"Better life with steem//The Diary Game// 12th March, 2026"

in Incredible India8 days ago

IMG_20260312_225916.jpg
"বৃহস্পতিবারে লক্ষ্মী ঠাকুরের ঘট‌ স্থাপনের প্রস্তুতি পর্বের একটা মুহুর্ত"

Hello,

Everyone,

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটা খুব ভালো কেটেছে।

আমার আজকের দিনটাও মোটামুটি ভালোই কেটেছে। তবে গতকালের সারাটা দিন কর্ম ব্যস্ততায় পার করেছিলাম। বৃহস্পতিবার মানেই আমার জন্য প্রতি সপ্তাহের সবথেকে ব্যস্ততম দিন। যাইহোক কাল সারাদিন কি কি কাজ করেছিলাম, সেই গল্পই আজ ভাবলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করি,-

1672344690977_010726.jpg

"সকালবেলা"

IMG_20260312_231430.jpg
"আমাদের ছাদে জবা গাছে ফুঁটে থাকা জবা ফুল"

দিনের বেলাতে যদিও বেশ গরম পরতে শুরু করেছে, তবে ভোরের দিকের আবহাওয়া এখনও মোটামুটি একটু ঠান্ডা থাকে। তাছাড়া গত কয়েকদিন ধরে বেশ সুন্দর হাওয়াও দিচ্ছে। এই সময়কার হাওয়াটাকে আমি ছোটোবেলা থেকেই পরীক্ষার পরের হাওয়া বলি। কারন এইসময় স্কুলের পরীক্ষা‌ শেষ হয়ে যেতো।

পড়াশোনার কোনো চাপ থাকতো না। তখন গ্ৰামের বাড়িতে উঠোনে আশেপাশের সকলে মিলে গল্প করতাম, লুডু খেলতাম। কারন‌ সেই সময় আমাদের হাতে মোবাইল বা বাড়িতে টিভি ছিলো না। তাই প্রকৃতিকে সুন্দর ভাবে উপভোগ করার সুযোগ পেতাম। সেই সব দিনগুলো এখন শুধুই স্মৃতি।

যাইহোক ফোনের অ্যালার্ম বাজার আগেই ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো আমার, তাই ঘুম থেকে উঠে প্রথমে অ্যালার্ম বন্ধ করে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। এই সময় সকালের দিকে পরিবেশটা আমার ভীষণ ভালো লাগে।

IMG_20260312_230132.jpg
"শুভর সকালের চা"

তবে আমি ঘুম থেকে উঠে বাইরের আবহাওয়া দেখে বুঝলাম আরও ভোরের দিকে বেশ কুয়াশা পরেছিলো। এ বছর আমের গাছের সকল মুকুল গুলো বোধহয় এই কুয়াশার কারণেই নষ্ট হয়ে যাবে। এতো কুয়াশা না হলে প্রত্যেকটা আম গাছে যে পরিমাণ মুকুল এসেছিলো, তাতে প্রচুর আমের ফলন হতো এই বছর।

যাইহোক নিচে এসে দেখলাম শ্বশুর মশাই ঘুম থেকে উঠে পড়েছেন। তাই খালি পেটে ওনার যে ওষুধটা থাকে সেটা ওনাকে দিয়ে, আমি রান্না ঘরে গিয়ে নিজের কাজ শুরু করলাম। ভাত বসিয়ে দিয়ে চা করা আমার প্রত্যেক দিনের রুটিন, গতকালও তার অন্যথা হলো না।

IMG_20260312_230634.jpg
"সকলের ব্রেকফাস্ট"

তাই নিয়মমাফিক শ্বশুর মশাই কে চা দিয়ে শুভর চা নিয়ে আমি উপরে এসে ওকে ঘুম থেকে ডেকে দিলাম। তারপর আমি ছাদের গাছের ফুল তুলে, নিচে গিয়ে বাকি রান্না শেষ করে, ব্রেকফাস্ট এর রুটিও বানিয়ে নিলাম। শুভ অফিসে বেরিয়ে যাওয়ার পর আমি শাশুড়ি মা ও শুভর ছোটোমাসি একসাথে ব্রেকফাস্ট করলাম। গত তিন চার দিন আগে উনি আমাদের বাড়িতে এসেছেন।

1672344690977_010726.jpg

"দুপুরবেলা"

IMG_20260312_230028.jpg
"পুজোর ফুল- ছাদের টবে লাগানো বিভিন্ন গাছ থেকে তোলা‌‌ ফুল"

মাসির সাথে গল্প করতে করতে বেশ বেলা হয়ে গেলো, তারপর ঘরের কাজ শুরু করলাম। বৃহস্পতিবার মানে উপরের ঘর নিচের ঘর সব ভালোভাবে মুছে নেওয়ার কাজ থাকে। তাছাড়া এই দিন আমি সিঁড়িও পরিষ্কার করি। তারপর ঠাকুর ঘরের‌ কাজ থাকে অনেকটাই বেশি। যেহেতু এদিন লক্ষ্মী ব্রত করতে হয়। এরপর স্নান সেরে ঠাকুরের পোশাক বদলে সেগুলো ধুয়ে দেওয়া, লক্ষ্মী ঠাকুরের ঘট বসানো, পাঁচালী পড়া এই সবকিছু করতে অনেকটা সময় ব্যয় হয় পূজোতে।

