"রামায়নের আয়োজন"

in Incredible India4 hours ago
IMG_20260421_174152.jpg

Hello,

Everyone,

মানুষ হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই জীবনে কিছু না কিছু শখ থাকে। অনেকেরই সেই শখ পূরণ হয়, আবার অনেকেরই পূরণ হয় না। পূরণ না হওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, তবে মনের অভ্যন্তরে সেই শখ পূরণের ইচ্ছে আমাদের প্রত্যেকেরই থাকে।

নিশ্চয়ই ভাবছেন হঠাৎ করে এই কথা কেন আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। আসলে আমি গত কয়েকটি পোস্টে শুধু আমার শ্বশুর মশাইয়ের কথাই আলোচনা করেছি। তার বেঁচে থাকা কালীন সময়ে শারীরিক অসুস্থতা, আবার মৃত্যুর পর তাহলে উদ্দেশ্যে পালিত বিভিন্ন রীতির কথাও আলোচনা করে চলেছি।

তবে আমার লেখা অনেক আগের একটা পোস্টে একবার আমি আমার শশুর মশাইয়ের শখ সম্পর্কেও আপনাদের সাথে আলোচনা করেছিলাম। তবে তা অনেক দিন আগের কথা। আপনাদের মধ্যে কারোর হয়তো তার মনে থাকার কথা নয়। আমার শশুর মশাইয়েরও একটাই শখ ছিলো, সেটি হল বাঁশি বাজানো।

বাংলাদেশে থাকাকালীন ছোটবেলায় তিনি বাঁশি বাজাতেন। পরবর্তীতে পড়াশোনার চাপ, তারপর কর্মজীবন, সংসারিক চাপ, সমস্ত কিছু সামলাতে গিয়ে সেই শখ পূরণ করা হয়ে ওঠেনি কখনোই। কিন্তু বাঁশি বাজানোর প্রতি ওনার এক তীব্র ভালোবাসা ছিলো। তবে সময়ের সাথে সাথে বয়স বেড়ে গেছে এবং বাঁশি শেখা আর হয়ে ওঠেনি।

IMG_20260420_180352.jpg

তবে আজ থেকে প্রায় বছর‌‌ পাঁচ ছয় আগে তিনি হঠাৎ করেই বাঁশি তৈরি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। আর যেহেতু সেই সময় ইউটিউব চালানোও শিখে গেছেন, তাই ইউটিউবেও বহু বাঁশি শেখার ভিডিও তিনি দেখেছেন। সুতরাং তার মনে হয়েছে একবার তিনি youtube দেখে দেখে বাঁশি শেখার চেষ্টা করতে চান। আর তেমনটাই তিনি শুরু করেছিলেন।

তবে কথায় আছে ছোটবেলায় যে কোনো জিনিস আমরা যত সহজে শিখতে পারি, বয়সের সাথে সাথে শেখার ক্ষমতা আমাদের কমতে থাকে।

তবে বাঁশির প্রতি তার ভালোলাগা এতটাই তীব্র ছিল যে, বেশি বয়স হলো তিনি অনেক ধৈর্য্য সহকারে বাঁশি‌ বাজানো শুরু করেছিলেন। একটা সময় আমারও মনে হয়েছিলো ওনার এই শেখার ইচ্ছার মূল্যায়ন করা উচিত।

তাই খোঁজখবর নিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে একজনের খোঁজ পেয়েছিলাম যিনি বাঁশি বাজানো শেখান। খানিকটা জোর করেই শ্বশুরমশাইকে সেখানে পাঠিয়েছিলাম বাঁশি শেখার জন্য।

খুব খুশি হয়েছিলেন তিনি এবং উৎসাহ সহকারে প্রায় এক বছরে বেশি সময় তিনি সেখানে বাঁশি বাজানো শিখেছেন। আজ বলতে খুব ভালো লাগছে যে, তিনি যথেষ্ট ভালোবাসি বাজাতেন।

IMG_20260420_192710.jpg

শেষ বয়সে এসেও বাঁশি শেখার প্রতিতার এই তীব্র মনোযোগ আমাকেও বহুবার অবাক করেছিলো। তার বাঁশির সম্ভারও ছিলো অনেক। বারবার বাঁশি বদলে বদলে অনেক সুন্দর সুন্দর সুর তিনি বাজাতে।

আমাদের প্রতিবেশীরা এখনও তার বাঁশি বাজানোর কথা বলেন মাঝে মধ্যে। আসলে মানুষ চলে গেলে বোধহয় এইসকল স্মৃতিগুলো থেকে যায় আমাদের আলোচনার মাঝে।

যাইহোক গতকাল শ্বশুর মশাই এর আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে বাড়িতে রামায়ণ পাঠের আয়োজন করা হয়েছিলো এবং সেখানে তার উপস্থিতি ভীষণভাবে মিস করেছি আমি।

কারণ আমাদের আশেপাশে যখন কোনো বাড়িতে এই ধরনের কীর্তন বা রামায়ণ পাঠ হতো, তখন তাকে বাঁশি বাজানোর জন্য সেখানে ডাকতো এবং তিনি খুব সুন্দরভাবে বাজাতেন। অথচ গতকাল আমাদের বাড়িতে আয়োজন হয়েছিলো, তবে দুঃখের বিষয় তিনি ছিলেন না।

IMG_20260420_192721.jpg

তবে তিনি যেখানেই থাকুক না কেন নিশ্চয়ই গতকাল দিনে মন দিয়ে রামায়ণ শুনেছেন, আর তৃপ্ত হয়েছেন। যে ছবিটা আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি, এই ছবিটা আমার শ্বশুরমশাইয়ের শিক্ষক নিয়ে এসেছেন দুদিন আগে। এমন উপহারের মূল্যায়ন করতে যাওয়া বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

লেখার শেষে এইটুকুই প্রার্থনা করতে চাই, জীবনে অনেক ত্যাগ স্বীকার করে, সংসার সন্তানকে মানুষ করার জন্য, আমার শ্বশুর মশাইয়ের মতো হয়তো বহু মানুষকে নিজের জীবনের শখগুলো ত্যাগ করতে হয়।

তবে সন্তান হিসেবে যদি কখনো আপনারা জানতে পারেন আপনাদের বাবা মায়েরাও এই রকম ছোট্ট ছোট্ট ভালোলাগাগুলোকে বিসর্জন দিয়েছেন, তাহলে চেষ্টা করবেন সেই ভালোলাগাগুলোকে তাদের জীবনে ফিরিয়ে দিতে। দেখবেন এক অন্য ভাললাগায় ভরে উঠবে আপনার মন।

সকলের সুস্থতা প্রার্থনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। ভালো থাকবেন সকলে।

Sort:  
Loading...