"গতকাল সারাদিন আনন্দ করে অবশেষে মামাবাড়ি এসে পৌঁছালাম"

in Incredible India8 hours ago
IMG_20260703_125522.jpg
"আমাদের গাছে ফোঁটা টাইম ফুল"

Hello,

Everyone,

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটা খুব ভালো কাটছে।

আমার দিনটা আজ খুব ভালোভাবে শুরু হয়েছে, কারণ এই মুহূর্তে আমি মামা বাড়িতে আছি। আপনাদের আগে একটা পোস্টেই জানিয়েছিলাম, মামীর শারীরিক অবস্থার কথা। তাই মামীকে দেখতে এলাম‌‌ গতকাল রাতে‌। আর মামা বাড়িতে থাকতে আমার খুব ভালো লাগে, কারণ এই বাড়িতে আমি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছা মতন থাকতে পারি।

আজ অনেকদিন বাদে অনেকটা বেলা পর্যন্ত ঘুমিয়েছি। আর গতকাল রাতে বেশ ক্লান্ত থাকার দরুন, কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তা বুঝতেই পারিনি। এই‌কারনে গতকাল রাতে পোস্ট লেখা হয়ে ওঠেনি। সকালে ব্রেকফাস্ট করার পর এখন বসলাম পোস্ট লিখতে।

IMG_20260703_115126.jpg
"ট্রেনে বেশ ভীড় ছিলো"
IMG_20260703_115120.jpg
"একজন বয়েস্ক মানুষ এই ফুল‌গুলো নিয়ে কলকাতায় যাচ্ছিলেন বিক্রি করার জন্য"
IMG_20260703_121725.jpg
"ট্রেন থেকে নেমে তোলা ছবি। তখনও‌ বেশ‌ রোদ্দুর ছিলো"

সত্যি কথা বলতে গতকাল থেকেই দিনটা সুন্দর ভাবে কাটছে। গতকাল সকালে গিয়েছিলাম আমাদের অ্যাডমিন ম্যামের বাড়ি। আশাকরি ওনার পোস্টে আপনারা সে কথা পড়েছেন। সকালের দিকে‌ বাড়ির কাজ মোটামুটি গুছিয়ে, শুভ অফিসে বেরিয়ে যাওয়ার পর, পূজো শেষ করে তারপর ম্যামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য রওনা করেছিলাম।

IMG_20260703_130736.jpg
"মিও আমোরেতে দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম দুজনের জন্য একটা কেক নিই। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত নিয়ে চারটি পেস্ট্রিই নিলাম। যার ছবি পরে আর তোলা হয়নি"

টিকিট কেটে প্রায় দৌড়ে গিয়ে ট্রেন ধরলাম। তার স্টেশনে নেমে, বাজার থেকে একটু ধনেপাতা আর‌ চারটে পেস্ট্রি নিয়ে, ১২:৩০ টা নাগাদ ম্যামের বাড়িতে পৌঁছলাম। তারপর সময়টা খুব সুন্দর ভাবে অতিবাহিত হয়েছে।

ম্যাম গতকাল আমার জন্য নিজের হাতে থেচা তৈরি করেছিলেন, যেটা খেতে অসম্ভব সুস্বাদু ছিলো। গতকালই আমি প্রথমবার খেয়েছি। লাঞ্চে আমরা যে মোমো অর্ডার করেছিলাম, তার সাথে আমরা থেচাই খেয়েছি, মোমোর সাথে দেওয়া চাটনি দুজনের কেউই আর খাইনি।

থেচার সাথে মোমো খেতে অসম্ভব সুন্দর লাগছিলো। রেসিপিটি আগে ম্যামের পোস্টে পড়েছিলাম, গতকাল সামনে দাঁড়িয়ে বানাতে দেখেছি, তাই এরপরে আমি নিজেও বাড়িতে একবার তৈরি করবো। তবে ম্যামের মতন এতোটা পারফেক্ট হবে কিনা জানিনা।

IMG_20260703_170337.jpg
"ম্যামের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মলে যাওয়ার সময় তোলা ছবি, আকাশে তখনও বেশ ভালো মেঘ ছিলো।"

যাইহোক দুপুরের লাঞ্চ শেষ করার পর একটু বৃষ্টি হলো। তবে কিছুক্ষণ গল্প করার পর, দুজনে মিলে বেরিয়ে পড়েছিলাম মলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। কারন ততক্ষণে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। আমার ও ম্যামের কিছু জিনিস কেনার ছিলো। অনেকদিন আগে আমরা দুজন একসাথে বেরিয়েই কিছু জিনিস কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম।

IMG_20260703_114441.jpg
"গতকাল মল থেকে কেনা দু প্যাকেট খেজুর।"

