"Chicken Ghee Roast Recipe"
|
|---|
Hello,
Everyone,
গত কয়েকদিন পোস্ট শেয়ার করতে পারিনি, কারন নেটওয়ার্কের বাইরে ছিলাম। তাই লিখতে পারলেও পোস্ট শেয়ার করা হয়নি। আজ কিছুক্ষণ আগে নর্থ সিকিম থেকে গ্যাংটক হয়ে ঋষিখোলা এলাম। তাই ভাবলাম আজ একটা পোস্ট শেয়ার করতেই হবে।
পোস্টটা লিখেছিলাম এখানে আসার তৃতীয় দিনেই তবে ছবি আপলোড করা সম্ভব হয়নি। যাইহোক এইসব গল্প পরবর্তী পোস্ট গুলোতে ধীরে ধীরে শেয়ার করবো। আজ একটা রেসিপি শেয়ার করবো, যেটা শীতকালে তৈরি করেছিলাম। আর পরিবেশন করেছিলাম আমার হাতে তৈরি কড়াইশুঁটির কচুরি ও ধনেপাতা দিয়ে তৈরি সবুজ চাটনীর সাথে, যেগুলো আমি বাড়িতে তৈরি করেছিলাম।
|
|---|
| নং | উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১. | চিকেন | ৭০০ গ্ৰাম |
| ২. | পেঁয়াজ কুচি | ১ কাপ |
| ৩. | আদা বাটা | ২ চা চামচ |
| ৪. | রসুন বাটা | ২ চা চামচ |
| ৬. | কাঁচা লঙ্কা | ৪-৫ টা |
| ৭. | ঘি | ৯-১০ চা চামচ |
| ৮. | হলুদ গুঁড়ো | ৩ চা চামচ |
| ৯. | কাশ্মিরী লঙ্কার গুঁড়ো | ৩ চা চামচ |
| ১০. | কাজুবাদাম | ৮-৯ টা |
| ১১. | টকদই | হাফ কাপ |
| ১২. | পোস্ত | ৩ চা চামচ |
| ১৩. | চারমগজ | ২ চা চামচ |
| ১৪. | গরম মশলা গুঁড়ো | ১½ চা চামচ |
| ১৫. | লবন | স্বাদ অনুসারে |
| ১৫. | বেসন | ২-৩ চা চামচ |
| ১৬ | গোলাপ জল | ১ চা চামচ |
| ১৭. | কেওড়া জল | ১ চা চামচ |
| ১৮. | আমুল গুঁড়ো দুধ | ছোটো এক প্যাকেট |
| ১৯ | কেশর | সামান্য |
|
|---|
সবার প্রথমে মাংসগুলোকে ভালোভাবে ধুয়ে জল ঝড়িয়ে নিতে হবে।
অন্যদিকে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ কুঁচিয়ে নিতে হবে। তার সাথে সাথে আদা ও রসুনের খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে।
এবার মিক্সিতে কাজুবাদাম, পোস্ত, চারমগজ সমস্ত কিছু দিয়ে একটা পেস্ট তৈরি করতে হবে। তারপর সেই পেস্টের মধ্যেই আদা, রসুন, প্রয়োজনীয় কাঁচা লঙ্কা দিয়ে আবারও পেস্ট করে নিতে হবে।
অন্যদেরকে টক দই একটা পাত্রে নিয়ে খুব ভালোভাবে ফেটিয়ে নিতে হবে। এরপর আগে থেকে তৈরি করে রাখা পেস্টটা টক দইয়ের মধ্যে মিলিয়ে দিতে হবে। এরপর মিক্সিতে পেঁয়াজ দিয়ে ভালোভাবে পেস্ট করে নিতে হবে।
পেঁয়াজের পেস্টও আগে থেকে তৈরি করে রাখা মিশ্রণের মধ্যে দিয়ে, একে একে তার মধ্যে প্রয়োজনীয় গুঁড়ো মসলা অর্থাৎ লবণ, কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো, হলুদ দিয়ে দিতে হবে। তারপর সামান্য গোলাপজল ও কেওড়াজল দিতে হবে
অন্যদিকে আরেকটি পাত্রে সামান্য গরম জলের মধ্যে আমুলের গুঁড়ো দুধ গুলে তার মধ্যে কয়েকটা কেশর ভিজিয়ে রাখতে হবে।
এরপর গ্যাস জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে, কড়াইটা সামান্য গরম হলে দুই চামচ মত বেসন কড়াইতে দিয়ে খুন্তির সাহায্যে ভালোভাবে নাড়াচাড়া করে একটু ভেজে নিতে হবে, যাতে বেসনের কাঁচা গন্ধটা চলে যায়। এরপর সেই বেসন আগে থেকে তৈরি করে রাখা মিশ্রণের মধ্যে দিয়ে সমস্ত মসলাকে খুব ভালোভাবে ফেটিয়ে নিতে হবে। যাতে সমস্ত মসলা একে অপরের সাথে মিশে যায়।
