"পাপমোচনী একাদশী ব্রত পালনের কিছু মুহুর্ত"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটা খুব ভালো কেটেছে।
হিন্দু শাস্ত্র মতে একাদশীর উপবাস পালন করা অত্যন্ত পূন্যের কাজ হিসেবে ধরা হয়। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি এই সকল উপবাসগুলো কখনোই কাউকে জোর করে করানো উচিত নয়। নিজের মন থেকে যখন এই ব্রত পালনের ইচ্ছা জাগ্রত হবে, কেবলমাত্র তখনই বোধহয় এই উপবাস পালন করার পূন্য অর্জন করা সম্ভব।
কারণ এমন কিছু কিছু কাজ আছে যেগুলো জোর করে কখনোই করা উচিত নয়। তাতে আর যাই হোক সেই কাজটি সফলভাবে করা সম্ভব হয় না।
যারা আমার পুরনো পোস্ট নিয়মিত পড়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই জানেন বর্তমানে আমি একাদশীব্রত পালন করি। অবশ্য এখনই যে প্রথম এমনটা নয়, আমার মা মারা যাওয়ার পর এক বছর পর্যন্ত আমি একাদশী ব্রত পালন করেছিলাম। কিন্তু তারপর সেটা আবার বন্ধ করে দিয়েছিলাম।
![]()
|
|---|
তবে সময় এবং পরিস্থিতি মানুষকে জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু শেখায়, মানুষকে আরও পরিণত করে। যেখানে আমাদের মনের ইচ্ছাগুলোর পরিবর্তন হয়। তবে কত কয়েক বছরে আমার মধ্যেও হয়তো পরিবর্তন এসেছে, এই কারণে আমার মনে হয়েছে আবারও এই ব্রত পালন করা শুরু করবো এবং তেমনটাই করছি।
গত রবিবার ছিল চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথি। এই দিনটিতে যে একাদশী ছিলো তার নাম ছিল পাপমোচনী একাদশী। মানব জীবনে আমরা ছোট বড় অনেক পাপ করে থাকি, যেগুলো হয়তো আমাদের চোখে পড়ে না, বা আমরা উপলব্ধি করি না। কিন্তু যেমনটা আমরা সকলেই জানি, আমাদের কোনো কার্যক্রমই ঈশ্বরের কাছে লুকানো সম্ভব হয় না। তাই আমাদের পাপের হিসেব তিনি রাখেন। আর এই পাপমোচনী একাদশী পালনের মাধ্যমে সেই পাপের কিছু অংশ দূর হয় বলেই সকলে বিশ্বাস করেন।
আমার দু একদিন আগের পোস্টে আপনাদেরকে জানিয়েছি আমাদের বাড়িতে শুভর মাসির বেড়াতে এসেছেন। সৌভাগ্যবশত তিনিও একাদশী ব্রত পালন করেন। আর এই দিন যেহেতু তিনি আমাদের বাড়িতেই ছিলেন, তাই আমরা দুজনে মিলেই ব্রত পারেন করেছিলাম।
![]()
|
|---|
আমি একা থাকতে অবশ্য তেমন বেশি ফল বাজার থেকে কিনে আনা হয় না। কারণ আমি শুধুমাত্র দুপুর বেলাতেই আমি একটু ফল খাই। তবে মাসি শাশুড়ি থাকার কারণে আমার শাশুড়ি মা আগের দিন বাজারে গিয়ে ফল কিনে এনেছিলেন। যেগুলো ঠাকুরের সামনে ভোগ দিয়ে দুপুর বেলায় সেইগুলোই প্রসাদ পেয়েছিলাম।
মাসি শাশুড়ি বাড়িতে থাকলে রাতের দিকে আলুর কোনো একটা তরকারি রান্না করে খান। তবে আমি আর আলাদা করে কোনো তরকারি রান্না করি না। শুধু আলু সেদ্ধ করে শসা, লবণ, বাদাম, সামান্য লঙ্কা দিয়ে খেয়ে নিই। রাতের দিকে থেকে ফল থেকে আমার একেবারেই ভালো লাগেনা।
![]()
|
|---|
তবে এদিন সন্ধ্যা বেলায়ও ফল দিয়ে ঠাকুরকে ভোগ দিয়েছিলাম। তারপর রাতের দিকে আলু সেদ্ধ করে আমি এবং মাসি শাশুড়ি দুজনেই খেয়েছিলাম। এই দিন আমি আমার মতো করে আলু সেদ্ধ তৈরি করেছিলাম, সেটা খেয়ে মাসি শাশুড়িরও বেশ ভালো লেগেছে।
![]()
|
|---|
যদিও আমি প্রতিদিন পুজো দেওয়ার পর ভগবতগীতা পাঠ করি। তবুও কেন জানি না একাদশী ব্রত পালনের দিন এই পাঠ আরও বেশি মধুর লাগে শুনতে। এর সাথে আমি একাদশীর ব্রতকথাও পড়ি। আমাদের জীবনের প্রত্যেকটা পরিবর্তন অবধারিতভাবেই আসে। আমরা চাইলেও সেই পরিবর্তন গুলিকে আটকাতে পারি না। কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তনগুলো আমরা মেনে নিতে বাধ্য হই, তবে সেগুলো আমাদের জীবনে চাপ সৃষ্টি করে।
![]()
|
|---|
তবে কিছু পরিবর্তন এমনও থাকে যেগুলো আমরা স্বইচ্ছায় গ্রহণ করি, যা আমাদেরকে মানসিক চাপ মুক্ত করে। অন্তত ব্যক্তিগতভাবে আমি এমনটাই অনুভব করি। ঠাকুরের প্রতি বিশ্বাস করা বা না করা, প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত অনুভূতি। তবে এই পৃথিবীতে এমন কিছু ঘটনা আজও ঘটে, যা ঈশ্বরের উপস্থিতি সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করে। অবশ্য যারা নাস্তিক মানুষ তাদের কাছে এর অন্যরকম ব্যাখাও রয়েছে।
তবে আমি এইসব বিতর্কে যেতে একেবারেই পছন্দ করি না। কারণ আমার বিশ্বাস আমার কাছেই সত্যি। যাইহোক এই রবিবারে একাদশীর ব্রত কিভাবে পালন করেছিলাম তার কিছু মুহূর্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম, আশাকরছি আপনাদের পোস্ট পড়ে ভালো লাগবে।
আপনাদের মধ্যে কারা কারা নিয়মিতভাবে একাদশী ব্রত পালন করেন, তা অবশ্যই মন্তব্যের মধ্যে জানাতে ভুলবেন না। সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের লেখা শেষ করছি।
ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।






Thank you for your support 🙏.