"কিছু খবর মিথ্যে হলেই ভালো হতো"
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
হঠাৎ একটা মর্মান্তিক খবরে একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেলাম। "প্রয়াত রাহুল অরুণাদায় বন্দোপাধ্যায়" এই শিরোনামটা চোখে দেখলেও মন যেন কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলো না।
আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় এইরকম ভুয়ো খবর এতো বেশি ছড়িয়ে পড়ে যে, প্রত্যেকটা খবরকে প্রথমবার দেখে একেবারেই বিশ্বাস করতে পারি না। অনেক সময় দেখা যায় হেডলাইনে যা লেখা থাকে, ভিতরের খবর সম্পূর্ণ অন্য। এক্ষেত্রে আমি তেমনটাই ভেবেছিলাম।
হয়তো কোনো সিনেমা কিংবা সিরিয়ালের শুটিংয়ের কোনো একটা অংশ তুলে, এমন একটা খবর দিয়ে দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। তাই খুব একটা আমল না দিয়ে ফোন রেখে কাজ করছিলাম। কিন্তু পরে একই ভিডিও আসতে থাকায়, একটু থামলাম। খবরটাকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিতে পারলাম না।
মৃত্যু আমাদের প্রত্যেকের জীবনের সবথেকে বড় সত্যি। এ কথা সকলেরই জানা। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই মৃত্যু এমন অতর্কিতে আসে যে, তা মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। ব্যক্তিগতভাবে আমার পছন্দের অভিনেতা ছিলেন তিনি। সদ্য তিনি "সহজ কথা" নামক নিজের একটা পটকাস্ট শুরু করেছিলেন। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি ওনার ছেলের নাম "সহজ বন্দোপাধ্যায়"।
সেখানে বেশ কিছু অভিনেতা, অভিনেত্রী, গায়ক গায়িকাদের ইন্টারভিউও দেখেছি। তার ব্যক্তিগত জীবনের অনেকাংশও খবরের শিরোনামে থেকেছে বরাবর। তবে সেই সব নিয়ে আমার সত্যিই কোনো বক্তব্য নেই তবে থিয়েটার, সিনেমা, সিরিয়ার, রাজনীতি সবদিকেই তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। মোট কথা বাংলা চলচ্চিত্র জগতের তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবেন একথা অনস্বীকার্য। সত্যি মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে তিনি অতীত হয়ে গেলেন।
তবে এমন একজন মানুষ মাত্র ৪৩ বছর বয়সে মারা যাবে, এই বিষয়টা মেনে নিতেই খারাপ লাগছে। আসলে গত কয়েক মাসে যতগুলো মৃত্যুর সংবাদ শুনেছি, প্রত্যেকেরই বয়স একেবারেই কম। সেটা আমাদের প্রতিবেশী হোক, কিংবা পরিচিতদের মধ্যে।
তখনই একটা কথা আমার বারবার মনে আসছে,- এই পৃথিবীতে আমরা প্রতিনিয়ত একে অপরের সাথে লড়াই করে চলেছি। কখনো অর্ধ প্রতিপত্তি নিয়ে অহংকার করে চলেছি, একে অপরকে ঠকিয়ে চলেছি, মিথ্যের আশ্রয় নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করে চলেছি, তবে এতো কিছু করার আসলেই কি কোনো প্রয়োজন আছে? চোখ বুঝলেই এই পৃথিবীতে সব থেকে যাবে, শুধু আমরাই চলে যাবো। সাথে করে কোনো কিছুই তখন নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না, কিন্তু তবুও আমরা লড়াই করে চলেছি অনবরত।
![]() |
|---|
