"তিতলি ও তাতানের পছন্দের রেসিপি- সরষে পোস্ত দিয়ে পাবদা মাছ"
|
|---|
Hello,
Everyone,
আমার দিদির মেয়ে তিতলির জন্মদিনের সব মুহূর্ত ইতিমধ্যেই আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করেছি। জন্মদিনের দিন দুপুরবেলায় ওদের জন্য আমি প্রথমবার পাবদা মাছ রান্না করেছিলাম, সে কথাও পোস্টে উল্লেখ করেছিলাম।
সেইদিন রান্না করার খুব একটা তাড়াহুড়ো ছিলো না বলে, রেসিপিটার প্রতিটা ধাপের ছবি তুলেছিলাম এটা ভেবে যে, সেটা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। তাই আজকে সেই রেসিপিটিই আমি আপনাদের সাথে এই পোস্টের মাধ্যমে শেয়ার করতে চলেছি।
বাজার থেকে মাছ কাটিয়ে এনেছিলো বলে, মাছ কাটার কোনো ঝামেলা ছিলো না। তবে এই মাছ ভাজাটা আমার জন্য বেশ ভয়ের ছিলো। শাশুড়ি মাকে দেখেছি যখনই এই মাছ তেলে দেন, তখন কড়াই থেকে প্রচন্ড তেল ছিটায়। সেই কারণে আমি কখনো এই মাছ রান্না করিনি। তবে এই দিন না করে আর কোনো উপায় ছিলো না।
যাইহোক চলুন শেষ পর্যন্ত কিভাবে পাবদা মাছের ঝালটা রান্না করেছিলাম, সেটা আপনাদের সাথে শেয়ার করি।
প্রথমে আপনাদেরকে জানাই রান্নাটি করতে আমি কি কি উপকরণ ব্যবহার করেছিলাম,-
|
|---|
| নং | উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১. | পাবদা মাছ | ৩ টি |
| ২. | সাদা সরষে | ২ চা চামচ |
| ৩. | কালো সরষে | ২ চা চামচ |
| ৪. | পোস্ত | ২ চা চামচ |
| ৫. | কাঁচা লঙ্কা | ২ টো |
| ৬. | সরষে তেল | ৪ চা চামচ |
| ৭. | কালো জিরা | ½ চা চামচ |
| ৯৮ | টমেটো | ১ টা |
| ৮. | ধনেপাতা | ১ চা চামচ |
| ১০. | চিনি | ½ চা চামচ |
| ১১. | কাশ্মীর লঙ্কার গুঁড়ো | ১ চা চামচ |
| ১২. | হলুদ | ১½ চা চামচ |
| ১৩. | লবন | স্বাদ অনুসারে |
|
|---|
আমি সর্ষে, পোস্ত দিয়ে পাবদা মাছ রান্না করেছিলাম। তাই এর মধ্যে আলাদা কোনো সবজি দিইনি। তিতলি ও তাতান এই ভাবেই খেতে পছন্দ করে, তাই ওদের ইচ্ছে অনুযায়ী এইভাবেই রান্নাটা করেছিলাম। চলুন পদ্ধতিটা এবার আপনাদের সাথে শেয়ার করি,-
![]() |
|---|
প্রথমে খুব ভালো করে মাছগুলো ধুয়ে নিয়েছিলাম। তারপর পরিমাণ মতো লবণ, হলুদ এবং সর্ষের তেল দিয়ে মাছটা কিছুক্ষণ মেখে রেখে দিয়েছিলাম। এমনটা আমার শাশুড়ি মা কে করতে দেখেছি।
এরপর একটা বাটিতে সাদা সরষে, কালো সরষে, পোস্ত এবং দুটো কাঁচা লঙ্কা নিয়েছিলাম। তিতলি ও তাতান যেহেতু খুব একটা ঝাল খেতে পারেনা, সেই কারণেই আমি মাত্র দুটো লঙ্কা ব্যবহার করেছিলাম। তবে আপনারা আপনাদের পছন্দ মতন লঙ্কা ব্যবহার করতে পারেন। এই সবগুলোকে মিক্সিতে দিয়ে পেস্ট করে নিতে হবে। চাইলে শিলনোড়ায়ও বেটে নিতে পারেন।
