"গতকাল কাটানো পারিবারিক মুহুর্তের বাকি গল্প - অন্তিম পর্ব "
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
গতকালের পর্বটা শেষ করেছিলাম রান্নার আয়োজনের কিছুটা দিয়ে। যেখানে মামীকে সবকিছু যোগাড় করে দিয়ে, আমরা মামীর আশেপাশে বসেই গভীর গল্পে মত্ত হয়েছিলাম। সেখানে ছোটোবেলায় একসাথে কাটানো আমাদের মুহুর্ত গুলো, গল্পের মাধ্যমে যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিলো।
বেরেস্তা তো বোনের রান্না ঘর থেকেই ভাজা হয়ে গিয়েছিলো। বাইরে গ্যাস জ্বালিয়ে মামী মাংস রান্না শুরু করেছিলো। ইতিমধ্যে মিক্সিতে সব মশলা আমি পেস্ট করে দিয়েছিলাম। আর পেঁয়াজ তো বোন কেটেই রেখেছিলো।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
যাইহোক চিকেনটা খুব ভালোভাবে কষা হয়ে গেলে, মামী কয়েক টুকরো কষা চিকেন তুলে রেখেছিলো। আমি অবশ্য কষা মাংস থেকে খেতে পছন্দ করি না, তাই আমার বাকি বোনেরাই খেয়েছিলো।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
বোনের বাড়িতে অনেকদিন বাদে আমার পছন্দের চানাচুর দেখে, আমি আর মামি কষা চিকেন এর বদলে সেই চানাচুর খেয়েছিলাম। গতকাল সকাল থেকে আবহাওয়া ভালো থাকলেও, দুপুরের দিকে মাঝেমধ্যেই মেঘ করে আসছিলো। তবে গরম কমেনি এতটুকুও।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
যাইহোক এরপর মাংস রান্না প্রায় শেষের দিকে এসে গেলে, আমরা ভাত বসানোর জন্য হাড়ি এবং প্রয়োজনীয় জল কাছাকাছি এনে রাখলাম। মামী মাংস নামিয়ে রেখে ভাত বসিয়ে দিলো। ভাতটাও প্রায় হয়ে এসেছিলো কিছুক্ষণের মধ্যেই। তবে ভাতটা কিভাবে নামানো হবে, সেটা ভাবতে ভাবতেই আমরা সকলে মিলে একটা মশারির নেট নিয়ে তৈরি হয়ে গিয়েছিলাম। যাতে ভাতগুলো মামী সহজেই নামিয়ে নিতে পারে।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
তা সত্যি কথা বলতে খুব সহজেই কাজটা হয়ে গিয়েছিলো, এরপর আমি এক এক ভাত চিকেন, বেরেস্তা, বিরিয়ানি মশলা, গোলাপ জল, ক্যাওড়া জল, আঁতর, কেশর ভেজানো দুধ, ঘি, সমস্ত কিছু গুছিয়ে দিলাম। আর মামী সুন্দরভাবে বিরিয়ানিটা সাজিয়ে নিয়েছিলো। তারপর অল্প আঁচে দমে বসিয়ে রেখেছিলো বেশ কিছুক্ষণ।
আমাদের কমিউনিটিতে চলমান একটি কনটেস্ট গতকাল সকালেই শেষ হয়েছিলো। আর সেই কনটেস্টের ডিটেইলস বরাবরের মতো অ্যাডমিন ম্যামের কাছে পাঠানোর দায়িত্ব ছিলো আমার। তাই বেশ কিছুক্ষণ বোনের বেডরুমে গিয়ে একা একা সেই কাজটা সম্পন্ন করে নিয়েছিলাম। তারপর অ্যাডমিন ম্যামকে মেল পাঠানোর পর, আবার বসেছিলাম বোনেদের সাথে আড্ডায়।
![]()
|
|---|
এরপর আর কি, বেশ কিছুক্ষণ দম হয়ে যাওয়ার পর, এক এক করে সকলেই খেতে বসলো। আলাদা করে চিকেন কষাও রাখা ছিলো। আর বিরিয়ানির মধ্যেও চিকেন, আলু দেওয়া হয়েছিলো। প্রথমে বাচ্চাদেরকে খেতে দেওয়া হলো, তারপর বড়দের।
