"পিয়ালীর বিয়ের রীতি: 'আইবুড়ো ভাত' ও 'বিদ্ধি'র আনন্দের মুহূর্ত"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
আজকে আমি আপনাদের সাথে পিয়ালীর বিয়ের পরবর্তী পর্বের গল্প শেয়ার করতে চলেছি। আগের পোস্টে আপনাদের সাথে মেহেন্দির পর্ব শেয়ার করেছিলাম এবং তারপরে হয়েছিলো পিয়ালীর আইবুড়ো ভাত।
বিয়ে ঠিক হওয়ার পর থেকে মোটামুটি সকল আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধবী সকলের বাড়িতেই আইবুড়ো ভাত খাওয়া হয়েছে। তবে ওদের বাড়িতে এই আইবুড়ো ভাতের আয়োজনটা বিয়ের আগের দিনের জন্যই রাখা হয়েছিলো। আগের পোস্টেই জানিয়েছি দুপুরে তাড়াহুড়োর কারণে গুছিয়ে সব কিছু আয়োজন করা সম্ভব হয়নি, তাই রাতে সবকিছু আয়োজন করা হয়েছিলো।
![]()
|
|---|
বিয়ের আগে নিজের বাড়িতে সেদিনই ছিলো ওর শেষবার ভাত খাওয়া। কারণ বিয়ের দিন সারাদিন ভাত খাওয়ার নিয়ম নেই। সকালে দধিমঙ্গলের নিয়ম হয়ে যাওয়ার পর দইচিড়ে খেতে হয়। তারপরে আর কিছু খাওয়ার নিয়ম নেই। তবে বর্তমানে অনেকেই এই নিয়মটি মানে না।
আমার মনে হয় সবটাই নিজের মনের ব্যাপার, কারণ এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যেখানে সকল নিয়মকানুন পালন করে বিয়ে করার পরেও, সেই বিয়ে কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভেঙে গেছে।
বিয়েটা আসলে একটা পবিত্র সম্পর্কের বন্ধন, খানিকটা পূজোর মতনই। তাই উপোস থেকে যদি কেউ বিয়ে করতে চায়, তাহলে করতেই পারে। আবার অন্যদিকে যদি কেউ না চায়, তাহলে নাও করতে পারে। তবে পিয়ালীর ইচ্ছা ছিলো ও উপোস থাকবে। ফলতো হিসেব মতন সেদিন রাতেই ছিলো বাপের বাড়িতে, বিয়ের আগে ওর শেষ খাওয়া।
![]()
|
|---|
ওর মা ওর পছন্দের রান্না গুলো নিজের হাতে করেছিলেন। পরে আমরা সকলে মিলে সেগুলোকে মাটির থালায়, খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়ে ওকে খেতে দিয়েছিলাম। মেহেন্দির পোশাক পরিবর্তন করে ও একটা শাড়ি পরে নিয়েছিলো। যেটা ওর মা ওর জন্য কিনেছিলো। যদিও অতো খাবার ওর পক্ষে খাওয়া সম্ভব হবে না জানতাম, তবে নিয়ম রক্ষার ক্ষেত্রে ওর মায়ের হাতে সমস্ত পদ একটু একটু খেয়ে নিলো।
তারপর আমরা সকলে মিলে বসলাম করলাম ওর পাশে। যদিও আগেই আমাদের রাতের খাওয়া শেষ হয়ে গিয়েছিলো, তবে বান্ধবীর সাথে একসাথে বসে, আনন্দ সহকারে কিছু কিছু জিনিস আমরাও খেলাম এবং সময়টাকে দারুণ উপভোগ করলাম।
![]()
|
|---|
তারপরে অবশ্য আমরা আর খুব বেশি দেরি করিনি। তাড়াতাড়ি করে বাড়িতে ফিরে এসেছিলাম, কারণ ওখানে রাত প্রায় দুটো বেজে গিয়েছিলো। পরদিন ভোরে উঠে ওর দধিমঙ্গলের নিয়ম কানুন করার ছিলো। তবে অত ভোরে আমরা আসতে পারবো না সেটা ওকে বলেই এসেছিলাম। যথারীতি রাখিদের বাড়িতে এসে, ফ্রেশ হয়ে, পোস্ট লিখে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
পরদিন সকালে উঠে রাখিদের বাড়িতে ফ্রেশ হয়ে, চা খেয়ে নিলাম। ততক্ষণে দু-তিনবার পিয়ালীর ফোন করা হয়ে গিয়েছিলো। তাই খুব বেশি দেরি না করে ড্রেস চেঞ্জ করে আবার পৌঁছে গেলাম ওদের বাড়িতে।
দেখলাম দধিমঙ্গলের নিয়ম শেষ হয়ে যাওয়ার পর, কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ও মেকআপ করতে বসেছে। আসলে যে মেকআপ আর্টিস্ট ঠিক করা হয়েছিলো, সে ওর বৃদ্ধি, গায়ে হলুদ এবং বিয়ের জন্য আলাদা আলাদা মেকআপ করবেন এমনটাই কথা হয়েছিল।
![]()
|
|---|
ততক্ষণে আমরা ঘরের ভিতর বসে ওর জন্য চুলে বাঁধার একটা গাজাড়া তৈরি করছিলাম। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে একটি ভিডিও দেখে ও এই গাজাড়াটা পছন্দ করেছিলো। সেই অনুযায়ী দুই রঙের গোলাপ এবং জিপসি ফুল কিনে এনেছিলো।
সেইগুলো দিয়ে আমি রাখি এবং শ্রীতমা, মানে পাশের বাড়ির একটি বোন, তিনজনে মিলে গাজাড়াটা তৈরি করেছিলাম। শেষ পর্যন্ত সেটা দেখতে অনেকটা উপরে শেয়ার করা ছবির মতন হয়েছিলো, যেটা পিয়ালীরও বেশ পছন্দ হয়েছিলো।
![]()
|
|---|
যাইহোক ওর সাজগোজ হয়ে যাওয়ার পর ওর কয়েকটা ছবি তুলে, আমরা আবার বাড়িতে চলে এলাম। কারণ গায়ে হলুদের জন্য জল আনতে যাওয়ার সময় হয়ে আসছিলো।
![]()
|
|---|
পাশাপাশি আমার দিদির ছেলে মেয়ে অর্থাৎ তিতলি ও তাতানেরও আসার সময় হয়ে গিয়েছিলো। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি পিয়ালী আমার দিদিদেরকেও নিমন্ত্রণ করেছিলো। তাই দিদিরা বিয়ের দিন দুপুরে এসেদিলো।
গায়ে হলুদের জন্য জল ভরতে যাওয়ার সময় তিতল ও তাতানকে সাথে নিয়ে যাবো বলেই ওদেরকে একটু আগে আসতে বলেছিলাম। কারণ বাচ্চারা এই সকল অনুষ্ঠানগুলি খুব উপভোগ করে।
![]()
|
|---|
যাইহোক এর পরবর্তী পর্বে আপনাদের সাথে গায়ে হলুদের মুহূর্ত গুলো উপস্থাপন করবো। একই পোস্টে সবটা উপস্থাপন করতে গেলে পোস্টটা অনেকটাই বড়ো হয়ে যাবে।তাই আজ এই পর্যন্তই থাকলো। আপনারা সকলে প্রার্থনা করবেন যেন পিয়ালীর বিবাহিত জীবন অনেক সুখের ও আনন্দের হয়।
আপনারা সকলে ভালো থাকুন, এই প্রার্থনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। শুভরাত্রি।








Thank you for your support 🙏.