সেগুলোই পুনরায় কেনার জন্য গতকালও মলে গিয়েছিলাম। আগেরবার মলে গিয়ে যে ছোট্ট ছোট্ট কাঁচের কৌটো কিনেছিলাম, সেগুলো আর এবার পেলাম না। তাহলে আমার বোনের জন্য নিয়ে আসতাম।

যাইহোক কেনাকাটার শেষে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবো, এমন সময় আমার দিদি ফোন করে জানালো আমার বড়দির শাশুড়ি মা হাবরা হসপিটালে ভর্তি আছেন। আমি যেহেতু হাবরাতেই মামা বাড়িতে আসবো, তাই দিদি বললো‌ সম্ভব হলে হয় যেন একবার দেখা করে আসি। সেই মুহূর্তে ফোন করে জানলাম রাতের বেলায় ভিজিটিং আওয়ার নেই। তাই দেখা করতে দেবে না।

IMG_20260703_122047.jpg
"মূলত এই হ্যান্ডমেড সাবান গুলো কিনতেই গতকাল গিয়েছিলাম মলে। আগেরবার এগুলো ব্যবহার করে এতো ভালো লেগেছে যে, এইবার অনেকগুলো সাবান কিনেছি।"

তবুও হাবরা স্টেশনে নেমে আমি একবার দিদির ছেলেকে ফোন করলাম। তখনই ও‌ বললো ৮.৩০ পর্যন্ত দেখা করতে দেবে, তাই তাড়াহুড়ো করে পৌঁছালাম হসপিটালে। দিদির ছেলের সাথে ভিতরে ঢুকে একবার দেখা করে এলাম মাসিমার সাথে। আগেরদিন রাতে ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। গতকাল দেখলাম মোটামুটি একটু ঠিক আছেন। স্যালাইন চলছে তখনও।

যাইহোক তাড়াহুড়োতে সেখান থেকে বেড়িয়ে আসলাম। সেখানকার আর কোনো ছবি তোলার সময় হয়নি। কারণ মামা বাড়িতে ফেরেন তাড়া ছিলো। ততক্ষণে রাত প্রায় নটার কাছাকাছি বেজে গিয়েছিলো, তাই আমিও স্টেশনে এসে সেখান থেকে ধরে‌ টোটো মামা বাড়িতে এলাম।

IMG_20260703_114422.jpg
"ঠাকুরের জন্য কেনা ধূপ কাঠি। চারটি আলাদা আলাদা সুগন্ধ যুক্ত ধূপকাঠি এনেছি এবার।"

সেখানে এসে প্রথমে স্নান করে নিলাম। যেহেতু হসপিটালে গিয়েছিলাম, তাই স্নান না করলে ঠিক ভালো লাগছিলো না। আর সারাদিন এতো জায়গায় ঘুরেছি যে গরমে অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। মামী রাতের খাবারের জন্য গরম ভাত আর আমার প্রিয় মামীর হাতের ডিমের ঝোল রান্না করেছিলো। সেটা দিয়ে রাতের ডিনার করার পর গল্প করলাম কিছুক্ষণ।

তারপর বোনের ঘরে এসে কিছুক্ষণ কথা বলে ভাবলাম পোস্ট লেখা শুরু করবো। তবে কখন বালিশে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়েছি, আর কখন ঘুমিয়ে পড়েছে বুঝতে পারিনি। মাঝে ঘুম ভেঙে ছিলো একবার যখন ঘড়িতে প্রায় দুটো বাজে। তখন ঘুম ভেঙে ছিলো জল পিপাসার কারণে। জল‌ খেয়ে তারপর আবার ঘুমিয়ে পড়েছি।‌ একেবারে ঘুম ভেঙেছে সকালে।

তারপর থেকে বাড়িতে বেশ আনন্দ করেই সময় অতিবাহিত হচ্ছে। মামা বাড়িতে সারাদিন কি করছি সেটা পরের পোস্টে শেয়ার করবো আপনাদের সাথে। আমরা দিনটা দারুন কাটছে, সাথে সাথে আপনাদের সকলের আজকের দিনটা খুব ভালো কাটুক এই প্রার্থনা করে আজকের লেখা শেষ করলাম। ভালো থাকবেন সকলে।

Sort:  
Loading...
 6 hours ago (edited)

@sampabiswas বলছি থেচার কথা লিখলি, সাথে এটাও উল্লেখ করলি যে, তোর পছন্দ হয়েছে থেচা!
তবে, এই যে সাবানের গল্পটা দিলি, এই সাবান আর তোর ওই কাঁচের বোতল এর সূত্রপাতের মূলে কে, সেই কৃতিত্ব তো দিলই না রে! এই রহস্য তো রহস্যই থেকে গেলো!
দেখ ঠিক এই কারণে কাঁচের বোতলে উধাও আর এই যে তুই কৃতিত্ব দিলি না, এরপর ওই সাবান ও উধাও হয়ে যাবে এই বলে দিলাম!☝️😆

image.png
Curated By: lirvic