"সারাদিনের কার্যক্রম: একাদশী পালনের কিছু মুহূর্ত"

in Incredible India12 hours ago
IMG_20260427_201809.jpg
"এইবছর আমাদের গাছে ফোঁটা স্থলপদ্ম ফুল"

Hello,

Everyone,

প্রায় ১৮ দিন বাদে আজ শুভ প্রথম অফিসে গেলো। কাকতালীয়ভাবে আজ ছিল "মোহিনী একাদশী"। শ্বশুরমশাই মারা যাওয়ার পর এটা যে প্রথম একাদশী এমনটা নয়, এর আগের একাদশী যেদিন ছিলো, সেদিন আমাদের গুরুদশা চলছিলো অর্থাৎ শ্বশুর মশাই মারা যাওয়ার ১৩ দিনের নিয়ম শেষ হয়নি তখনও।

শশুর মশাইয়ের মৃত্যুর পর আজ ছিলো দ্বিতীয় একাদশী। শ্বশুরমশাইয়ের বাৎসরিক কাজ হওয়া পর্যন্ত এক বছর আমি, শুভ ও শাশুড়ি মা একাদশী ব্রত পালন করবো। আমি অবশ্য আরও প্রায় এক বছর আগে থেকেই করি। তবে শাশুড়ি মা ও শুভ মূলত আজ থেকেই একাদশী‌ ব্রত শুরু করলো।

IMG_20260427_174427.jpg
"সকালের আবহাওয়া"

শুভর অফিস থাকলে যেভাবে আগে প্রত্যেকটা দিন কাটতো, আজকের সকালটাও ঠিক সেভাবেই শুরু হয়েছিলো। ঘুম থেকে উঠে আকাশের মুখ ভার দেখেছিলাম, ভেবেছিলাম হয়তো বৃষ্টি নামবে।

আজ না ছিলো রান্নার তাড়াহুড়ো, না ছিলো শ্বশুর মশাইকে ওষুধ দেওয়ার ব্যস্ততা। তাই সকাল থেকেই এক শূন্যতায় শুরু হয়েছিল দিনটা। শুভ যেহেতু অফিসে যাবে, আবার একাদশীও পালন করবে। তাই ওর জন্য একাদশীতে খাওয়া যায় এমন কিছু খাবার তৈরি করার প্রয়োজন ছিলো আজ। রোজকার মতো ভাত, মাছ রান্না করার কোনো তাড়াহুড়ো ছিলো না।

IMG_20260427_092337.jpg
"ছোলার ছাতু- শুভর আজকের ব্রেকফাস্ট"

তাই সবার প্রথমে ফ্রেশ হয়ে ঠাকুরের শয়ন তুলে, তারপর গাছের ফুল তুললাম। শাশুড়ি মাও ততক্ষণে ঘুম থেকে উঠে পড়েছিলেন। আসলে গতকাল রাতে সকলেই একটু তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েছিলাম। অফিসে যাওয়ার আগে শুভকে আজ ছোলার ছাতু বানিয়ে দিয়েছিলাম, সেটা খেয়েই ও অফিসে গেছে।

IMG_20260427_094039.jpg
"পেয়ারা ও গন্ধরাজ লেবুর টুকরো"
IMG_20260427_094034.jpg
"টুকরো করে কাটা সেদ্ধ আলু, ও শশা। সাথে ছিলো কাঁচালঙ্কা কুচিও"
IMG_20260427_092330.jpg
"ড্রাই ফ্রুটস (খেজুর, কিসমিস ও আমান্ড)"

টিফিন হিসেবে ওকে একটু আলু কাবলি তৈরি করে দিয়েছি। আলু সেদ্ধ করে টুকরো করে কেটে নিয়েছিলাম, তার মধ্যে শসা কুচি কাঁচা লঙ্কা কুচি দিয়েছিলাম। তবে লবণ, লেবু, ও বাদাম আলাদাভাবে দিয়ে দিয়েছি। একসাথে দিয়ে দিলে দুপুর পর্যন্ত কেমন থাকবে সেটা বুঝতে পারছিলাম না।

তাই যখন ও খাবে তখন একটু মিলিয়ে নিলেই হবে, এমনটা ভেবেই সবটা গুছিয়ে দিয়েছিলাম। তার সাথে একটা গোটা পেয়ারা ও কিছু ড্রাই ফ্রুটস দিয়ে দিয়েছি। যাতে ব্রেক টাইমে খিদে পেলে একটু খেয়ে নিতে পারে।

IMG_20260427_225558.jpg
"বাড়ির নিত্যপুজো"

