Better life with steem//The Diary Game// 16th June, 2026"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
আমার দিনটা মোটামুটি কেটেছে। বাড়িতে একলাই ছিলাম সারাটা দিন। ঘরের কাজ করেই দিনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে। বাদবাকি সময় নিশ্চুপ বাড়িতে কখনো গান শুনে, কখনো ফোনে রিলস দেখে সময় কাটিয়েছি। চলুন একাকী দিন যাপনের কিছু মুহূর্ত এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করি।
|
|---|
শুভর সকালে অফিস ছিলো। তাই ফোনে এলার্ম দিয়েই ঘুমিয়েছিলাম। তবে আজ আরও আগে কলিংবেলের আওয়াজে ঘুম থেকে উঠে পড়লাম। কাজের মাসি আজকে অনেকটাই সকাল বেলায় এসেছিলো, তাই দরজা খুলে দিয়ে কিছুক্ষণ একা একা জানালার কাছে বসে রইলাম।
কি রান্না হবে এ কথা ভাবতে ভাবতেই সিদ্ধান্ত নিলাম শুভকে আজ সয়াবিন রান্না করে দেবো। বেশ অনেকদিন সয়াবিন খাওয়া হয়নি। তাই সেই রকম প্রস্তুতি নিয়েই রান্না ঘরে গেলাম।
![]()
|
|---|
তবে সেখানে গিয়ে দেখলাম, আমি ভুলেই গেছিলাম গতকাল রাতে আমি মুসুরির ডাল ভিজিয়ে রেখেছিলাম, আজ ডালের বড়া করে তরকারি রান্না করবো ভেবে। তাই অগত্যা সয়াবিন রান্না করার প্ল্যান পরিবর্তন করে ডাল গুলোকে মিক্সিতে পেস্ট করে নিলাম, বড়া তৈরি করার জন্য।
![]()
|
|---|
এরই মাঝে শুভর ঘুম থেকে ওঠার সময় হয়ে গেলে ওর জন্য চা করে ওকে ঘুম থেকে ডেকে দিলাম। আজ সকাল থেকেই অনেক বেশি রোদ্দুর ছিলো। গতকাল ভেবেছিলাম ওপরের ঘরের বিছানার চাদর গুলো ধুয়ে দেবো। কিন্তু কাল আর সেটা করার সময় হয়নি, তাই আজ এক ফাঁকে চাদর গুলো ভিজিয়ে দিলাম।
![]()
|
|---|
ব্রেকফাস্ট এর জন্য আজ পাস্তা বানিয়েছিলাম। আসলে কিছুটা পাস্তা অনেক দিন ধরেই কৌটার মধ্যে পড়েছিলো। সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছিলো তেমনভাবে আর খাওয়ার সুযোগ হচ্ছিলো না বলে আজ সকলে সেটাই বানিয়ে নিলাম। শুভ কিছুটা খেয়ে গেলো, বাকিটা আমি ব্রেকফাস্টে খেয়ে নিয়েছিলাম।
শুভ অফিসে বেরিয়ে যাওয়ার পর ফুল তোলা, ঠাকুরের বাসন মাজা, ঠাকুর ঘর মোছা, সমস্ত কাজ পরপর করতে হতো। তবে তারও আগেই আমি কমিউনিটির কিছু কাজ সম্পন্ন করে নিলাম। তারপর এই সকল কাজ শুরু করলাম। রান্নার আর আলাদা ঝামেলা ছিলো না। শুভর জন্য যেটা রান্না করেছিলাম, সেটা দিয়েই দুপুরে আমি অল্প একটু খেয়ে নেবো। এমনিতেও দুপুরে একা একা খেতে একে বারেই ভালো লাগেনা আমার।
|
|---|
![]()
|
|---|
সমস্ত কাজ সম্পন্ন করার পরে আজ বিছানার চাদর ধোয়ার কাজ বাকি ছিলো। তাই আগে সেগুলো ধুয়ে ছাদে মেলে দিয়ে, তারপর স্নান করতে গেলাম। আজকাল এতো গরম পরে যে, স্নান করে ওঠার পরে ঠাকুর পুজো দিতে বসলে, ঘেমে যেন আরও একবার স্নান করে গিয়েছি এমনটাই মনে হয়।
![]()
|
|---|