আর সবশেষে আমরা, মানে বাকি বোনেরা বসবো তেমনটাই ঠিক হয়েছিলো। রান্নাটা অসাধারণ হয়েছিলো এবং সেটা বোনেরা বহুদিন বাদে এক জায়গায় এমন ভাবে বসে খাওয়া দাওয়া করেছে সবশেষ মিষ্টিও ছিল।
![]()
|
|---|
আমার মামার মেয়ে বাড়ি থেকে চিজ্ কেক তৈরি করে নিয়ে গিয়েছিলো। সেটা বোনের বাড়িতে ফ্রিজে রাখা হয়েছিলো। কারণ ওটা না জমলে খেতে ভালো লাগবে না। তাই দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ করে কিছুক্ষণ গল্প করার পর, বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ আগে সেটা ফ্রিজ থেকে বের করে, কেটে সকলে মিলে খেয়েছিলাম। ছবিটা দেখে আশাকরি বুঝতে পারছেন কতটা সুন্দর লাগছিলো দেখতে। আর এটি খেতেও ভীষণ সুস্বাদু হয়েছিলো।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
আকাশে মেঘের কারণে চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসছিলো, কিন্তু আমাদেরকে বাড়িতে ফিরতেই হবে, তাই একটু তাড়াতাড়ি গুছিয়ে নিয়েছিলাম। সকলেই একসাথে সারাটা দিন দারুন আনন্দ করে কাটিয়েছিলাম। আমাদের ছোটবেলার গল্পের পাশাপাশি, আগামী দিনে আবার কোথায় আমরা একত্রিত হবো, সেই সব বিষয়েও প্ল্যান হলো অনেক।
সকলের বাড়ি ফেরার তাড়া ছিলো, তাই সন্ধ্যার পর সকলে মিলে একসাথেই বেরিয়ে পড়লাম। অর্ধেক রাস্তা পর্যন্ত একসাথে এলাম, তারপর মাসি ও বোনেরা ওদের বাড়ির পথে চলে গেলো। আর আমরা পৌঁছালাম মছলন্দপুর স্টেশনে।
![]()
|
|---|
টিকিট কেটে কিছুক্ষণ ট্রেনের অপেক্ষা করলাম। তারপর ট্রেন আসলেই আমরা উঠে পড়লাম। অর্ধেক রাস্তায় মামী আর বোন নেমে পড়লো। আর আমি আর শুভ এসে নামলাম দত্তপুকুর স্টেশনে। তখন রীতিমতো বৃষ্টি হচ্ছিলো। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর হাঁটতে শুরু করলাম দুজনে।
তবে কাল বাড়ি এসে বুঝতে পারছিলাম বৃষ্টিতে ভেজাটা উচিত হয়নি। মাথাটা সম্পূর্ণ ভাড় হয়ে ছিলো। আর ঠান্ডায় নাকও বন্ধ হয়ে আসছিলো। যাইহোক সারাটা দিন সকলের সাথে খুবই আনন্দের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলাম, এটা ভেবে সত্যিই আজও মনটা ভালো লাগছে।
![]()
|
|---|
আগামীতে আবার কবে সকলে একত্রিত হতে পারবো সত্যিই জানিনা। তবে অপেক্ষায় আছি, এই দিনটা খুব তাড়াতাড়ি আসবে। চেষ্টা করলাম দুটি পোস্টের মাধ্যমে সারাদিনের কিছু মুহূর্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করার। আপনাদের কেমন লাগলো আমার আজকের লেখা পড়ে, তা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।
ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।















Congratulations! Your post has been upvoted from sc-07 account.