The February contest #2 by sduttaskitchen|Modern lifestyle and its side effects!
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
বহুদিন বাদে আজ আমি অংশগ্রহণ করতে চলেছি আমাদের কমিউনিটিতে অ্যাডমিন ম্যাম কর্তৃক আয়োজিত কনটেস্টে। পূর্বের বেশ কয়েকটি কনটেস্টের বিষয়বস্তু পছন্দ হলেও সময়ের অভাবে আর তাতে অংশগ্রহণ করা হয়ে ওঠেনি। কারণ কনটেস্টের বিষয়বস্তু সম্পর্কে নিজের মতামত উপস্থাপন করতে গেলে বিষয়টিকে নিয়ে যথেষ্ট ভেবে লেখার প্রয়োজনীয়তা আমি বারংবার অনুভব করি।
যাইহোক আজকের কনটেস্টেও আমি নিজস্ব মতামত উপস্থাপন করার জন্য উপস্থিত হয়েছি। এখনও পর্যন্ত যারা কনটেস্টে অংশগ্রহণ করেননি, তাদেরকে অনুরোধ করবো নিজস্ব মতামত শেয়ার করার জন্য। কনটেস্ট এর নিয়ম অনুসারে আমি আমার তিনজন বন্ধু @mou.sumi, @wirngo ও @muktaseo কে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানালাম।
|
|---|
সমসাময়িক জীবনধারা আমাদের সমাজের বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে একেবারে ছোট্ট শিশুদেরকেও প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করে চলেছে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। পরিবর্তন এই পৃথিবীর নিয়ম। তাই যুগে যুগে আবিষ্কৃত হয়েছে অত্যাধুনিক বহু জিনিস। সেটা আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী থেকে শুরু করে, বড় বড় কল কারখানায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি পর্যন্ত।
আর ধীরে ধীরে আমরাও সেইসব জিনিসে অভ্যস্থ হয়ে পরেছি। নিজেদের প্রয়োজন অনুসারে বেছে নিয়েছি আধুনিকতার ছোঁয়াকে। আর নিজেদের অজান্তেই বহুক্ষেত্রে নিজেদের জীবনে আধুনিকতার কুপ্রভাবকে স্বাগত জানিয়েছি। তবে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়া আমরা আমাদের জীবনকে কল্পনাও করতে পারি না।
সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত, আমাদের সর্বক্ষণের সঙ্গী স্মার্টফোন। এর পাশাপাশি জীবন যাপনের প্রতিটি পর্যায়ে কোনো না কোনোভাবে আমরা আজ প্রযুক্তির উপরে নির্ভর করি। আর এই নির্ভরতা আমাদের জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, পাশাপাশি আমাদেরকে অলস করে তুলেছে।
পরিশ্রম করে কোনো কাজ করাতে আজকাল আমরা একেবারেই অভ্যস্ত নই। ফলতো শরীরে বাসা বাঁধছে বিভিন্ন রকমের শারীরিক সমস্যা। নিজেদের একটা ছোট্ট জগত আমরা সকলেই প্রায় তৈরি করে নিয়েছি। ফলত কাছের মানুষদের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েই চলেছে প্রতিনিয়ত। আর এই সবটাই এতো নীরবে হয়ে চলেছে যে, নিজেদের জীবনের ক্ষতিকর দিকগুলো আমরা নিজেরাই আজ আর উপলব্ধি করতে পারি না।
|
|---|
অবশ্যই আমি বিশ্বাস করি নতুন কোনো জিনিসকে আয়ত্ত করার পূর্বে সেই জিনিস সম্পর্কে আমাদের সঠিকভাবে জেনে নেওয়া উচিত। বর্তমান যুগে দাঁড়িয়ে আমি যদি আমার ছেলেবেলার কথা চিন্তা করি তাহলে তা ছিল একেবারেই সাদামাটা। যে জীবনযাপন আজকালকার দিনের ছেলেমেয়েদের কাছে শুধুমাত্র গল্পকথা। কারণ এমন জীবনও যে, হতে পারে এই বিষয়টি আজকালকার বাচ্চাদের জন্য একেবারেই অবিশ্বাস্য। কারণ তারা নিজেদের জীবনটাকে স্মার্টফোন ছাড়া কল্পনাও করতে পারে না।
