"Better life with steem//The Diary Game// 20th September, 2026// তুতুনের(আদিত্য) জন্মদিন"

in Incredible India2 days ago

IMG_20260920_225006.jpg
"তুতুনের জন্মদিনের কেক"

Hello,

Everyone,

আকাশের দিকে তাকিয়ে যখন মায়ের আগমনের আভাস পাওয়ার কথা, ঠিক সেই মুহূর্তে আকাশের মুখ ভার দেখতে একেবারেই ভালো লাগেনা। দুদিন আগে পর্যন্ত নীল আকাশের বুকে সাদা মেঘের ভেসে চলা দেখে মনটা খুশিতে ভরে উঠছিলো, অথচ গত দুদিন ধরে মাঝে মধ্যেই কালো মেঘ এসে বুঝিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতির মন‌ খারাপ।

যাইহোক আজ এরকমই একটি মেঘলা দিনের গল্প আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করবো। তবে দিনটা মেঘলা হলেও বেশ মজার মধ্যে পার হয়েছে। কারণ ছিলো তুতুনের জন্মদিন। তুতুন আমার ননদের ছোটো ছেলে। যার ভালো নাম আদিত্য। আজ সে ১৩ বছর বয়সে পা দিলো। দেখতে দেখতে সময় গুলো কিভাবে কেটে যায়, সেটাই ভাবছিলাম আজ সকালে।

1672344690977_010726.jpg

"সকালবেলা"

IMG_20260920_002120.jpg
"আজকের সকালের মেঘলা আকাশ।"

ভোর পাঁচটা নাগাদ বৃষ্টির আওয়াজে ঘুম ভেঙেছে আমার। জানলা দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম বাইরে ভালোই বৃষ্টি হচ্ছে। তবে রবিবার ছিলো, তাই ঘুম থেকে ওঠার কোনো তাড়া ছিলো না বলে, আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘড়িতে যখন আটটা চল্লিশ বাজে তখন ঘুম ভাঙলো‌ আবার ।

IMG_20260920_002057.jpg
"গাছে ফোটা দোপাটি ফুল"

আরও কিছুক্ষণ এপাশ-ওপাশ করে সময় অতিবাহিত করে, তারপর ঘুম থেকে উঠলাম। ফ্রেশ হয়ে প্রথমেই উপরে গিয়ে ঠাকুরের শয়ন তুলে দিলাম। তখনও বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। তবে মুষলধারায় পড়ছিলো না বলে, ছাতা নিয়ে আগে পুজোর ফুলগুলো তুলে নিলাম। গতকাল রাত থেকেই ঠিক ছিলো, আজ সকালে ননদের বাড়িতে যাবো। আজ সারাদিন ওখানেই নিমন্ত্রণ ছিলো আমাদের।

তবে যাওয়ার আগে বাড়ির সমস্ত কাজ গুছিয়ে রেখে যাবো এটাই স্বাভাবিক। তাই ঘরের সমস্ত কাজ শুরু করলাম। শুভ ও একুটুবাদে উঠে পড়েছিলো। ও ওর মত কফি বানিয়ে নিয়ে, ফ্রেশ হতে গিয়েছিলো। আমি ঠাকুরের বাসন মেজে, স্নান সেরে, পুজো দিতে বসলাম। পুজো সম্পন্ন করে নিচে গিয়ে রুটি করলাম। যেহেতু সকালের খাবার খেয়ে আমরা যাবো সেটাই ঠিক ছিলো।

IMG_20260920_121117.jpg
"এই দোকানে গিয়েছিলাম আজ ননদের ছেলেদের জন্য হাফপ্যান্ট কিনতে।"

খাওয়া-দাওয়া সম্পন্ন করতে আমাদের প্রায় এগারোটা বেজে গেলো। তারপর তৈরি হয়ে নিলাম। যাওয়ার আগে গেলাম আমাদের পাশেরই একটা দোকানে। আসলে এই দোকান থেকেই আমার ননদের দুই ছেলের জন্য বেশিরভাগ পোশাক কেনা হয়ে থাকে। তাই ননদ কিছু জিনিস ওদের জন্য কিনে নিয়ে যেতে বলেছিলো। বাড়িতে পরার জন্য হাফ প্যান্ট নিয়েছিলাম ননদের দুই ছেলের জন্যেই।