ভাবুন তো রাহুলের জীবনে কতো স্বপ্ন পূরণ বাকি ছিলো। সন্তানকে বড় করা বাকি, জীবনে তাকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখা বাকি, স্ত্রী সন্তানের সাথে অনেক সুন্দর মুহূর্ত কাটানো বাকি, আরও সুন্দর সিনেমা, সিরিয়াল দর্শককে উপহার দেওয়া বাকি ছিলো। এই সমস্ত কিছু বাকি রেখেই সে কিন্তু আজ পরপারে গমন করেছে। এটাই তো জীবনের সবথেকে বড় সত্যি, অথচ এই সত্যিটাকে অস্বীকার করে প্রতিদিন আমরা জীবন নিয়ে অহংকার করে চলে গেছি।
তবে সবথেকে বেশি যা অনুভব করলাম, এইসব মানুষের এখনও পৃথিবীকে অনেক কিছু দেওয়ার ছিলো। অথচ কত কম বয়সে তারা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে বাধ্য হলো। কিন্তু উল্টোদিকে আমার শ্বশুর মশাইয়ের মতো না জানি কতো মানুষ এই পৃথিবীতে আজও রয়েছে।
যাদের কাছ থেকে এই পৃথিবীর আর কিছু পাওয়ার নেই। জীবনের অনেকগুলো বছর তারা এই পৃথিবীতে নিজের জীবন উপভোগ করেছেন। আজ তাদের পরলোকে যাওয়ার সময় হয়েছে, কিন্তু তবুও ঈশ্বর তাদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।
সত্যিই এই পৃথিবীতে ওনাদের এতো কষ্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার হয়তো কোনো প্রয়োজন নেই। তবে এই কথাগুলো আমি বা আমরা হয়তো নিজেদের মতন করে ভাবি। তবে ঈশ্বরের পরিকল্পনা আমাদের সবার থেকে আলাদা। তাই তিনি যার ভাগ্যে যতোটুকু আয়ু রেখেছেন, ততগুলো বছর আমরা প্রত্যেকেই বাঁচবো।
সেদিক থেকে হয়তো রাহুল ছিলো দুর্ভাগা। তাই এতো কম বয়সেই তাকে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হলো। সত্যি ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত না হলেও কিছু মানুষের মৃত্যু মনে কি অদ্ভুত ভাবে দাগ টানে।
তবে একথাও সত্যি যে, এই পৃথিবীতে কোনো কিছুই দীর্ঘস্থায়ী নয়। কিছুদিনের মধ্যে আমরাও ভুলে যাবো এই রাহুলকে। হয়তো তার অভিনয় যখন দেখবো, তখন মনে পড়বে ক্ষণিকের জন্য। আমাদের জন্য হয়তো একজন অভিনেতা মারা গেলেন। কিন্তু তার পরিবার-পরিজনের কাছে তার এই চলে যাওয়া সারা জীবনের এক অপরনীয় ক্ষতি। তবুও এই ক্ষতি মেনে নিয়েই তারাও জীবনে এগিয়ে চলবে। প্রকৃতিই হয়তো চালিয়ে নেবে।
যাইহোক খবরটা দেখে এতটাই খারাপ লাগলো যে, সেই অনুভূতিটাই আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। অবশ্যই আমি তার জন্য যতই অপরিচিত হই না কেন, তবুও তার আত্মার চিরশান্তি কামনা করি। পাশাপাশি তার পরিবারের প্রত্যেককেই ঈশ্বর যেন এই গভীর শোক সহ্য করার শক্তি দেন, এই প্রার্থনাও রইলো।
|
|---|


দিদি, আশা করি ভালো আছেন।
সত্যি বলতে, কাল যখন আপনার পোস্টটি পড়েছিলাম তখন আমার বিশ্বাস হচ্ছিলো না কারন সোশ্যাল মিডিয়া খুব বেশি ব্যবহার না করায় এই দুঃখজনক ঘটনাটা আমার অজানা ছিলো।
আপনার পোস্টটি পড়ে সঙ্গে সঙ্গে আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবেশ করি এবং ঘটনাটা সম্পর্কে অবগত হই।
মৃত্যু প্রত্যেকের জীবনে অবধারিত তবে কিছু ঘটনা মেনে নিতে কষ্ট হয়। নিয়তির কাছে হার মেনে যায় তাজা প্রাণ। সত্যি ঘটনাটা ব্যক্ত করার মতো ভাষা নেই। 😥