IMG_20260312_225926.jpg
"লক্ষ্মীব্রত পালনের নিয়মাবলীর মধ্যে একটা হলো‌ লক্ষ্মী ঠাকুরের জন্য ঘট‌ বসানো"

অবশ্য এর মধ্যে শাশুড়ি মায়ের রান্নাবান্নার কাজও শেষ হয়ে গিয়েছিলো। আজকাল শ্বশুর মশাই নিজে স্নানও করতে পারেন না, তাই শাশুড়ি মা ওনাকে স্নান করিয়ে দেন। সেই সমস্ত কাজ করতে করতে আমি পুজোর কাজ সম্পন্ন করে লাঞ্চের আয়োজন করে নিলাম।

IMG_20260312_225946.jpg
"বাড়ির নিত্য পুজো"

খাওয়া-দাওয়া শেষ করে একটু বিশ্রাম নিতে নিতে সন্ধ্যা হয়ে আসে। আজকাল বিকেলের দিকে গাছে জল দেওয়ার প্রয়োজন হয়। কারন রোদ্দুরের যে পরিমাণ তাপ থাকে তাতে ছোট্ট ছোট্ট ট্রবে লাগানো গাছের জল একেবারেই শুকিয়ে যায়। এখন প্রতিদিন বিকেল বেলায় জল দেওয়ার কাজটা আমিই করি।

1672344690977_010726.jpg

"সন্ধ্যাবেলা"

IMG_20260312_230718.jpg
"সকলে‌র জন্য চা‌‌ বানিয়ে দিয়ে, আমিও একটু‌ চানাচুর ‌খেলাম‌ অনেকদিন পর।"

সন্ধ্যা হতেই সন্ধ্যা পুজো শেষ করে তারপর নিচে গিয়ে সকলের সাথে কিছুক্ষণ কথা বললাম। শ্বশুরমশাই ঘুম থেকে উঠলে সকলকে চা করে দিলাম। আমি অবশ্য চা খাইনি, তবে কৌটাতে চানাচুর দেখে অনেকদিন বাদে ইচ্ছে হলো একটু চানাচুর খাই। তাই সকলের সাথে আমিও বাটিতে একটু চানাচুর নিয়ে বসলাম।

কিছুক্ষণের মধ্যে শুভ বাড়িতে এলো, তবে বাইকটা রেখে আবার আমাদের বাড়ির পাশে ওর বন্ধুর দোকানে গিয়ে কিছুটা সময় কাটালো। ততক্ষণে আমি পোস্ট লেখার কাজ কিছুটা এগিয়ে নিয়েছিলাম।

1672344690977_010726.jpg

"রাত্রিবেলা"

আজকাল চেষ্টা করি রাতের দিকে একটু তাড়াতাড়ি খেয়ে নেওয়ার। তাই রুটিও করে নেই তাড়াতাড়ি। যেহেতু শুভ রাতে রুটি খায়। শ্বশুরমশাই অবশ্য মাঝে মধ্যে রুটি খেতে চান না, কারণ এক ধরনের খাবার খেতে খেতে উনিও বিরক্ত। তবে সত্যি কথা বলতে অন্য ধরনের খাবার খাওয়ার মতন শারীরিক অবস্থা ওনার নেই, তাই ইচ্ছা না করলেও কিছু জিনিস একটু জোর করে খেতে হয়।

IMG_20260312_230735.jpg
"ডিনারের জন্য বানিয়েছিলাম ছোলার ডাল ও‌ পরোটা। শুভ সাথে অল্প একটু টমেটো সস্‌ ও নিয়েছিলো।‌ "

শুভ বাড়িতে ফিরলে একসাথে ডিনার করে নিলাম। তবে শাশুড়ি মা এবং মাসি শাশুড়ির তখনো খিদে পায়নি, তাই আমরা আমাদের মতন খেয়ে উপরে চলে এসেছিলাম। পরে ওনরা দুইবোন মিলে খাওয়া-দাওয়া করে নিয়েছিলো। উপরে এসে কিছুক্ষণ ফোনে কথা বলেছিলাম। তারপর বাকি পোস্ট লেখা শেষ করে, পোস্ট শেয়ার করার পর, বিছানা করে ঘুমাতে গিয়েছিলাম।

এইভাবেই গতকালের দিনটা আমার কেটেছিলো। বৃহস্পতিবার মানে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কর্মব্যস্ততা অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেকটাই বেশি থাকে‌। তাই আলাদা করে এই দিন আমি জামা কাপড় কাঁচা বা অন্যান্য আনুসঙ্গিক কাজ রাখি না।

যাইহোক সারা সপ্তাহের মধ্যে আপনাদের ব্যস্ততম দিন কোনটা তা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। শুভরাত্রি।

9vWp6aU4y8kwSZ9Gw15LFL3aMdhmgmBBFMpDJregpdP328TqCvhjhspw5NBPbWMShaDD4yjYoZFwyWS9XH9YcrMyqTMGHiWpaGrwDGkXYMbDHgxptYZq3ueRpXapEAPkAuu3vPaZSXJ2USdTC.png

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.31
JST 0.059
BTC 70282.79
ETH 2145.74
USDT 1.00
SBD 0.51