Better life with steem//The Diary Game// 6nd May, 2026 // সিকিম যাওয়ার প্রস্তুতি"

in Incredible India18 days ago
IMG_20260506_233453.jpg
"সকালের মেঘলা আকাশ"

Hello,

Everyone,

বেশ অনেকটা রাতেই আজকের পোস্ট লিখতে বসলাম। অন্যান্য দিন চেষ্টা করি সন্ধার পরে সময় পেলেই পোস্ট খানিকটা লিখে রাখার, তবে আজ আর সেই সময়ও হয়নি। কেন সন্ধ্যার পর থেকে সময় করে উঠতে পারিনি, সেই কথাই আজকে শেয়ার করবো আপনাদের সাথে।

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে। অনেক ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে হলেও আজকের দিনটি কিভাবে কেটে গেলো তা যেন বুঝতেই পারলাম না।

আসলে বহুদিন বাদে বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার আনন্দের কারণেই বোধহয়, সারাটা দিনের ব্যস্ততা ততটাও অনুভব করতে পারিনি। যাইহোক কিভাবে কাটালাম আজকের দিনটা, সে কথাই শেয়ার করবো আজকের পোস্টের মাধ্যমে। চলুন তাহলে শুরু করি,-

1672344690977_010726.jpg

"সকালবেলা"

IMG_20260506_233939.jpg
"গাছে ফোঁটা ফুল"

শুভর অফিস থাকার কারণে অন্যান্য দিনের মতন ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে, প্রথমে ঠাকুর পূজোর ফুল তুলে নিলাম। আজ গাছে অনেকগুলো ফুল ফুটেছিলো। সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে ভীষণ ভালো লাগে। আপনারা যারা ফুল তোলেন, তারা হয়তো আমার অনুভূতিটা বুঝতে পারবেন। ফুল তোলা সম্পূর্ণ করে আমি শুভকে ঘুম থেকে ডাকলাম। শাশুড়ি মা আজ ননদের বাড়ি থেকে ফিরবেন বলেছেন, গত কয়েকদিন ননদের বাড়িতেই তিনি ছিলেন।

তাই মাঝের কয়েকদিন আমার আর শুভর মতো রান্না করলেই হয়ে যেতো। কিন্তু যেহেতু আজ শাশুড়ি মায়ের ফেরার কথা, তাই ওনার জন্য আলাদাভাবে রান্না করতে হবে। আসলে উনি মাছ খান, তবে পেঁয়াজ, রসুন, ডিম, মাংস, কিছুই খান‌না। তাই সেই ভাবে ওনার জন্য আলাদাভাবে রান্না বসিয়েছিলাম।

IMG_20260506_233722.jpg
"আজ‌ বেশ সকাল‌ সকাল পুজো শেষ করেছিলাম"

কিছুটা রান্না এগিয়ে নেওয়ার পর শুভ বলল আজ অফিসে যাবে না। আসলে গত রবিবার দিন ও ডিউটি করেছিলো, তাই একটা ছুটি ওর পাওনা আছে। সেই ছুটিটাই আজ নেবে বললো। আমিও আর কিছু না বলে আগে পুজো দিতে গেলাম। সকাল সকাল পুজোর কাজ শেষ হয়ে গেলে যেন মনে হয় দিনের অর্ধেক কাজে শেষ হয়ে গেছে।

এরপর আমি আর শুভ ব্রেকফাস্ট করতে বসেছি, তখনই শাশুড়ি মা এলেন। ওনাকেও খেতে বললাম, তবে উনি ননদের বাড়ি থেকে ব্রেকফাস্ট করে এসেছেন বলে আর কিছু খেলেন না। এরপর আমি পোস্ট ভেরিফাই করলাম। বাকি রান্না গুলো করতে যাবো সেই সময়ে বান্ধবীদের ফোন এলো।

IMG_20260506_234310.jpg
"আগামীকাল নিউ জলপাইগুড়ি যাওয়ার জন্য তৎকালে কাটা ট্রেনের টিকিট"

গতকালকের পোস্টে বলেছিলাম তৎকালে টিকিট কাটতে হবে, তাই সকাল বেলাতেই ফোন করার কারণ হলো তৎকালে টিকিট কাটতে পেরেছে। তবে সন্ধ্যাবেলায় যে ট্রেনে আমরা যাবো আশা করেছিলাম, সেই ট্রেনে কাটতে পারেনি। তাই দুপুর তিনটের সময় যে ট্রেন রয়েছে সেই ট্রেনেগ টিকিট কনফর্ম হয়েছে। দুপুর তিনটে তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস ধরতে হলে, আমাদের দুপুর আড়াইটার মধ্যে শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছাতে হবে।

1672344690977_010726.jpg

"দুপুরবেলা"

IMG_20260506_233534.jpg
"গোপালকে নতুন জামা পরিয়েছি"

আগামীকালের ট্রেন টাইম শোনার পর থেকে আমার মাথায় হাত। কারণ তখনও পর্যন্ত আমার কোনো কিছুই গোছানো হয়নি। এমনকি যে সকল জিনিসগুলো সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অর্থাৎ আইডি কার্ড,‌ ছবি, আই কার্ডের জেরক্স, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র কোনো কিছুই আনা হয়নি। তবে একদিক থেকে ভালো হয়েছে, শুভ আজ অফিসে যায়নি তাই ওকে বলেই রেখেছিলাম সন্ধ্যার পর আমাকে নিয়ে একটু বাইরে যেতে হবে।

