"আমাদের প্রত্যেকের জীবনের সূর্যাস্ত নিশ্চিত, তবুও তা মেনে নেওয়া কষ্টকর"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন। আর আপনাদের সকলের আজকের দিনটা বেশ ভালো কেটেছে।
সময় তো কারোর জন্য অপেক্ষা করে না, তাই আমার দিনটাও কেটে গেছে, তবে ভালো নয়। গতকালের পোস্টে জানিয়েছিলাম যে, আমার শশুর মশাইয়ের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়।
মাঝের কয়েকটা মাস ওষুধ খেয়ে তিনি মোটামুটি ভালোই ছিলেন। তবে তার আগে অর্থাৎ গত বছরের শেষের দিকে ভীষণ শরীর খারাপ ছিলো। প্রায় ১ মাস ওনাকে হসপিটালে ভর্তিও রাখতে হয়েছিল। তখনকার লেখা পোস্টে সেই সময়কার সব পরিস্থিতির কথাই শেয়ার করেছিলাম।
গত এক দেড় মাস যাবৎ তিনি ডান কাঁধে ব্যথা অনুভব করছিলেন। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো কোনো কারনে তিনি ব্যাথা পেয়েছেন বা শোয়ার সময় বালিশের পজিশনের কারনেও ব্যাথা হতে পারে। সেই অনুযায়ী গরম সেঁক দেওয়া, বিভিন্ন ধরনের ব্যাথা নিবারণকারী মলম ব্যবহার করা, ওষুধ খাওয়া সবটাই করা হচ্ছিলো।
তবে কয়েকদিনের মধ্যেই কাঁধের জায়গাটা ফোলা অনুভূত হলো। আর দেখতে দেখতে যেন সেটা বড় হতে শুরু করলো। উনি হাড়ের ডাক্তার দেখানোর জন্য জোড় দিলেন। তাই কল্যানী গিয়ে দেখানো হলো। ডাক্তার ওনাকে কিছু এক্সারসাইজ দেখিয়ে দিলেন, আর তার সাথে ব্যাথার ওষুধ দিলেন। আর আল্ট্রাসোনোগ্রাফি ও এক্সরে করার পর রিপোর্ট দেখাতে বললেন।
![]()
|
|---|
তাই করা হলো। এইবার যখন আমরা বিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলাম তার আগে টেস্ট করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তার দেখানোর পর বিষয়টা পরিষ্কার হলো। এটা হাড়ের কোনো সমস্যা নয়। ওখানে একটা টিউমার হয়েছে। তবে সেটা কি ধরনের টিউমার সেটা বোঝার জন্য এম.আর.আই ও বায়োপসি করার কথা বললেন তিনি।
এরপর শুভ ওনাকে আগের সমস্ত ট্রিটমেন্টের হিস্ট্রি বলার পর উনি বললেন এটা ওনার লিভারের ক্যান্সার ছড়িয়ে পরার কারনেও হতে পারে কিংবা নতুন করে এই টিউমারটা কাঁধে হতে পারে। আর এটা বোঝার জন্য এম.আর.আই করাতেই হবে।
এরপর ওখানেই শুভর পরিচিত একজন ডাক্তার ছিলেন, তাকে ফোন করে শুভ একবার দেখা করলো। আর শশুর মশাইয়ের শারীরিক অবস্থা ও পরবর্তী ট্রিটমেন্ট নিয়ে কথা বললো।
নরমালি কোনো ডাক্তার স্পষ্ট ভাবে কিছু বলতে চান না। তবে যেহেতু অফিসে কাজের সূত্রে ওনার সাথে অনেক ভালো পরিচিতি আছে তাই তিনি বললেন যে, শশুর মশাইয়ের এই টিউমারটা ভিতরের ইনফেকশন ছড়িয়ে পরার কারনেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
এম.আর.আই করার পর পরবর্তী ট্রিটমেন্ট কেমো থেরাপি অথবা রেডিয়েশন হবে। তবে সেগুলো ব্যায় সাপেক্ষ তো বটেই তার থেকেও অনেক বেশি কষ্টদায়ক।
তাই তিনি স্পষ্ট ভাবেই বলেছেন, শশুর মশাইয়ের যা বয়স, আর শারীরিক আরও যা যা সমস্যা রয়েছে, তারপর যদি আবার এই ট্রিটমেন্ট শুরু হয় উনি তা সহ্য করতে পারবেন না। তার থেকে যেমন চলছে এইভাবেই রাখা ভালো। ব্যাথা খুব বেশি হলে ওষুধ খাওয়ানোই এখন একমাত্র উপায়।
এইসব নিয়েই বিয়েবাড়িতে এক আলোচনা পর্ব চলছে। ননদ, ননদের হাজব্যান্ড, শাশুড়ি মা, শুভ, আমি, ও মামা শ্বশুরদের সকলের এক মত। যে কষ্ট উনি পাচ্ছেন,তার উপরে আর কষ্ট বাড়ানোর দরকার নেই। সেই সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত হলো। ইতিমধ্যে আমরা বাড়িতেও চলে এসেছি।
![]()
|
|---|
তবে মন মানতে চায়নি তাই সব ঘটনা দিদিকে জানালাম। দিদি বললো আমার শ্বশুরের আগের রিপোর্টই যথেষ্ট খারাপ ছিলো। তারপরেও যে উনি এই এক বছর এতোটা সুস্থ ভাবে কাটাতে পারবেন এটাও দিদি ভাবেনি।
আরও অনেক আগেই ওনার এই যন্ত্রনা শুরু হওয়ার কথা ছিলো। দিদিও আর কোনো কিছু ট্রিটমেন্ট করতে বারন করলো। কারন সেটা করালে ভালোর থেকেও মন্দ হবে বেশি।
এই খবর গুলো শোনার পর থেকেই একটা অদ্ভুত অনুভূতিতে দিন কাটছে বিশ্বাস করুন। সারাদিন ঘরের ভিতরে শশুর মশাইকে যন্ত্রনার কাতর অবস্থায় দেখতে ভালো লাগছেনা। এ যে কেমন খারাপ লাগা তার ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।
এইভাবে না জানি আরও কতগুলো দিন, কতোগুলো মাস কাটবে। তবে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি উনাকে মুক্তি দিক। কারন সুস্থ হওয়ার যদি কোনো সম্ভাবনা না থাকে তাহলে যন্ত্রণা সহ্য করে বেঁচে থাকা অনেক কষ্টকর।
তবে কি এই সুন্দর পৃথিবী থেকে চলে যেতে, নিজের কাছের মানুষদের থেকে দূরে যেতে কারোরই ইচ্ছা করে না। অথচ আমাদের সকলের জীবনের পরিণতি এমনই হবে। এটা ভাবতেই কেমন শুন্যতায় মনটা ভরে ওঠে।
যাইহোক বর্তমানে এমন পরিস্থিতিতে দিন যাপন হচ্ছে। যেখানে শারীরিক সমস্যা না থাকলেও মানসিক দিক থেকে প্রতিদিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি বাড়ির বাকি সকলে।
সকলে একটু প্রার্থনা করবেন যেন এই যন্ত্রনা থেকে আমার শশুর মশাই দ্রুত মুক্তি পান। সকলের সুস্থতা কামনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।