এরপর আমি মাঝারি সাইজের একটা টমেটো নিয়ে, ভালো করে ধুয়ে গ্রেটারের সাহায্যে গ্রেট করে নিয়েছিলাম। আপনারা চাইলে টমেটো পেস্ট করে বা বেটেও ব্যবহার করতে পারেন। অথবা টমেটোটা কুচিয়েও ব্যবহার করতে পারেন।
এরপর গ্যাস জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে তাতে পরিমাণ মতো সর্ষের তেল দিয়ে দিলাম। তেলটা একটু গরম হলে মাছ তিনটে দিয়ে, আমি উপর থেকে কড়াইটাকে ঢেকে দিয়েছিলাম। যাতে তেল গুলো ছিটকে কোনো ভাবে গায়ে না লাগে।
মাছটা উল্টে দেওয়ার সময়, গ্যাসটাকে একেবারে কমিয়ে কোনো রকমে ঢাকনাটা সরিয়ে, একবার উল্টে আবার ঢেকে দিয়েছিলাম। এইরকম ভাবে দুপিঠ একটু লালচে করে ভেজে নিয়ে, আমি মাছগুলো একটা থালায় নামিয়ে নিয়েছিলাম।
কড়াইতে অবশিষ্ট তেলের মধ্যে আমি প্রথমে কালো জিরে ফোরণ দিয়ে একটু নাড়াচাড়া করে নিলাম। এরপর পেস্ট করে রাখা টমেটোটা দিয়ে দিয়েছিলো।
টমেটোর কাঁচা গন্ধ চলে যাওয়ার পর, আমি ওর মধ্যে পরিমাণ মতো হলুদ এবং কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে একটু নাড়াচাড়া করে নিলাম। এই সময় সামান্য একটু জলও দিয়ে দেবেন, যাতে টমেটো, হলুদ এবং লঙ্কার গুঁড়ো একসাথে একটু সময় কষিয়ে নেওয়া যায়।
আমি আগে থেকে মাছ ম্যারিনেট করে রাখা পাত্রে সরষে, পোস্ত, কাঁচালঙ্কার পেস্টটা ঢেলে নিয়ে তাতে সামান্য লবণ দিয়ে, মিশ্রণটা কড়াইতে ঢেলে দিলাম। তারপর মসলার বাটি ধোয়া আরও অল্প একটু জল কড়াইতে দিয়ে ঝোল ফুটে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম।
ঝোলটা ফুটে উঠলে সামান্য চিনি দিয়ে দিলাম। এরপর আগে থেকে তুলে রাখা ভাজা পাবদা মাছগুলো ঝোলের মধ্যে দিয়ে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিলাম।
নামানোর আগে কিছুটা ফ্রেশ ধনেপাতা, ভালো করে ধুয়ে কুচিয়ে দিলাম। আর গ্যাসের ফ্লেম বন্ধ করার পর, উপর থেকে আরও সামান্য সরষের তেল ছড়িয়ে, একটু সময় ঢাকা দিয়ে রাখলাম। যাতে কাঁচা সর্ষের তেলের ঝাঁঝটা পাওয়া যায়।
আমি এই ভাবেই শাশুড়ি মা কেও রান্না করতে দেখেছি। আর এদিন নিজের হাতে রান্না করলাম। যদিও নুন, ঝাল কোনোটাই টেস্ট করে দেখিনি। তবে তিতলি, তাতান ও দিদির হাজব্যান্ড তিনজনেই খুব ভালো খেয়েছিলো। আসলে যখন কোনো জিনিস কারোর উদ্দেশ্যে রান্না করা হয়, তারা যদি সেটা তৃপ্তি করে খায়, সবথেকে আনন্দে বোধহয় তখনই পাওয়া যায়।
![]() |
|---|
যাইহোক এইভাবে তিতলির জন্মদিনের দুপুরে আমি পাবদা মাছটা রান্না করেছিলাম। যার রেসিপি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। পাবদা মাছ অনেকেই খেতে খুব পছন্দ করেন, তবে আপনারা আর কি কি ভাবে পাবদা মাছ রান্না করেন, তা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।
সকলে খুব ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন। শুভরাত্রি।
![]() |
|---|





















