" অনলাইন প্রতারণার ফাঁদে"

in Incredible India6 hours ago
IMG_20260318_193522.jpg
"ননদের ফোন‌ থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট‌, যেটা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আমার ফোনে পাঠিয়েছিলো। এই নম্বর থেকে কল ও‌ ম্যাসেজ করেছিলো হ্যাকাররা"

Hello,

Everyone,

খুবই খারাপ, অবিশ্বাস্য অথচ শিক্ষনীয় একটা ঘটনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চলেছি এই পোস্টের মাধ্যমে। দুপুরের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তিত আমরা সকলে।

দুপুরবেলায় সবেমাত্র পুজো শেষ করে লাঞ্চ করার জন্য খাবার গুলো ডাইনিং টেবিলে আনছি। এই‌রকম সময় হঠাৎ ফোনের রিং শুনতে পেয়ে কাছে গিয়ে দেখলাম আমার ননদ ফোন করেছে। ভাবলাম হয়তো শ্বশুরমশাইয়ের শারীরিক অবস্থা জানার জন্যই ফোন করেছে। তাই নরমালি ফোনটা রিসিভ করলাম‌। তবে উল্টো দিকে ননদের গলা শুনে একটু অস্বাভাবিক লাগলো।

ননদের শাশুড়ি মায়ের শরীরও যথেষ্ট খারাপ, তাই ভাবলাম হয়তো তার কোনো সমস্যা হয়েছে।‌ তবে সে কথা জিজ্ঞাসা করতেই জানতে পারলাম তিনি ঠিকই আছে। তবে শুনলাম ননদের অ্যাকাউন্ট থেকে কিছুক্ষণ আগে ১০ হাজার টাকা কেটে নিয়েছে। হঠাৎ করে বিষয়টি কিছুই বুঝতে পারলাম না। কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই ফোনটা কেটে গেলো। আমি যখন আবার ফোন করলাম তখন ফোন ব্যস্ত পেলাম। বুঝলাম অন্য কারো সাথে হয়তো কথা বলছে। কিছুক্ষণ বাদে ননদ আবার পুনরায় ফোন করলো।

তখন শুনতে পেলাম সম্পূর্ণ ঘটনা। ননদের হাজবেন্ডের ফোনে একটা নাম্বার থেকে ফোন করেছে এবং ওনাকে বলেছে তারা ইলেকট্রিক অফিস থেকে কথা বলছে। প্রতি মাসে অনলাইনের মাধ্যমে ইলেকট্রিক বিল পে করা হলেও, ইলেকট্রিক অফিসের সিস্টেমে নাকি বিল পেন্ডিং দেখাচ্ছে। ননদের হাজব্যান্ড সেই সময় অফিসে ছিলেন, আর একটু ব্যস্ততাও ছিলো।

তারপর সেই ব্যক্তি ননদের হাজবেন্ডকে জিজ্ঞাসা করেছে, তিনি অনলাইনের মাধ্যমে ট্রানজেকশন করছন কিনা। ননদের হাজব্যান্ড সেটা করেন না সুতরাং তিনি জানিয়েছেন যে অনলাইনে তিনি ট্রানজেকশন করেন না, বরাবর তিনি এটিএম কার্ড ব্যবহার করেন। বাড়ির অন্য কেউ অনলাইনে ট্রানজেকশন করেন কিনা সেটা জানতে চাইলে তিনি ননদের কথা বলেন এবং তার ফোন নাম্বারটা দিয়ে দেন।

তবে ওই ব্যক্তি ফোনটা রাখার পর আমার ননদের হাজবেন্ডের‌ বিষয়টা সন্দেহজনক মনে হওয়াতে তিনি সাথে সাথেই আমার ননদকে ফোন করেন এবং সম্পূর্ণ বিষয়টা জানান। পাশাপাশি তিনি এটাও বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি ফোন করে তার ওটিপি চায়, তিনি যেন না দেন।

একটু বাদে একই নাম্বার থেকে ননদের ফোনে ফোন আসে এবং রিসিভ করার পর তাকেও সেই একই কথা বলেন। তবে ননদ জানান এই বিষয়ে ওনরা পরবর্তীতে ইলেকট্রিক অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করে নেবেন।

ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিটি ননদের কাছে জানতে চান তার এই নাম্বারেই হোয়াটসঅ্যাপ আছে কিনা। ননদ হ্যাঁ বলার পর লোকটি হোয়াটসঅ্যাপে একটা মেসেজ পাঠায়। ঠিক এরপরেই যখন ননদ ফোনটা কাটতে যাবে, তখন কোনো ভাবেই‌ আর ফোনটা কাটতে পারছে না। ফোনটা সম্পূর্ণ যেন হ্যাং হয়ে রয়েছে। ইতিমধ্যে ননদ দেখতে পারছেন‌ যে ওনার হাজব্যান্ড ফোন‌ করছে, কিন্তু ননদ তার ফোনটা রিসিভও করতে পারছে না।

এই অবস্থায় ফোনটা দু থেকে তিন মিনিট ছিলো। তারপর অটোমেটিক কলটা কেটে যায় এবং ননদের হাজবেন্ডের কল ঢোকে। তিনি যখনই জিজ্ঞাসা করে ফোন কেন রিসিভ করছিলো না, তখন ননদ ওনাকে বিষয়টি জানায় যে, কিছুক্ষণের জন্য উনি ফোনটা কোনো রকম ভাবেই অপারেট করতে পারছিলেন না।

ননদের হাজব্যান্ড সাথে সাথে একবার অ্যাকাউন্ট চেক করতে বললো এবং যখনই ননদ একাউন্ট চেক করতে গেলো, তখনই দেখে অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ হাজার টাকা কেটে নিয়েছে। তবে ননদ কোনো ওটিপি শেয়ার করেনি, আর না নিজের অ্যাকাউন্ট নাম্বার সম্পর্কে কোনো তথ্য শেয়ার করছে। শুধু এই ফোনটা রিসিভ করেছিলো এবং ঐটুকু কথা বলার পর দুই থেকে তিন মিনিট ফোনটা কোনরকম ভাবে অপারেট করতে পারছিলো না। এইটুকু সময়ের মধ্যে একাউন্ট থেকে টাকা কেটে নিয়েছে।

সাথে সাথেই ননদ আমাকে ফোন করেছে কারণ শুভকে দু তিনবার ফোন করলেও ও ফোন তোলেনি। ননদ ভেবেছিল বিষয়টা আগে শুভকে জানাবে। তবে শুভ ফোন তোলোনি বলে আবার আমাকে পুনরায় ফোন করো। আমিও সম্পূর্ণ ঘটনা শুনে আবার শুভকে ফোন ব্যাক করলাম এবং সম্পূর্ণ বিষয়টা জানালাম। তবে ততক্ষণে ননদের হাজবেন্ডের সাথে শুভর কথা হয়ে গিয়েছিলো এবং শুভর একটা বন্ধু যে সাইবার ক্রাইমে জব করে, তার সাথে ওরা যোগাযোগ করে সমস্ত বিষয়টা জানিয়েছেন।

স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনার পর ননদের প্রচন্ড মন খারাপ, কারণ আমাদের মতন মধ্যবিত্ত পরিবারে ১০ হাজার টাকা কিন্তু একটা অনেক বড় ব্যাপার। অল্প অল্প করে কতদিন ধরে টাকাটা জমিয়েছিলো, সেই সম্পূর্ণ টাকাটা মুহূর্তের মধ্যে যদি অ্যাকউন্ট থেকে উধাও হয়ে যায়, তাহলে বিষয়টা মেনে নেওয়া সত্যিই অনেক বেশি কষ্টকর।

যাইহোক শুভর বন্ধুর সাথে কথাবার্তার মাধ্যমে সমস্ত বিষয়গুলো জানাজানি হলো এবং একটা ডায়েরিও করা হলো। এই সমস্ত কিছুর মাঝখানে অনেকটা সময় পার হয়েছে। কিছুক্ষণ আগে যেটা জানা গেলো, যে টাকাটা অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নিয়েছে কিন্তু কোনো অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়নি। এই টাকা দিয়ে গিফট ভাউচার কেনা হয়েছে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে যেহেতু গিফ্ট ভাউচার কিনেছে, তাই টাকাটা ফেরত পাওয়ার আশা একেবারেই নেই। তবুও চেষ্টা চলছে জানিনা পরবর্তীতে কি হতে চলেছে।

