"গুমতি দরওয়াজা বা গুন্টি দরওয়াজা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা"

in Incredible India23 hours ago
IMG_20260124_141353.jpg
"দূর থেকে দেখা যাচ্ছে গুমতি বা গুন্টি দরওয়াজা"

Hello,

Everyone,

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।

আজকের পোস্টের মাধ্যমে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো আরো একটি ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা। ইতিপূর্বে গৌড়ের "লুকোচুরি দরওয়াজা" পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা আমি শেয়ার করেছি। আপনারা যারা পোস্টটি এখনো পড়েননি, লিংকটি তাদের জন্য আরও একবার শেয়ার করলাম।

আপনাদের মধ্যে অনেকেই আছেন‌ যাদের ইতিহাসের প্রতি এক অগাধ ভালোবাসা রয়েছে। ঐতিহাসিক বিষয়গুলিকে আরও ভালো ভাবে জানার জন্য যারা উৎসাহী থাকেন, তাদের জন্য গৌড় সত্যিই একটা পছন্দের জায়গা হবে।

IMG_20260101_140049.jpg
"গুমতি দরওয়াজার সম্মুখে দাড়িয়ে তোলা ছবি"

কারণ প্রায় একই জায়গার মধ্যে, সামান্য দূরত্বে ইতিহাসে বিভিন্ন নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে এই গৌড়ে। যার মধ্যে অন্যতম হলো "গুমতি দরওয়াজা (Gumti Darwaza) বা গোমতী দরওয়াজা বা গুন্টি দরওয়াজা। "

"লুকোচুরি দরওয়াজা" সম্পর্কে আপনাদের সাথে বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করার সময় আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম যে, গৌড়ে প্রবেশের এটি ছিল প্রধান পথ এবং এই পথ অতিক্রম করে গৌড়ে ঢুকলে সেখানেই "চিকা মসজিদের" উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এই "গুমতি দরওয়াজা । "

IMG_20260101_140012.jpg
"গোলাপ ফুল গাছের সামনে থেকে তোলা ছবি"

এই দরওয়াজাটিও আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ১৫১২ সালে নির্মাণ করেছিলেন। সেই সময় মূলত ইট এবং পোড়ামাটি দিয়েই এটা তৈরি করা হয়েছিলো।

লুকোচুরি দরওয়াজার থেকে এই দরওয়াজাটা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই ছোট এবং এটি তৈরি করার সময় তুলনামূলক ছোট আকারের ইট ব্যবহার করা হয়েছিলো। একটি কক্ষ বিশিষ্ট এই প্রবেশদ্বারের উপরের অংশটা দেখতে খানিকটা গম্বুজাকার।

IMG_20260101_140200.jpg
"দেওয়ালে বিভিন্ন রঙের কারুকার্য"

তবে এই প্রবেশ পথের মূল আকর্ষণ হলো এখানকার শিল্পকলা। টেরাকোটার বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি এখানে টাইলসের ব্যবহারও করা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে বর্তমানে প্রবেশদ্বারটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে,‌ সেখানে টেরাকোটা কাজের সামান্য নিদর্শন দেখা গেলেও টাইলসের তেমন আলাদা কোনো কাজ লক্ষ্যিত হয়নি।

**যদিও কক্ষটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, ভিতরে প্রবেশের কোনো অনুমতি নেই। তবে বাইরের দিক থেকে কিছু কিছু জায়গায় রংয়ের কারুকার্য আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। চারপাশে চারটি স্তম্ভ করা আছে, তবে তা সম্পূর্ণরূপে চোখে পড়ে না‌ পরলেও, ধ্বংসাবশেষ গুলোর কিয়দাংশ সেখানে রয়েছে। আশেপাশে বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ জায়গাটার সৌন্দর্য্য আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। **

IMG_20260124_141338.jpg
"পোড়া ইটের দ্বারা সুসজ্জিত ছিলো তৎকালীন গুমতি দরওয়াজা"
IMG_20260124_141244.jpg
"গুমতি দরওয়াজার পিছনের দিকের দেওয়াল"

চারিপাশটা ঘুরে ঘুরে দেখলেও মূলত যা নজর কেড়েছে তা হলো সেই সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন রঙের কারুকার্য। তৎকালীন সময়ে মেশিনের আবিষ্কার হয়নি ঠিকই, তবে মানুষের হাতের কাজও কতখানি সূক্ষ্ম ও সুন্দর ছিলো, তা এই সকল ধ্বংসাবশেষে একেবারে সুন্দর ভাবে দৃশ্যমান।

"গুমতি দরজার" একেবারে সম্মুখে রয়েছে "চিকা ইমারত"।**সুলতানি আমলে সাধারণত এটাকে দপ্তর খানা বা অফিস ভবন হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এমনটা ধারণা করা হয় যে, এই কারণেই হয়তো পাশে এই ধরনের একটি প্রবেশপথের নির্মাণ আবশ্যক হয়ে পড়েছিলো।

IMG_20260124_141257.jpg
"রঙের কারুকার্য গুলো সবকটি দেওয়ালেই লক্ষ্যিত হয়"

শিল্পকর্মে ঐসময় বিভিন্ন উজ্জ্বল রং এর সামান্য চিহ্ণ এখনও আংশিকভাবে দৃশ্যমান। তবে কথিত আছে যে এই অলঙ্করণে সেই সময় কিছুটা আসল সোনাও ব্যবহার করা হয়েছিলো।

বাইরে থেকে দরওয়াজাটা পরিদর্শন করার অনুমতি থাকলেও, ভিতরে ঢুকে সম্পূর্ণ জায়গাটা দেখার অনুমতি নেই। এটি এখন ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের অধীনে একটি সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ, যা পরিদর্শন করার অভিজ্ঞতা একেবারেই অনন্য।

IMG_20260124_140643.jpg
"লাল গোলাপ ফুল গাছের সমাহার"

এর পরেই আমরা গিয়েছিলাম এই গোমতী দরওয়াজার ঠিক সামনে অবস্থিত "চিকা ইমারত" পরিদর্শন করতে। অনেকে যাকে "চিকা মসজিদ" বলে।

তা পরিদর্শন করার‌ পর কেমন অভিজ্ঞতা হলো‌ তা পরবর্তী পোস্টে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আজকের "গোমতী দরওয়াজা" সম্পর্কে পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো এবং সেখানের তোলা বিভিন্ন ছবিগুলো দেখে আপনাদের এই জায়গাটা দেখবার ইচ্ছা জাগ্রত হল কিনা, তা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।

সকলে ভালো থাকবেন।

Sort:  
 18 hours ago 

Thank you for your support @wirngo. 🙏

Loading...