"আজ আবারও উপলদ্ধি করলাম সময় পরিবর্তনশীল, এটা চিরন্তন সত্যি"
![]() |
|---|
Hello,
Everyone
আজকালকার দিনে আমরা প্রত্যেকেই যেন যান্ত্রিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। রুটিন মাফিক প্রত্যেকেই নিজেদের জীবনের প্রতিটা দিন পার করে চলেছি। মানুষের সাথে আত্মিক সম্পর্ক দিনে দিনে কমতে শুরু করেছে, তাই মনের কথা শেয়ার করার থেকেও আমরা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি সোশ্যাল মিডিয়ার সময় কাটাতে।
অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেন এটাই অনেক বেশি ভালো। কারণ আজকালকার দিনে আমাদের মনের কথা শেয়ার করার মত মানুষের বড্ড অভাব। খুব কাছের মানুষেরাও আজকাল ধৈর্য্য ধরে কারোর সমস্যার কথা শুনতে চান না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় শোনার পরে সেটা নিয়ে আরও কিছু মানুষের সাথে আলোচনা করেন। ফলতো কথাটা আরও কিছু মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। যা হয়তো সেই ব্যক্তি চাননি।
আর ঠিক এই কারনেই কোথাও না কোথাও আমরা নিজেরাই নিজেদের জীবনের কাছের মানুষদের মাঝে অদৃশ্য দেওয়াল তৈরি করেছি। যেটা ভেদ করে নিজের জীবনে অত্যন্ত গোপনীয় কথা আমরা অন্য কাউকে বলা থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখি।
না, আমি সকলের কথা বলছি না। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি কিন্তু বর্তমানে এই পথটাই অবলম্বন করি। জীবনের ঘাত প্রতিঘাত আমাকে বুঝিয়েছে, যারা নিজেদের খুব কাছের বলে জাহির করে তার আদেও কাছের হয় না। বরং তারাই সেই সব মানুষের দলে পরে, যারা বিশ্বাসঘাতকতা করে।
এমনটা একবার নয়, বেশ কয়েকবার আমার নিজের জীবনে ঘটেছে। আজ হঠাৎ করে এই কথাগুলো কেন লিখছি, যদি জানতে চান, তাহলে সবটা বলতে না পারলেও এটুকু জানাই, এক পুরোনো আঘাতের মুহূর্ত আজ আবার নতুন করে মনে পড়েছে। ভুলে যাওয়ার ভান করলেও যে কষ্টগুলো মাঝে মধ্যে উঁকি দেয়, আজ তেমনই একটা দিন।
![]() |
|---|
তবে হ্যাঁ আমি এটা বুঝতে শিখেছি, কিছু জিনিস বা কিছু সম্পর্ককে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করা বৃথা বা বোকামি। কিছু কিছু সময় সেগুলো ছেড়ে দিতে হয়। তাতে প্রত্যাশা কমে, আর সেই সাথে কষ্টও। তবে অবাক লাগে যখন সেই ছেড়ে দেওয়া জিনিস বা সম্পর্ক গুলো পুনরায় এসে আমাদের কাছে বাঁধা পরতে চায় তখন।
তবে ততক্ষণে অনেকেই মনকে শক্ত করে ফেলে, অনেকের মনের অনুভূতি একেবারে তলানিতে ঠেকে যায়। তখন চাইলেও যেন মন থেকে আর অন্য কোনো অনুভূতি নতুন করে জন্মায় না। ফলতো অনেক সময় উল্টো দিকের মানুষের কাছে সেগুলো অহংকার, দম্ভ, হিসেবে পরিচিতি পেলেও নিজের কাছে সেটা শুধুমাত্র আত্মমর্যাদা হয়েই রয়ে যায়। আর সকলে যে নামেই তার ব্যাখ্যা করুক না কেন, এতোটুকু আত্মমর্যাদাবোধ প্রতিটি মানুষের থাকা উচিত।
কাছের মানুষগুলোর ভালো থাকা আমাদের প্রত্যেকের কাম্য। তবে তার থেকেও বেশি কাম্য হওয়া উচিত নিজের ভালো থাকা। তবে বেশিরভাগ সময় আমরা নিজেকে তুচ্ছ করে, অন্য মানুষের ভালো থাকা নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকি। যে কারণে সবথেকে বেশি খারাপ থাকে আমরাই।
তাই পরিবর্তন যদি করতেই হয় তাহলে অন্যকে নয়, নিজেকে পরিবর্তন করাই সমীচীন। তাতে কষ্ট কম, প্রত্যাশা কম,তবে ভালো থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায় অনেকখানি।
এভাবেই ভালো থাকুক সকলে, এই প্রার্থনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। ভালো থাকবেন।