আর আমাদের ছোটোবেলাতে স্মার্ট ফোন তো দূরের কথা, ঘরে ঘরে তখন ল্যান্ডফোনেরও ব্যবস্থা ছিলো না। সারা গ্রামের মধ্যে হয়তো একটি বাড়িতে ফোন ছিলো, যেখানে অত্যন্ত প্রয়োজনে আমাদের পরিচিতরা ফোন করতো। এইভাবে কিন্তু কেটেছে আমাদের ছোটবেলা।
তবে আমি বরাবর বিশ্বাস করি প্রযুক্তির আমাদের জীবনে অনেক গুরুত্ব রয়েছে। তবে যে কোনো জিনিসকে কিভাবে ব্যবহার করবো, সেই বিষয়টি নিয়ে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। একটা স্মার্ট ফোন আমাদের জীবনের অনেক সমস্যার সমাধান নিমেষের মধ্যেই করে দেয়। আবার যদি আমি ভাবতে বসি তাহলে এই স্মার্টফোনের কারণেই আমরা আমাদের জীবনের বহু অমূল্য সময় আমরা বিনা প্রয়োজনেই নষ্ট করে ফেলি।
যেই সময় আমরা ফোনে গেম খেলে বা ভিডিও দেখে ব্যয় করি, সেই সময়ের মধ্যে জীবনের অন্যান্য আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ শেষ করা সম্ভব। কিন্তু আমরা এতোটাই বেশি সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় অতিবাহিত করায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি যে, তাকে একপ্রকার নেশা বলাই ভালো। যে নেশা কাটিয়ে ওঠা কিন্তু যথেষ্ট কষ্টকর একটি কাজ।
আর নিজের পাশাপাশি কখন নিজের সন্তানেরাও যে এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে, সে বিষয়টিও হয়তো অনেক সময় আমরা উপলব্ধি করতে পারি না। তাই প্রত্যক্ষভাবে তো বটেই বরং পরোক্ষভাবেও আমার সন্তানদের উপরে প্রযুক্তির প্রভাব খারাপ ভাবেই পরছে।
অন্যদিকে যদি ভাবি তাহলে এই সন্তানদের জন্যই এই স্মার্টফোন গোটা লকডাউন জুড়ে পড়াশোনার মাধ্যম হয়ে উঠেছিলো। তাই সন্তানের কাছে এই ফোনের প্রয়োজনীয়তা কিভাবে উপস্থাপন করবো, সে বিষয়টির গুরুত্ব আগে নিজেকে বুঝতে হবে। তবেই হয়তো তা আমরা সন্তানদেরকে বুঝিয়ে উঠতে পারবো।
আজকাল প্রায়শই দেখি বাচ্চারা খেতে না চাইলে মায়েরা ফোন চালিয়ে দিয়ে বাচ্চাদেরকে খাওয়ায়। অথচ তারা বুঝতেই পারেনা এটাই কিন্তু একটা অভ্যাস হয়ে যায়। ফলতো খাবার খেতে বসা মানেই তারা ফোনটা পাবে, এই বিষয়টি তাদের কাছে খুব সাধারণ হয়ে ওঠে।
তাই বাচ্চাদের ক্ষেত্রে হোক কিংবা নিজেদের ক্ষেত্রে, কোনো নতুন অভ্যাস রপ্ত করার আগে সেই বিষয়টি কতখানি ক্ষতিকর কিংবা নিজের জন্য কতখানি উপকারী, এই বিষয়টিকে ভাবার প্রয়োজন অবশ্যই রয়েছে। কারণ ফোন দেখে খাবার খাওয়ার থেকেও আমার মনে হয় বাইরের পরিবেশ দেখে খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস তৈরি করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তাতে পরিবেশের সাথে বাচ্চার একটি সম্পর্ক তৈরি হয়। অনেক ছোটো ছোটো প্রশ্ন ওদের মনে জাগে। যেগুলোর উত্তর ওকে খাবার খাওয়ানোর সময় আদান-প্রদান করলে, বাচ্চার পারিপার্শ্বিক জ্ঞানও বৃদ্ধি পায়। তাই কোনটা বাচ্চার জন্য সঠিক, সেই বিচার বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