IMG_20260506_233626.jpg
"সবকিছু গোছানোর প্রচেষ্টা চলছে"

বান্ধবীদের সাথে কথা বলার পর্ব শেষ করে আমি রান্না শেষ করে নিলাম। এরপর তিনজনে মিলে লাঞ্চ করে, তারপর লাগেজ নামিয়ে সব জামাকাপড় এক জায়গায় করলাম। যাতে কি কি নিয়ে যাবো সেটা বুঝতে পারি। ওয়েদারটা দেখলাম ওখানে বেশ ভালোই ঠান্ডা থাকবে। তাই শীতের পোশাক নিতে হবে বেশি করে, এবিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এইসব করতে করতে সময় কোথা দিয়ে পার হলে বুঝতেও পারলাম না। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি সন্ধ্যা হয়ে এলো, তবে আমার গোছানো তখনো শেষ হয়নি।

1672344690977_010726.jpg

"সন্ধ্যাবেলা"

IMG_20260506_221957.jpg
"প্রয়োজনীয় ওষুধ"
IMG_20260506_221952.jpg
"ও.আর.এস এর‌ প্যাকেট"

এরপর সন্ধ্যা বেলায় সন্ধ্যা পূজো দিয়ে শুভর সাথে তাড়াহুড়ো করে বাইরে গেলাম। জিনিসপত্র অগোছালোভাবেই পরেছিলো। ছবি তোলারও প্রয়োজন ছিলো আমার, তাই প্রথমে স্টুডিওতে গিয়ে সেখানে ছবি তুলে, তারপর টুকটাক বাকি সমস্ত কাজ সম্পন্ন করে, বাড়ি ফেরার পথে ছবি নিয়ে বাড়িতে এলাম।

IMG_20260506_233612.jpg
"আরও কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র"

ইতিমধ্যে ফোনে অনেকবার ফোন ও অনেক মেসেজ এসেছে সেগুলোই দেখছিলাম। আসলে আগামীকালকে কোন ট্রেনে শিয়ালদহ যাবো, কি কি টিফিন নেওয়া হবে, এইসব বিষয়ে এই কথাবার্তা হলো। সবকিছুর মাঝে আমার ভোটার আই কার্ড এর জেরক্স করতে ভুলে গিয়েছিলাম। তাই শুভ আবার সেটা জেরক্স করতে নিয়ে গেলো। সেই মুহূর্তে বাইরে অঝোরে বৃষ্টি শুরু হলো। বৃষ্টি কমার পর তারপর শুভ বাড়িতে এলো।

1672344690977_010726.jpg

"রাত্রিবেলা"

এর মধ্যে কতোবার বান্ধবীদের সাথে কথা হয়ে গেছে তা হিসাব করে বলতে পারবো না। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার লাগেজ সম্পূর্ণ গোঝানো হয়নি। একবার মনে হচ্ছে অনেক ভারী হয়ে যাচ্ছে, কিছু জিনিস কমিয়ে রাখি। আবার মনে হচ্ছে শীতে যদি সেখানে গিয়ে কষ্ট পাই, তার থেকে একটু কষ্ট করে বয়ে নিয়ে যাওয়াই ভালো। এইসব করেই মোটামুটি দিন পার হয়েছে আজ।

IMG_20260506_233641.jpg
"মোটামুটি গোছগাছ শেষ হয়েছে"

জামাকাপড় সম্পূর্ণ গুছিয়ে উঠতে না পারলেও গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলো ঠিক গুছিয়ে নিয়েছি। তার মধ্যে ওষুধপত্র, আই‌ কার্ডের জেরক্স, ছবি, নিজের প্রয়োজনীয় বাকি জিনিসগুলো সব গুছিয়ে রেখেছি। শীতের জন্য কাপড় মোটামুটি গুছিয়েছি। কাল সকালে একবার ফাইনাল চেক করে যদি কোনো কিছু নামিয়ে রাখতে হয়, চেষ্টা করবো নামিয়ে রাখার। যাতে লাগেজটা একটু হলেও ভারী কম হয়। কারণ এই সমস্ত কিছু আমাকেই আবার গুছিয়ে আনতে হবে।

যাইহোক এরকম ভাবেই ব্যস্ততার মাঝে আজকের দিনটি পার হলো। কাল সকালের সময়টা দেখতে দেখতে কেটে যাবে। দুপুর ১ টা নাগাদ বাড়ি থেকে বের হতে হবে, যাতে সময়মতো শিয়ালদহ প্লাটফর্মে পৌঁছে সকলের সঙ্গে দেখা করতে পারি। স

সিকিম যাত্রা আগামীকাল থেকেই শুরু হতে চলেছে। আমি তো ভীষণ এক্সাইটেড। নতুন জায়গা ঘুরবো, অভিজ্ঞতা অর্জন করবো, আর সেগুলোই আপনাদের সাথে পোস্টের মাধ্যমে শেয়ারও করবো। আপনারাও সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, এই প্রার্থনা করে আজকের লেখা শেষ করছি।
শুভ রাত্রি।

9vWp6aU4y8kwSZ9Gw15LFL3aMdhmgmBBFMpDJregpdP328TqCvhjhspw5NBPbWMShaDD4yjYoZFwyWS9XH9YcrMyqTMGHiWpaGrwDGkXYMbDHgxptYZq3ueRpXapEAPkAuu3vPaZSXJ2USdTC.png

Sort:  


image.png
Curated by: @ahsansharif

Loading...