এরপর আগে থেকে জল ঝরিয়ে রাখা চিকেনের টুকরোগুলো মসলার মধ্যে দিয়ে খুব ভালোভাবে ম্যারিনেট করে, দেড় থেকে দু'ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। যাতে মশলাটার ফ্লেভার মাংসের মধ্যে খুব ভালোভাবে ঢুকতে পারে
অন্যদিকে আরও একটা রোস্ট মসলা তৈরি করতে হবে। তার জন্য যে সকল উপকরণ আমি ব্যবহার করেছি সেগুলি হলো,- সা-জিরে, সা-মরিচ, গোটা গরম মসলা অর্থাৎ এলাচ, দারুচিনি ও লবঙ্গ, তার সাথে সামান্য জয়ফল ও জয়িত্রী দিয়ে সমস্ত গোটা মসলা গুলো হালকা আঁচে সামান্য ভেজে নিয়ে, তারপর গুঁড়ো করে নিতে হবে। তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে রোস্ট মশলা।
এবার কড়াই বসিয়ে তাতে পরিমাণ মতন ঘি গরম করে, আগে থেকে ম্যারিনেট করে রাখা চিকেনের টুকরাগুলো ঘি এর মধ্যে এদিক ওদিক করে ভালোভাবে ভেজে নিতে হবে।
সমস্ত মাংসগুলো ভাজা হয়ে গেলে সেগুলোকে তুলে রেখে, ম্যারিনেট করে রাখা পাত্রের মধ্যে অবশিষ্ট যে মসলা থাকবে সেটা কড়াই এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে। এরপর পাত্রটি ধুয়ে সামান্য জল দিয়ে মসলাটাকে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিতে হবে।
আগে থেকে তৈরি করে রাখা রোস্ট মসলার গুঁড়ো এই ঝোলের মধ্যে দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কষে নেওয়ার পর, ভেজে তুলে রাখা চিকেনের টুকরোগুলো দিয়ে আরও বেশ খানিকক্ষণ ফুটিয়ে নিতে হবে।
এরপর সামান্য চিনি এবং আগে থেকে দুধের মধ্যে ভিজিয়ে রাখা কেশর সমেত সম্পূর্ণ দুধটা ঝোলের মধ্যে দিয়ে দিতে হবে।
সমস্ত কিছু খুব ভালোভাবে মিশে গেলে এবং ঝোলও কিছুটা কমে এলে, অল্প পরিমাণ গরম মসলা এবং আগে থেকে তৈরি করে রাখার রোস্ট মসলা উপর থেকে ছড়িয়ে দিতে হবে।
![]() |
|---|
এরপর ঝোল আরও কিছুটা কমে এলে নামিয়ে নেওয়ার আগে উপর থেকে আরো সামান্য গোলাপ জল, কেওড়া জল ও দুফোঁটা আঁতর দিলেই তৈরি হয়ে যাবে ভীষণ সুস্বাদু চিকেন রোস্ট। আঁতরটা অপশনাল, চাইলে আপনারা নাও দিতে পারেন। এরপর আমি পরিবেশন করেছিলাম কড়াইশুটির কচুরির সাথে।
এই রান্নাটা একটু মসলাদার হয়। তাছাড়া সম্পূর্ণ রান্নাটা ঘি দিয়ে করা হয়। আসলে ঘি দিয়ে করলে তবেই রোস্টের আসল স্বাদ পাবেন। তবে এমন মসলাযুক্ত খাবার রোজ খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। কিন্তু বেশ কয়েকদিন বাদে বাদে যদি এমন ধরনের একটা পদ বাড়িতে রান্না হয়, তাহলে বোধহয় চিকেন খাওয়ার ইচ্ছা আরও বেড়ে যায়।
আমি যদিও রান্নাটা অনেক দিন আগে করেছিলাম সেই সময়কার ছবিগুলো তোলা ছিলো, তাই রেসিপিটি আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আগেই লিখেছিলাম। ভেবেছিলাম নেটওয়ার্ক পেলে শেয়ার করবো।
যাইহোক কেমন লাগলো আমার চিকেন রোস্টের রেসিপি অবশ্যই জানাবেন। আর আপনাদের কার কার এই চিকেন রোস্ট প্রিয়, তা মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না।
ভালো থাকবেন সকলে।































Curated by : @lirvic
Thank you for your support 🙏.