"গুরুদেবের আগমনে সুসম্পন্ন হলো বৈষ্ণব সেবার নিয়ম"
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
সিকিম থেকে ঘুরে আসার পর থেকেই প্রচন্ড পরিমানে সর্দিকাশি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত শরীর সুস্থ হয়নি, আর কবে সুস্থ হবে সেটাও জানিনা। কারণ অত্যাধিক গরমের কারণে প্রতিদিনই প্রচন্ড পরিমাণে ঘাম হয়, ফলতো দুই থেকে তিনবার স্নান করাতেই বোধহয় ঠান্ডা কমার সম্ভাবনা খুবই কম।
যাইহোক সিকিম ভ্রমণের পরবর্তী পর্ব আমি আপনাদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করবো। তার আগে গতকালকের সারা দিনের কিছু কথা শেয়ার করবো আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে। গতকাল দিনটা ভীষণ ব্যস্ততার মধ্যেই কেটেছে।
দেখতে দেখতে আমার শশুর মশাই মারা যাওয়ার ৪৬ দিন পার হয়ে গেছে। আর সত্যি কথা বলতে ওনাকে হারানোর কষ্টটা প্রথম দিকে যতটা তীব্রভাবে অনুভব করতাম, ধীরে ধীরে যেন সেই অনুভূতিটার সাথে মানিয়ে নিতে শিখিয়ে শিখছি আমরা সকলেই।
যাইহোক গতকাল ওনার আত্মার শান্তি কামনার উদ্দেশ্যে আমাদের বাড়িতে ছোট্ট একটা অনুষ্ঠান ছিলো। মূলত গতকাল আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন আমার শ্বশুরমশাই ও শাশুড়ি মায়ের শিক্ষাগুরু এবং আমার ও শুভর দীক্ষাগুরু। হিসাব মতো আমরা আমাদের কুলোগুরুর কাছ থেকেই দীক্ষামন্ত্র নিয়েছি।
যদিও শিক্ষা এখনও পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। কারণ শিক্ষা নেওয়ার পরে যে নিয়মগুলো পালন করতে হবে, সেগুলোর জন্য মানসিকভাবে আমাদের দুজনের মধ্যে কেউই প্রস্তুত নই। সমস্ত কিছুরই একটা নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। যে সময়ের পরে গিয়ে প্রত্যেকটা নিয়ম পালন করা অনেক সহজ হয়।
![]() |
|---|
যাইহোক হিসেব মতো ৪৫ দিনে গুরুদেবকে সেবা দিয়ে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয়। হিন্দু শাস্ত্রমতে অনেকের মধ্যেই অনেক নিয়ম রয়েছে। সেদিক থেকে আমার শ্বশুর বাড়ির সকলে কৃষ্ণ মন্ত্রে দীক্ষিত এবং কালাচাঁদ মতেই তাদের সমস্ত কাজ হয়ে থাকে। কালাচাঁদ মত বলতে আমি যতটুকু বুঝেছি, যারা কৃষ্ণ মন্ত্রের কালাচাঁদ মতে দীক্ষিত হন, এনাদের মধ্যে মাছ খাওয়ার নিয়ম আছে। তবে পেঁয়াজ, রসুন, ডিম, মাংস এগুলো খাওয়ার নিয়ম নেই।
আমার শ্বশুরমশাইও কালাচাঁদ মতে দীক্ষিত ছিলেন। আর গুরুদেবের সাথে সাথে আরও কয়েকজন, যারা এই একই মন্ত্রে দীক্ষিত তাদের আমাদের বাড়িতে ডেকে, ছোট্ট আয়োজনের মাধ্যমে খাওয়ানোর মধ্যে দিয়েই হিসাব মতন শ্বশুরমশাইয়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের সমস্ত কাজ সম্পন্ন হলো।
এরপর ওনার এক বছরের মৃত্যুবার্ষিকীতে কিছু নিয়ম পালিত হবে। যদিও শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের দিন আমাদের বাড়িতে ব্রাহ্মণভোজন হয়েছিলো, কিন্তু ব্রাহ্মণ ভোজনের পরেও গুরুদেবকে ভোজন করানোর নিয়ম রয়েছে। কারণ ঐদিন উনি আসেননি আমাদের বাড়িতে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, এই গরমের মধ্যে ছোট্ট আয়োজন করতে গেলেও কতখানি কষ্ট করতে হয়েছে।
কিন্তু তবুও সমাজ ও সংসারে থাকতে গেলে কিছু নিয়ম পালন করতেই হবে। সেই কারণেই গতকাল আমাদের বাড়িতে ছোট্ট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা সেই নিয়ম সম্পন্ন করেছি। শাশুড়ি মা বাজার থেকে প্রয়োজনীয় যা কিছু ছিলো সবটাই করে রেখেছিলেন।
![]() |
|---|
পরদিন সকাল বেলাতে দুজন মাসিমা চলে এসেছিলেন, শাশুড়ি মা কে রান্নার কাজে সাহায্য করার জন্য। মোটামুটি ৩০ জন মানুষের আয়োজন করা হয়েছিলো। আর সকালবেলা থেকেই সমস্ত কাজ শুরু করতে হয়েছিলো।