1672344690977_010726.jpg

"দুপুরবেলা"

IMG_20260920_121604.jpg
"ননদের ছোট ছেলের জন্য এই দুটো প্যান্ট নিয়েছিলাম।"

কেনাকাটা সম্পূর্ণ করে ভেবেছিলাম আমি একাই চলে যাবো ননদের বাড়িতে। শুভ বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে পরে আসবে। তবে শুভই বললো একেবারে ননদের বাড়িতে আমাকে নামিয়ে দিয়ে আসবে। তাই আর আলাদা করে আমাকে গাড়ি ধরতে হয়নি।

সেখানে নামিয়ে দিয়ে শুভ বাড়িতে চলে এলো। আমি যখন গিয়েছিলাম তখন ওরা ব্রেকফাস্ট করছিলো। ব্রেকফাস্ট সম্পন্ন করার পর ননদ আমাকে নিয়ে ছাদে গিয়েছিলো, ওনার ছাদ বাগান দেখাতে।

IMG_20260920_131531.jpg
"ননদের ছাদ বাগানের কয়েকটি গাছ।"

ইদানিং বেশ কিছু গাছ দিয়ে উনি ওনার বাগানটাকে সাজিয়েছে। যার কয়েকটা ছবি আমি তুলেছি। তবে সেই বিষয়ে পরবর্তী একটা পোস্টে আপনাদের সাথে আলোচনা করবো। আজ শুধু একটা ছবি শেয়ার করলাম, ননদের সম্পূর্ণ ছাদ বাগানের।

নিচে এসে দেখি ঘড়িতে ততক্ষণে একটা বেজে গেছে। এরপর রান্নার আয়োজন শুরু করতে হবে না হলে দুপুরের খাওয়া অনেকটাই দেরি হয়ে যাবে। গল্প করতে করতে দুজনে মিলে হাতে হাতে কাজ সারলাম। তবুও রান্না হতে প্রায় তিনটে বেজে গেলো। দুপুরের জন্য ইলিশ মাছ আর ভাত রান্না হয়েছিলো। বাকি ডাল রান্না হলেও, সেটা আর কেউ খায়নি।

IMG_20260920_005827.jpg
"আজ দুপুরে রান্না হয়েছিলো ইলিশ মাছের পাতলা ঝোল ও গরম ভাত।"

অন্যদিকে বিরিয়ানি ততক্ষণে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। তবে দুপুরে আমরা সকলেই ভাত খেয়েছি। বিরিয়ানি স্পেশালি রাতের জন্য রান্না করা হয়েছিলো। কিছুক্ষণ বাদে শুভও স্নান সেরে পৌঁছে গিয়েছিলো ননদের বাড়িতে। তারপর আমরা সকলে মিলে খাওয়া-দাওয়া সেরে নিয়েছিলাম।

1672344690977_010726.jpg

"সন্ধ্যাবেলা"

IMG_20260920_195545.jpg
"সন্ধ্যাবেলায় অনেকটা সময় কাটলো এই বাচ্চাটিকে নিয়ে, যার ডাকনাম ঘন্টু।"

সন্ধ্যা বেলায় সকলে মিলে বসে গল্প করছিলাম, তখন ননদের পাশের বাড়ি থেকে একটা বাচ্চা এলো। ওর সাথে অনেকটা সময় কাটল আমাদের সকলের। বাচ্চাটা ভীষণ হাসি খুশি। ফোনে যে কোনো গান চালিয়ে দিলেই ও‌ নাচ করতে থাকে। আমার ননদের ছোটো ছেলের বন্দুক নিয়েও বেশ কিছুক্ষণ খেলা করলো‌ বাচ্চাটি।

IMG_20260920_010648.jpg
"কেক কাটার প্রস্তুতি ননদের দুই ছেলের।"