|
|---|
এই প্রশ্নটির উত্তরের খানিকটা বোধহয় আমি উপরের উত্তরের মধ্যেই লিখেছি। আজকালকার বাচ্চাদের কাছে শৈশব মানেই তা মোবাইল ফোন কিংবা কম্পিউটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও কিংবা কাছের মানুষদের সাথে ইমোশনাল বন্ডিং তৈরি করার বিষয় হোক, সবটাই কেমন যেন পিছিয়ে পড়ছে অত্যাধিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে।
আজকাল বাচ্চাদের থেকেও অভিভাবকদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব বেশি পরিলক্ষ্যিত হয়। তাই অন্যদের দেখে নিজের বাচ্চাকেও বিভিন্ন ধরনের অ্যাক্টিভিটিতে যুক্ত করার চেষ্টা করে সকল অভিভাবকেরা। তবে তারা এটা বোঝার চেষ্টাও করে না, আদেও তার বাচ্চার সেই বিষয়টির প্রতি কোনো আগ্রহ রয়েছে কিনা। এটা না জেনেই তার উপরে বিষয়টি জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা, বাচ্চার শৈশবের দিনগুলোকে নষ্ট করে। এই সাধারণ কথাটাও অনেক অভিভাবকের বোধগম্য হয় না। ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়টি আমি ভীষণ অপছন্দ করি।
শৈশব মানে বাচ্চার জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যেখানে নতুন নতুন জিনিসের সাথে পরিচিত হওয়ার উৎসাহ থাকে তার মনে। পরিবারের মানুষদের সাথে ছোট ছোট মুহূর্ত উপভোগ করার সুযোগ থাকে তার কাছে। সেই সমস্ত কিছুকেই প্রতিযোগিতার লাইনে দাঁড় করিয়ে সবটা নষ্ট করার ঘোর বিরোধী আমি।
এই শৈশব থেকেই একটা বাচ্চাকে সঠিক শিক্ষা দিয়ে বড় করার দায়িত্ব থাকে অভিভাবকের উপরে। যেখানে কাছের মানুষদের সাথে তৈরি হয় ভালোবাসার সম্পর্ক, সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান হোক কিংবা নিয়মকানুন, অথবা সমাজের একজন হয়ে তার নিজের কি দায়িত্ববোধ হওয়া উচিত এই সমস্ত শিক্ষাই সেই ছোটো থেকে তাদেরকে শেখানো উচিত।
যাতে একটা বয়সের পর এই বিষয়টি তার ভিতরে কাজ করে এবং সমাজের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা হোক অথবা পরিবারের প্রতি নিজের দায়িত্ব। আপন জনকে ভালো রাখার চেষ্টা হোক কিংবা প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দিন যাপন, এইসব বিষয় শিশুটি আয়ত্ত করতে পারে।
|
|---|
কনটেস্টের বিষয়বস্তু সম্পর্কে এই ছিলো আমার ব্যক্তিগত মতামত। আধুনিকতার কিংবা প্রযুক্তির ব্যবহারের আমি বিরোধী নই। যুগের পরিবর্তনের সাথে সমস্ত কিছুর সঙ্গে তাল মেলানো অবশ্যই প্রয়োজন। তবে তা আয়ত্ত করার মানে এই নয় যে, পূর্বের সমস্ত কিছুই ত্যাগ করতে হবে। বরং পূর্বের শেখা সমস্ত ভালো শিক্ষা গুলোকে আধুনিকতার সাহায্যে আরও কিভাবে বেশি ভালো করা যায়, সেই প্রচেষ্টা যদি আমরা সকলে করি তাহলে বোধহয় সমাজ, পৃথিবী, আরও অনেক বেশি সুন্দর ও সাবলীল হবে।
আপনাদের কেমন লাগলো আমার লেখা পড়ে, তা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। শুভরাত্রি।





Thank you for your support 🙏.