সকালবেলায় উঠে ঘরবাড়ি সমস্ত কিছু গোছানো, ঘর ঝাড়ু দিয়ে মোছা সবটা শেষ করার পর আমি রান্নাঘরে গিয়ে নিজেদের মতন করে রান্না করেছিলাম। যাতে সকলে মিলে সকালের খাবার খেয়ে নিতে পারি। দুপুরবেলার সমস্ত রান্না বারান্দায় শাশুড়ি মা এবং অন্যজন দুজন মিলে সেরে নিয়েছিলেন। কিছুক্ষনের মধ্যে নিমন্ত্রিতরাও এসে পড়েছিলেন।
![]() |
|---|
গুরুদেবের আসতে তখনও খানিকটা দেড়ি ছিলো। ততক্ষণে আমি ঘরের বাইরে কাজ সেরে, স্নান করে, ঠাকুর পূজা দিয়ে নিচে এসে শশুর মশাইয়ের ফটোটা সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছিলাম। যার উদ্দেশ্যে এই আয়োজন ছিলো, তার ছবিটা এমন ভাবে একটু সাজাতেই হতো। যাইহোক আশেপাশের বাড়িতে থেকেও কয়েকজনকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছিলো।
![]() |
|---|
![]() |
|---|
কিছু মানুষ আসার পর কয়েকজন বৈষ্ণব মিলে একটু নাম কীর্তন করলেন। কিছুক্ষণ বাদে আমাদের গুরুদেব উপস্থিত হলেন। তারপর ওনাদের কিছু নিয়ম ছিলো যেগুলো দেখার অনুমতি আমাদের ছিলো না। তাই সেই সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতে অনেকটা সময় পার হয়ে গিয়েছিলো। ততক্ষণে রান্নাও শেষ হয়ে গিয়েছিলো। তারপর সকলের খাবারের আয়োজন হয়েছিলো।
কিন্তু সেই সময় ফোনটা আমার কাছে ছিলো না, আর কাজের ব্যস্ততায় আমি সমস্ত খাবারের পদ গুলোর ছবিও তুলতে পারি নি। তবে মেনুতে যে সকল খাবার ছিলো সেগুলো আমি নিচে উল্লেখ করলাম,-
- লেবু ও লবন
- সাদা ভাত ও ঘি
- পটল ও উচ্ছে ভাজা
- ইংলিশ মাছের মাথা দিয়ে কচুর শাক
- ডাল
- চিংড়ি মাছ দিয়ে পটল আলুর তরকারি
- কাতলা মাছের কালিয়া
- আমের চাটনি
- পাঁপড়
- রসগোল্লা
- মিষ্টি দই
সকলের খাওয়া দাওয়া সম্পন্ন হতে বিকাল প্রায় সাড়ে চারটে বেজে গিয়েছিলো। তারপর বাকি ছিলাম বাড়ির সকলে। তবে সারাদিন গরমের মধ্যে পরিশ্রমের পর খাওয়ার কোনো আগ্ৰহ ছিলো না। তাই ঠিক করেছিলাম একেবারে সন্ধার পর ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করবো। তাই তেমনটাই করলাম। গরমে অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গিয়েছিলো।
![]() |
|---|
![]() |
|---|
![]() |
|---|
তাই সন্ধ্যার পর যখন খেলাম তখন আর শরীর চলছিলো না। কিন্তু তখনও অনেক কাজ বাকি ছিলো। অতিথিদের বিদায় জানিয়ে, অবশিষ্ট তরকারি গুলোকে সঠিকভাবে গুছিয়ে, সমস্ত কিছু ফ্রিজে রাখতে রাখতে রাত সাড়ে এগারোটা কখন বেজে গিয়েছিলো বুঝতে পারিনি। বিছানায় যাওয়ার পর শুরু হয়েছিলো প্রচন্ড পায়ে ব্যাথা ও কাশি।
কারণ সারাদিন গরমে ঘামে ভিজে অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। তারপর কাশির ওষুধ খেয়ে, নাকে ড্রপ দিয়ে শুয়েছিলাম। কখন ঘুমিয়েছে জানিনা, তবে শেষ যখন ফোন দেখেছি তখন রাত তিনটে পঁচিশ বাজে। ঘুম তখনও আসেনি। আজ সকাল বেলাতে আর উঠতে হয়নি, কারণ শুভ অফিস থেকে ছুটি নিয়েছিলো।
বাড়িতে একটা অনুষ্ঠানের সমস্তটা গুছিয়ে নিয়ে, পরদিন সময় মতো অফিসের রান্না করে দেওয়ার মতো অবস্থা আমার ছিলো না। আজ যদি অফিসে যেতেই হতো, তবুও আমি রান্না করে দিতে পারতাম না। শরীরের অবস্থা এতোটাই খারাপ। যাইহোক এই সমস্ত প্রতিকূলতার সত্ত্বেও যে শ্বশুর মশাইয়ের জন্য করা এই কাজটা আমরা সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছিলাম, এটাই সবথেকে ভালোলাগার ছিলো।
যাইহোক এইভাবেই কেটেছে আমার গতকালের সারাদিন, যার কিছু অংশ আপনাদের সাথে লেখা ও ছবির মাধ্যমে শেয়ার করলাম।
সকলের সুস্থতা কামনা করি। এই প্রচন্ড গরমে সকলে একটু সাবধানতা অবলম্বন করবেন। ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।









Curated by : @lirvic