geralt-crime-1862312_1920.jpgSource

সম্পূর্ণ বিষয়টা নিয়ে যখন ভাবছি তখন মনে হচ্ছে এইরকম ঘটনা আমাদের মধ্যে যেকোনো মানুষের সাথে ঘটতে পারে। আধুনিকতা, প্রযুক্তি আমাদেরকে অনেক কিছু দিয়েছে ঠিক, তার সাথে সাথে এই ধরনের অঘটন ঘটার প্রবণতাও বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকটা। আর এই ফোনগুলো এমন ভাবেই আসে যে, অনেক সময় বুঝে ওঠার আগেই সবটা শেষ হয়ে যায়। এমন অনেক মানুষ আছেন যারা এই বিষয়গুলো সম্পর্কে এখনও সচেতন নন। তারা এই ধরনের ফোন পেলে ভীত হয়ে সবটাই বলে দেন।

আবার দেখুন এই ঘটনা। অনেক সময় আমরা সচেতন হলেও, হ্যাকাররা নতুন নতুন পদ্ধতিতে এই সকল কাজ‌ নিমেষেই করে ফেলে। কখনো কখনো মনে হয় অনলাইন ট্রানজেকশন হয়ে অনেক সুবিধা এনে দিয়েছে আমাদের জীবনে। যেখানে ক্যাশ টাকা না থাকলেও, যে কোনো জিনিস আমরা সহজেই কিনতে পারি। এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় মুহুর্তের মধ্যে টাকা পাঠাতে পারি, কিন্তু এই ট্রানসাকশনের কারণেই এইরকম ক্ষতির মুখোমুখি অনেকেই হতে হচ্ছে।

এরকম একটা ঘটনা আমাদের বাড়িতে ঘটে যাবে এটা আসলেই বুঝতে পারিনি। এর আগেও এইরকম বহু ঘটনা খবরের দেখেছি বা পেপারে পড়েছি। তবে ব্যক্তিগতভাবে এই প্রথম কোনো ঘটনার সাক্ষী থাকলাম। অবশ্যই এটি একটা সতর্কতামূলক বার্তা, যেটা এই পোস্টের মাধ্যমে আমি আপনাদের সকলের কাছেই পৌঁছে দিতে চাই।

আজকালকার দিনে ওটিপি শেয়ার না করলেও এই রকম ভাবে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হয়ে যাচ্ছে, সুতরাং আশা করছি আপনারাও বুঝতে পারছেন যে, হ্যাকাররা ঠিক কতখানি এগিয়ে রয়েছে। যাইহোক এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে টাকাটা ফিরে পাওয়ার সত্যিই কোনো সম্ভাবনা নেই, যেহেতু এটা কোনো অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়নি। তবুও এই বিষয়গুলো আমার মতো অনেকের জন্যই শিক্ষনীয় হতে পারে ভেবে, আজ এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে ঘটনাটা শেয়ার করলাম।

আজ গোটা বিশ্ব ব্যাপী এই ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে। তাই এগুলো থেকে বাঁচার জন্য বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা ও ধারণা থাকা জরুরি। তার পাশাপাশি সচেতনতাও প্রয়োজন। আজ এই বিষয়টি লিখতে গিয়ে মনে পড়লো, যে প্ল্যাটফর্মে আমি আপনাদের সাথে এই ঘটনাটা শেয়ার করলাম, এই প্লাটফর্মও কিন্তু এর আওতাভুক্ত।

এখানেও হ্যাকাররা আমাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ফিশিং অ্যাটাক করে থাকে অর্থাৎ কমেন্টের মাধ্যমে অন্যের পোস্টে নিচে বিভিন্ন মন্তব্য ও বিভিন্ন লিংক শেয়ার করে। যেগুলো সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকে না। আবার অনেকেই না বুঝে‌‌ সেই লিংকে ক্লিক করলে, এই ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। তাই সবথেকে জরুরী হলো বিষয়গুলো সম্পর্কে ভালো ভাবে জানা ও সচেতন থাকা।

যাইহোক, আজকের লেখা এখানেই শেষ করলাম। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, সচেতন থাকবেন।

শুভরাত্রি।

Sort:  
Loading...

Coin Marketplace

STEEM 0.07
TRX 0.30
JST 0.058
BTC 71240.73
ETH 2188.95
USDT 1.00
SBD 0.53