আজ শুভ অফিসে চলে যাওয়ার পর থেকেই সম্পূর্ণ বাড়ি বড্ড খালি লাগছিলো। শাশুড়ি মা নিজের কাজে ব্যস্ত ছিলেন আর আমিও। ঘরের কাজ সম্পন্ন করে আমি আসলে পুজো দিতে চলে গিয়েছিলাম। শাশুড়ি মা একটু দোকানে গিয়েছিলেন টুকটাক কিছু মুদি বাজার আনতে। সেগুলো এনে তিনিও তাড়াতাড়ি করে স্নান করে নিয়েছিলেন। আজ আসলে আমাদের কোনো রান্না ছিলো না।

IMG_20260427_195605.jpg
"ভিজিয়ে রাখা সাবু"

কাল রাতেই শুভ কিছু ফল এনে রেখেছিলো, সেগুলো দিয়েই আজ পূজো দিয়েছি এবং আমি ও শাশুড়ি মা দুপুরবেলায় সেই প্রসাদই খেয়েছি। শাশুড়ি মায়ের জন্য অবশ্য আলাদা করে সাবু ভিজিয়ে রেখেছিলাম। কারণ উনি আলু সেদ্ধ খেতে খুব একটা পছন্দ করেন না। তার থেকে দুধ দিয়ে সাবুই খাবেন। সাথে যদি চান তাহলে কলাও নিয়ে নিতে পারেন।

এরপর থেকে দুপুরবেলায় বসে মোবাইল দেখলাম বেশ কিছুক্ষণ। তারপর দিদি ফোন করলো। পরশুদিন আমাদের এখানে ভোট রয়েছে, তাই কিভাবে গ্রামের বাড়িতে যাবো, কখন যাবো, সেই সব বিষয়ে কথা হলো ওর সাথে। এই ভোট দিতে যাওয়াটাও যেন এখন বেশ সমস্যার মনে হচ্ছে।

সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছটা পর্যন্ত যেভাবে বিধিনিষেধ থাকবে বলছে, তাতে আদেও বাড়িতে যাওয়ার জন্য ঠিকঠাক গাড়ি পাবো কি না বুঝে উঠতে পারছি না। দিদির সাথে এই বিষয়ে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলার পর দুপুরে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতে পারিনি।

বিকেলের দিকে ঘুম ভাঙলো বান্ধবীদের মেসেজের আওয়াজে। একের পর এক whatsapp এ মেসেজ আসছিলো। আসলে অনেক মাস আগে থেকেই সকলে সিকিমে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করছিলো।

তবে শ্বশুর মশাইয়ের শারীরিক অবস্থার জন্য আমি কিছুতেই মত দিতে পারছিলাম না। তাই এখন সকলে মিলে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যানেই ব্যস্ত। ভোট দিতে গিয়ে এই বিষয়ের সামনাসামনি ওদের সাথে কথা হবে, তখন হয়তো একটা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে।

IMG_20260427_174422.jpg
"বিকালের আবহাওয়া"

বিকেলের দিকে গাছে জল দিতে গিয়ে দেখলাম আকাশের মেঘ তখনও ভার।দুপুরের দিকে দু চার ফোঁটা বৃষ্টি হলেও এখনও পর্যন্ত বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। তবে একটা জিনিস ভালো হয়েছে আবহাওয়া অনেকটা ঠান্ডা হয়েছে। গত পরশুদিন ভীষণ গরম ছিলো। গতকাল থেকে তাপমাত্রা বোধহয় একটু কমেছে।

IMG_20260427_201452.jpg
"আমার রাতের ডিনার- সেদ্ধ আলু, শশা ও‌ বাদাম"

যাইহোক একটু বাদে সন্ধ্যা হলে সন্ধ্যা পুজো সেরে তারপর আমি একটু আলু সেদ্ধ করে খেয়ে নিলাম। আর এখন বসে একটা ওয়েব সিরিজ দেখছি যার নাম "উত্তরণ"। এখনও পর্যন্ত মোটামুটি ভালোই লাগছে, তবে পোস্ট লেখার সময় অতিবাহিত হচ্ছে বলে পোস্ট লিখতে বসলাম।

ইচ্ছা আছে রাতের দিকে ওয়েব সিরিজটা শেষ করবো। তারপর ওয়েব সিরিজের রিভিউ আপনাদের সাথে একটা পোস্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করবো। যাইহোক বহুদিন বাদে আজ শুভ অফিসে গেলেও আমি আর শাশুড়ি মা কিন্তু সারাদিন বেশ একাকীত্ব বোধ করেছি। যদিও দুজনের অনুভূতিই দুজনের কাছে অপ্রকাশিত ছিলো।

আশাকরি আপনাদের সকলের দিনটা ভালো কেটেছে। আপনাদের সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের লেখা এখানেই শেষ করছি। ভালো থাকবেন।

Sort:  
Loading...