অবশেষে কেক কাটার সময় হয়ে গেলো। তুতুনের জন্য কেক আগে থেকেই এনে ফ্রিজে রাখা ছিলো। এরপর সকলে মিলে আমরা আনন্দ করে কেক কাটলাম। বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটল শ্বশুরমশাইকে নিয়ে আলোচনা করে। গত বছর এই দিনে তুতুনের জন্মদিনটা আমাদের বাড়িতে আয়োজন করা হয়েছিলো, যেহেতু শ্বশুরমশাইয়ের শরীর খারাপ ছিলো এবং ওনার পক্ষে ননদের বাড়িতে যাওয়া সম্ভব ছিলো না।

অথচ এই বছর মানুষটা আর আমাদের সাথে নেই। এটা নিয়ে মন খারাপ হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। তবে সময়ের সাথে সাথে এটাও আমাদের অভ্যাস হয়ে যাবে। তাছাড়া শাশুড়ি মাও এবার নেই। তাই হয়তো ওনাদের দুজনের অনুপস্থিতি আরও বেশি করে আমরা অনুভব করেছি।

1672344690977_010726.jpg

"রাত্রিবেলা"

দুপুরের খাওয়া-দাওয়া সেরে শুভ বাড়িতে চলে এসেছিলো। সন্ধ্যা বেলায় আবার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে, রাতে চলে গিয়েছিলো ননদের বাড়িতে। এরপর আমরা আর খুব বেশি সময় নষ্ট করিনি। একেবারে রাতের খাবারের আয়োজন করে নিয়েছিলাম। বিরিয়ানি করাই ছিলো, আমি শুধু স্যালাডটা কেটে নিলাম।

IMG_20260920_005954.jpg
"ননদের বাড়িতে তৈরি চিকেন বিরিয়ানি। এটি ছিলো তুতুনের জন্মদিনের স্পেশাল ডিনার।"

ননদের বাড়িতে সবাই একটু দেরিতে খাবে বলে ছিলো। তাই আমি আর শুভ দুজনেই ডিনার কমপ্লিট করলাম। কারণ আমাদেরকে আবার বাড়িতে ফিরতে হবে। খেতে খেতেই বেশ কিছুক্ষণ গল্প চললো আমাদের।

খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমি আর শুভ সবাইকে বিদায় জানিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করলাম। বাড়িতে এসে ফ্রেশ হয়ে প্রথমে পোস্ট লিখতে বসে পড়লাম। কারণ ননদের বাড়িতে আর লেখার অবকাশ হয়নি আজ।

যাইহোক সবশেষে তুতুনের জন্য অনেক শুভকামনা রইলো। আপনারাও আশীর্বাদ করবেন যাতে ও ভালো থাকে আর ভালো মানুষ হতে পারে। বছরগুলো কিভাবে পার হয়ে যাচ্ছে সেটাই ভাবলাম। তবে এটাই বাস্তবতা যে, সময় কারোর জন্য অপেক্ষা করে না। সে কিন্তু নিজের মত করে বয়ে যায়।

যাইহোক আগামী বছর আবার এই দিনটা আমরা সকলে মিলে আনন্দ করে কাটাতে পারবো, এই অপেক্ষায় রইলাম। সারাদিনের কিছু মুহূর্ত রইলো আপনাদের জন্য। কেমন লাগলো সেগুলো পড়ে, তা মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না।

সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। শুভরাত্রি

9vWp6aU4y8kwSZ9Gw15LFL3aMdhmgmBBFMpDJregpdP328TqCvhjhspw5NBPbWMShaDD4yjYoZFwyWS9XH9YcrMyqTMGHiWpaGrwDGkXYMbDHgxptYZq3ueRpXapEAPkAuu3vPaZSXJ2USdTC.png

Sort:  

Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟

Loading...
 18 hours ago 

Beautiful and emotional day you shared with us. The cloudy weather, family gathering, rooftop garden, delicious hilsa curry and special chicken biryani all made the day feel very lively. Most of all, the birthday celebration of Tutun sounds so sweet and memorable. I also felt the emotions behind your words about your father-in-law and mother-in-law. Their absence must have been deeply felt during such a family occasion. Still, celebrating together and creating new memories is something truly precious. May Allah bless Tutun with a happy, healthy and beautiful life.

#s34engagement