"বাড়ি ফেরার মুহূর্ত"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
বেশ কয়েকদিন আগের পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম, গত বছরের শেষ দিন এবং এই বছরের শুরুটা বাড়ির থেকে অনেকটা দূরে কেটেছিলো। কারণ আমি এবং শুভ দুজনে মিলে মালদার গাজোলে আমার জ্যেঠুর ছেলে অর্থাৎ আমার দাদার বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিলাম।
আর সেখান থেকে ফেরার সময় আমার বৌদি এবং দাদার ছেলে আমাদের সাথে এসেছিলো আমাদের বাড়িতে। আসলে ওরা আমাদের সাথে আসবে বলেই, আরও একটা দিন বেশি থাকতে হয়েছিলো। কারণ তৎকালের টিকিট কাটলেও টিকিট ওয়েটিং ছিলো, সে কথা পূর্বেরই পোস্টে আমি শেয়ার করেছিলাম।
মাঝের কটা দিন বেশ আনন্দ করে দাদাদের বাড়িতে কেটেছিলো। যদিও ওখানে আমাদের এখানকার তুলনায় অনেক বেশি ঠান্ডা, কিন্তু তৎসত্ত্বেও সকলে মিলে বেশ আনন্দের সাথে কাটিয়েছিলাম দিনগুলো। তবে আজএই পোস্টের মাধ্যমে আমাদের বাড়িতে ফেরার মুহূর্ত গুলো শেয়ার করতে চলেছি,-
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
এর আগে যখন দাদাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম তখন ফেরার দিন দাদার ছেলের ভীষণ মন খারাপ ছিলো। তবে এ বছর আর মন খারাপ করেনি, বরং এইবার অনেক বেশি আনন্দে ছিলো। কারণ ও আমাদের সাথেই আসছিলো।
যাইহোক আমাদের ট্রেন গাজল থেকে ৮.২০ মিনিটে ছিলো। তাই আমরা ঠিক করেছিলাম রাতের খাওয়া দাওয়া সেরেই ট্রেনে উঠবো, যাতে আর আলাদা করে কোনো খাবার সাথে করে নিতে না হয়। তবে দুপুরের দিকে শুভ দোকান থেকে কেক, বিস্কুট, চকলেট এই সমস্ত টুকটাক খাবার নিয়ে এসেছিলো। যাতে রাতের দিকে খিদে পেলে আমরা সেগুলোই খেতে পারি।
সন্ধ্যার পর আমি আর বৌদি মিলে রুটি তৈরি করেছিলাম, তার সাথে দুপুরের ভাতও ছিলো কিছুটা। তাই সময়মতো খাওয়া-দাওয়া করে দাদার জন্য রাতের খাবার গুছিয়ে রেখে, আমরা আটটা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলাম। দাদার গাড়িতে করে স্টেশনে আসতে আমাদের পাঁচ থেকে সাত মিনিট সময় লেগেছিলো। তারপর কিছুক্ষণ স্টেশনে আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হয়েছিলো।
![]()
|
|---|
কিছুক্ষণ বাদে ট্রেনের খবর হতেই, আমরা আমাদের টিকিট দেখে কামরা নাম্বার অনুযায়ী খানিকটা এগিয়ে যেতে থাকলাম। আমার দাদার ছেলে অর্থাৎ ধীরাজ লাগেজ টেনে নিয়ে যেতে ভীষণ পছন্দ করে। তাই এই দায়িত্বটা ও নিয়েছিলো। ট্রেনে ওঠার একটু আগেই শুভ আর ধীরাজ দুজনে একসাথে দাঁড়িয়ে, আমাকে ছবি তুলে দেওয়ার কথা বলেছিলো। তাই স্মৃতি হিসেবে ওদের একটা ছবি তুলে দিয়েছিলাম।
কিছুক্ষণের মধ্যে ট্রেন এলো। দাদা আমাদের ট্রেনে তুলে, নির্দিষ্ট সিট নম্বর দেখিয়ে দিয়ে, নেমে এলো। আমরাও দাদাকে বিদায় জানিয়ে রওনা হলাম কলকাতার উদ্দেশ্যে। সকাল ৪:৫০ মিনিটের ট্রেনটি শিয়ালদায় পৌঁছাবে। তাই রাতে মোটামুটি সকলেই ঘুমানোর ব্যবস্থা করেই এসেছিলাম।
![]()
|
|---|
প্রচন্ড ঠান্ডা ছিলো, তাই সকলে নিজেদের মতো কম্বল বের করে নিয়েছিলাম। তবে দুঃখের বিষয় এবার ফেরার সময় আমাদের তিনটি সিট আপার ছিলো,আর একটা ছিলো মিডিলে, লোয়ারে কোনো সিট আমরা পাইনি। সেই মুহূর্তে বিষয়টা খারাপ লাগলেও, পড়ে মনে হলো এটা বেশ ভালোই হয়েছে। শান্তি মতো একটু ঘুমানো গিয়েছিলো।
![]()
|
|---|
যাইহোক ট্রেন চলতে শুরু করার পর আমরা প্রত্যেকে নিজেদের মতো করে কিছুক্ষণ গল্প করলাম। এরপর যার যার সিটে যাওয়ার জন্য তৈরি হলাম। ধীরাজ অনেক আগেই উপরে চলে গিয়েছিলো তাই ও যখন নিজে ঝুঁকে আমাদের সাথে গল্প করছিল তখন উপরের ছবিটি আমি তুলেছিলাম।