আজকাল আমাদের গাছে সাদা ফুল এবং তার সাথে লাল রঙের অনেক জবা ফুল ফোটে। যেগুলো দিয়ে আসন সাজিয়ে পুজো দিতে খুবই ভালো লাগে। যাইহোক পুজো সম্পূর্ণ করার পর নিচে এসে কিছুক্ষণ ফোন দেখলাম। তারপর একা একা টিভি চালিয়ে নিজের মত লাঞ্চ নিয়ে খেতে বসলাম। এই দুপুর বেলার একা খাওয়াটা আমার জন্য বেশ কষ্টকর।
![]()
|
|---|
দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমি তিনটে লিচু খেলাম। তারপর একটু শুয়ে ছিলাম, তবে ঘুম আসেনি। কিছুক্ষণ ফোন দেখেই সময় কাটালাম। সারাদিনের মধ্যে শুধু দুটো ফোন এসেছিলো, তাদের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলেছি।
বাকি সম্পূর্ণ দিন একা চুপ চাপ থেকেছি এই বাড়িতে। ধীরে ধীরে এটা যেন আমার অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। এখন আর বেশি কথা বলতে ভালো লাগে না। চুপচাপ থাকার আনন্দ উপভোগ করতে শুরু করেছি, তাই এই একাকীত্ব আমার বেশ ভালোই লাগছে।
|
|---|
![]()
|
|---|
বিকেল বেলায় যথারীতি ছাদে গিয়ে জামা কাপড় গুলো তুলে নিলাম। আকাশে তখন মেঘ দেখতে পেলাম। বৃষ্টি হবে কিনা বুঝতে পারিনি, তবে মেঘ দেখে ভালোই লাগছিলো। তারপর গাছে জল দিলাম। আজ সারাদিন যা রোদ্দুর ছিলো, তাতে প্রত্যেকটা টব একেবারেই শুকিয়ে গিয়েছিলো।
এরপর ফোনে গান চালিয়ে ঠাকুর পুজে দিতে বসলাম। আজকাল সন্ধ্যাবেলার দিকে কৃষ্ণের ভজন চালিয়ে পুজো দিতে বেশ ভালোই লাগে। বয়সের সাথে সাথে এই পরিবর্তন গুলো হয়তো সকলের মধ্যেই আসে।
সন্ধ্যা দেওয়ার পর কিছুক্ষণ বসে টিভি দেখলাম।।তার কিছুক্ষণ পরেই শুভ বাড়িতে এলো। ফ্রেশ হয়ে আবার রাজার সাথে দেখা করতে গেলো। রাজার মা মারা যাওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই শুভ ওখানে গিয়ে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে আসে।
|
|---|
![]()
|
|---|
ততক্ষণ আমি রাতের খাবার তৈরি করার প্রস্তুতি নিলাম। আজ একটু আলুর পরোটা বানিয়েছিলাম। আসলে সকালের সিদ্ধ আলু ফ্রিজে ছিলো। তার সাথে কিছু মসলা যোগ করে পরোটা বানিয়ে নিলাম রাতে খাওয়ার জন্য। আলাদা করে পরোটার সাথে খাওয়ার জন্য কোনো তরকারি রান্না করিনি। সকালে রান্না করা তরকারি ছিলো, তার সাথে ডিমের ওমলেট করে নিয়েছিলাম। দুজন মানুষ এটা দিয়েই রাতের ডিনার কমপ্লিট করে নিলাম।
খেতে বসেই কিছু বিষয়ে কথা হলো শুভর সাথে। শুভর মামা বাড়ি থেকে আমাদেরকে নিমন্ত্রণ করেছে যাওয়ার জন্য। আমার যাওয়ার এতটুকুও ইচ্ছে নেই সেটাই জানালাম শুভকে। শনিবার দিন জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে নিমন্ত্রণ করেছে। এখনও পর্যন্ত যাওয়া হবে কিনা তা ফাইনাল হয়নি। যাইহোক এরপর আমি বসলাম পোস্ট লিখতে, আর শুভ নিজের মতো ফোন দেখে সময় কাটাবে।
এইভাবে কেটেছে আমার আজকের দিনটা। একাকীত্বে ঘেরা এমন শান্ত একটা দিন কাটিয়ে বেশ ভালোই লেগেছে। কোথাও যেন আমি আমার ভবিষ্যতের জন্য এখন থেকেই তৈরি হচ্ছি, এমনটাই মনে হলো। যাইহোক আপনাদের সকলের আগামী দিনগুলো খুব ভালো কাটুক। ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।
![]() |
|---|











