার তালিকা" |
সেদিন আমরা দুপুর একটার শো দেখেছিলাম। তিতলি ও তাতানের জন্য আমরা ঠিক করেছিলাম ইংরেজি অথবা হিন্দি ভাষার শো দেখাবো। কারন ওরা বাংলার থেকেও ঐ দুটো ভাষায় মহাকাশের বিভিন্ন গ্ৰহ, নক্ষত্রের নাম পরতে অভ্যস্ত।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল থেকে ওখানে গিয়ে আমরা একটার শো পেয়েছিলাম। টিকিট কেটে ভিতরে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। তারপর শো শুরু হলো। প্রথমবারের অভিজ্ঞতা এক কথায় অসাধারণ।
 "শো শুরুর আগে তোলা কিছু ছবি" |
সম্পূর্ণ রুমটি অন্ধকার করে দেওয়ার পর যখন শো শুরু হলো, যেন মনে হলো আমি মহাকাশেরই কোনো একটা জায়গাতে বসে সকল গ্রহ নক্ষত্রের বিচরণ গুলো উপভোগ করছি। সেই মুহূর্তে সকলের মোবাইলে ফোন বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছিলো, যাতে সম্পূর্ণ শো টা আমরা ভালোভাবে উপভোগ করতে পারি।
 "শো শেষ হওয়ার পর দুজনের ছবি, বেশ মজা পেয়েছে" |
তবে তার পরের এবং আগের মুহূর্তে তিতলি ও তাতানের দুই একটি ছবি ক্যামেরাবন্দি করেছি, সেটাই শেয়ার করলাম আপনাদের সাথে। সেখানকার শো শেষ করে পিছন দিকের একটি গেট দিয়ে আমাদেরকে বেরোতে হয়েছিলো। যেখান থেকে মেনগেট পর্যন্ত আসতে গিয়ে আশে পাশের পরিবেশটাও বেশ উপভোগ্য মনে হলো।
 "চারপাশে রঙিন ফুল দিয়ে সাজানো, তবে তখনও ফোয়ারা গুলো চালানো শুরু হয়নি" |
 "শীতকালীন ফুলের গাছ" |
 "সাজানো বাগান " |
 "শীতকালীন ফুল" |
পাশেই সুন্দর বাগান তৈরি করা আছে, ঘাসগুলোকেও খুব সুন্দর ভাবে কাটা রয়েছে। এমনকি সেখানে বসারও ছোট্ট ছোট্ট জায়গা করা আছে, চাইলে সেখানে বসেও বেশ কিছুটা সময় কাটানো সম্ভব। এমনকি শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের ফুল গাছ সেখানে সারিবদ্ধ ভাবে লাগানো হয়েছে। যদিও গাছগুলো তখনও ছোটো ছিলো।
 "হাওয়াই মিঠাই খেতেই ব্যস্ত তাতান" |
সেখান থেকে তাতান বায়না ধরলো হাওয়াই মিঠাই খাবে। অগত্যা তার ইচ্ছা পূরণ করতেই হলো। কিছুক্ষণ বাদে দেখলাম সামনের ফোয়ারা গুলো চালিয়ে দিয়েছে, তাই সেখানকার কিছু ছবি তুললাম, যাতে স্মৃতি হিসেবে এগুলো থেকে যায়।
যাইহোক এর একদম পাশেই ছিল সেন্ট পলস চার্চ। সেখানে গিয়ে মানুষের ভিড় দেখে আমরা আর সেখানে ঢোকার সাহস করলাম না। কারণ পরবর্তীতে আমাদের লাঞ্চ করে আরও একটি জায়গা পরিদর্শন করার প্ল্যান হয়েছিলো।
 "আমরা চারজন,ছবিটি দাদা অর্থাৎ দিদির হাজব্যান্ড তুলেছে।" |
 "ফেরার পথে আরও একবার বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামকে ভালো ভাবে ক্যামেরাবন্দি করার মুহুর্ত" |
পরবর্তী পোস্টে আমি আপনাদের সাথে বাকি সারাদিনের গল্প শেয়ার করবো। পাশাপাশি কলকাতার আর কোন বিখ্যাত স্থান ঘুরে দেখলাম, সেটাও জানাবো। আজকে বিড়লা প্লানেটোরিয়াম প্রদর্শনের অভিজ্ঞতা পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো, তা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না।
আপনারা যারা এখনও এখানে এসে এই শো উপভোগ করেননি, তাদেরকে অনুরোধ করবো অবশ্যই একবার এসে তা উপভোগ করার জন্য। সকলের সুস্থতা প্রার্থনা করে আজকের লেখা এখানেই শেষ করছি। সকলের আজকের দিনটা ভালো কাটুক। ভালো থাকবেন।
We support quality posts, good comments anywhere and any tags.