ইচ্ছে ছিলো শুয়ে শুয়ে একটা পোস্ট লিখবো, কিংবা কিছু পোস্ট ভেরিফাই করবো। তবে নেটওয়ার্কের যা অবস্থা দেখলাম, তাতে ফোন চালাতে বড্ড বেশি বিরক্তিকর লাগছিলো। তাই ফোনটা বন্ধ করে ব্যাগে ঢুকিয়ে, কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে ছিলাম। কখন ঘুমিয়ে গেছি সত্যি বুঝতে পারিনি।
একটু যখন ঘুম ভাঙলো, তখন ট্রেন কোনো একটা স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিলো। বুঝতে পারছিলাম না কোন স্টেশন, তবে কিছুক্ষণ বাদে অ্যানাউন্সমেন্টের দিকে কান পাততে বুঝতে পারলাম, ইতিমধ্যে আমরা নৈহাটি পৌঁছে গিয়েছি। তাই শিয়ালদহ আসতে আর খুব বেশি দূর বাকি নেই সে কথা বুঝতে অসুবিধা হলো না।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা শিয়ালদহ পৌঁছে গিয়েছিলাম। এরপর সকলের মতো আমরাও নিজেদের জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে শিয়ালদহ প্লাটফর্মে নামলাম। সেখান থেকে আমাদের বাড়ি ফেরার ট্রেন পেতে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো। তবে অন্যান্য সময় শিয়ালদা স্টেশনে যতখানি ভিড় চোখে পড়ে, তার তুলনায় অনেকটাই কম ছিলো যেটা খুব স্বাভাবিক। কারণ অত ভোরে যারা ট্রেন থেকে নেমেছিলো, মূলত তাদেরই ভিড় ছিলো প্লাটফর্মে।
যাইহোক বেশ কিছুক্ষণ পর আমাদের ট্রেনের অ্যানাউন্সমেন্ট হলো এবং আমরা সকল ব্যাগ পত্র নিয়ে নির্দিষ্ট প্লাটফর্মে পৌঁছালাম। তবে ততক্ষণে ট্রেন দিয়ে দিয়েছিলো, তাই মোটামুটি ভীড় হয়েছিলো। কারণ বেশিরভাগ প্যাসেঞ্জার আমাদের মতোই ভোরের দিকের বিভিন্ন এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে নেমে, নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্যই অপেক্ষা করছিলো।
![]()
|
|---|
যাইহোক একসঙ্গে একই কামরার মধ্যে চারটি সিট পাওয়া কঠিন বলে, আমি, বৌদি ও দাদার ছেলে লেডিসে উঠেছিলাম। কারণ তখন লেডিস কামরা একেবারেই ফাঁকা ছিলো। আর জেনারেল কামরাতে শুভ একার জন্য একটা সিট ম্যানেজ করতে পেরেছিলো।
![]()
|
|---|
ট্রেন যখন চলতে শুরু করলো, তখন প্রচন্ড শীত লাগছিলো। লোকাল ট্রেনের দরজাটা কতখানি বড় হয়, সেটা যারা ট্রেনে যাতায়াত করেন তারা আন্দাজ করতে পারবেন। তার উপর দরজাটা পুরো খোলা ছিলো। তাই ঠান্ডা বেশি লাগছিলো।
![]()
|
|---|
যাইহোক বাইরে তখনও রোদের আলো ফোটেনি। ঠান্ডাও ছিলো প্রচন্ড। তার সাথে কুয়াশাও ছিলো। যদিও শহরের দিকে কুয়াশা ততখানি বোঝা যায় না, তবে বেশ কিছুটা এগিয়ে আসার পর বাইরের দিকে চোখ পরতেই দেখলাম ঘন কুয়াশা পড়েছে।
যাইহোক ধীরাজের সাথে এবং বৌদির সাথে গল্প করতে করতে, বাইরের কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ দেখতে দেখতে ট্রেন এসে পৌঁছালো দত্তপুকুর প্লাটফর্মে। সেখান থেকে নেমে শুভর সাথে দেখা করে, সকলে মিলে একসাথে রওনা করেছিলাম আমাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
![]()
|
|---|
এই জার্নিটা আমরা সকলে মিলে খুব উপভোগ করেছি। কারন আমরা একসাথে ফিরেছি। যদি বৌদি এবং ধীরাজ আমাদের সাথে না আসতো, তাহলে এই ফিরে আসাটাই সবথেকে বেশি কষ্টের হতো। একদিকে আমরা ফিরে আসতাম, তাই নিজেদের একটা খারাপ লাগা থাকতো। আর অন্যদিকে ধীরাজ এবং বৌদিও আমাদেরকে ছাড়া বাড়িতে একা থাকতো, তাই ওদেরও খারাপ লাগা কাজ করতো।
যাইহোক বাড়িতে পৌঁছানোর পরের দিনগুলো বৌদিদের সাথে আমরা অনেক আনন্দের সহিত কাটিয়েছি। ওদেরকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গাতে ঘুরেছি, যার অভিজ্ঞতা পরবর্তী পোস্টগুলোতে একে একে আপনাদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করে নেবো।
তাই বাড়ি ফেরার পর্বের এখানেই ইতি টানলাম। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কাটুক এই প্রার্থনা রইলো। ভালো থাকবেন।











