"Recipe : - Tilapia fish with green tomatoes"
|
|---|
Hello,
Everyone,
বাঙ্গালীদের সম্পর্কে বেশ কিছু প্রবাদ প্রচলিত আছে, যেগুলো আমরা সকলেই মাঝে মধ্যে শুনে থাকি। যেমন ধরুন, "বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ", "মাছে ভাতে বাঙালি অর্থাৎ বাঙালির প্রিয় খাবার মাছ ও ভাত" ইত্যাদি।
তবে এই মাছেরও যে কত প্রকারভেদ রয়েছে তা বলে শেষ করা যাবে না। এমন কি শুধু মাছের প্রকারভেদ নয়, তা রান্না করার যে আলাদা আলাদা কৌশল বাঙালিরা অবলম্বন করে, তাও বেশ অবাক করার মতো।
বিভিন্ন ধরনের সবজি দিয়ে তো বটেই, তাছাড়া কলাপাতায় মাছ পাতুরি, সরষে বাটা দিয়ে মাছ ভাঁপা, টক দই দিয়ে মাছের রেসিপি, এমনকি পেঁয়াজ রসুন ব্যবহার করেও অনেক মাছ রান্না করা হয়ে থাকে।
সকলেই নিজেদের পছন্দের মাছ, নিজেদের মতো করে রান্না করে। আজ তেমনই একটি পছন্দসই মাছের রেসিপি আপনাদের সাথে উপস্থাপন করতে চলেছি। মাছ খেতে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা পছন্দ করি না। খুব নির্দিষ্ট কিছু মাছ আমি খেয়ে থাকি। তাদের মধ্যে একটি হলো "তেলাপিয়া"।
বিভিন্ন সবজি দিয়ে এই মাছটি রান্না করলে আমার ভালো লাগে। তবে পাতুরি খেতেই সব থেকে বেশি পছন্দ করি। কিন্তু শহরে থাকতে গেলে সব সময় কলাপাতা জোগাড় করা সম্ভব হয়ে ওঠে না, ফলতো ইচ্ছা থাকলেও অনেক সময় পাতুরি খাওয়ার সুযোগ হয় না।
তবে আমার শাশুড়ি মা কলা পাতা ব্যবহার না করেও, কড়াইয়ের মধ্যেও সুন্দরভাবে পাতুরি করেন। যদিও এই দিনের রান্নাটা আমি করেছিলাম। তাই তখন কিছু ছবি তুলেছিলাম, ভাবলাম সেগুলো দিয়েই আজ আপনাদের সাথে এই মাছের রেসিপিটি শেয়ার করা যায় যাক,-
চলুন সবার প্রথমে আপনাদের সাথে শেয়ার করি এই রান্নাটি করতে আমি কি কি উপকরণ ব্যবহার করেছি,-
|
|---|
| নং | উপকরণ | পরিমাণ | ছবি |
|---|---|---|---|
| ১. | তেলাপিয়া মাছ | ৪-৫ পিস | ![]() |
| ২. | কাঁচা টমেটো কুচি | ৩টি মাঝারি সাইজের | ![]() |
| ৩. | কাঁচা জিরা ও কাঁচা লঙ্কা বাটা | ২-৩ চা চামচ | ![]() |
| ৪. | সরষের তেল | ১-২ চা চামচ | ![]() |
| ৫. | হলুদ | ১ চা চামচ | ![]() |
| ৬. | লবন | স্বাদ অনুসারে | ![]() |
|
|---|
সবার প্রথমে তেলাপিয়া মাছগুলোকে ভালো ভাবে কেটে, ধুয়ে, তার মধ্যে পরিমাণ মতো লবণ এবং হলুদ মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। যাতে মাছের মধ্যে ভালোভাবে সেগুলো ঢুকে যায়।
এইবার টমেটো গুলোকে ভালোভাবে ধুয়ে কুচি কুচি করে কেটে নিতে হবে, ঠিক যেমনটা আপনারা ছবিতে দেখতে পারছেন। এরপর সামান্য লবণ দিয়ে টমেটো গুলোকে কিছুক্ষণ মেখে রাখতে হবে যাতে টমেটো গুলো সামান্য নরম হয়ে যায়।
শিলনোড়ায় জিরে এবং কাঁচালঙ্কা ভালোভাবে বেটে নিতে হবে। চাইলে আপনারা সামান্য কালো সরষেও ব্যবহার করতে পারেন। তবে এদিন আমি ব্যবহার করিনি বলে আর উপকরণের মধ্যে তা লিখলাম না। চেষ্টা করবেন শিলনোড়াতেই মসলাটা বাটার, কারণ মিক্সিতে মসলা করলে পাতুরিতে সেই স্বাদ পাওয়া যায় না।
মসলা ভালোভাবে বাটা হয়ে গেলে, আগে থেকে নুন হলুদ মাখিয়ে রাখা মাছের মধ্যে মশলাটা দিয়ে মাছগুলোকেও ভালোভাবে মেখে নিতে হবে।
যাইহোক এবার কড়াই বসিয়ে তাতে সরষের তেল দিয়ে দিতে হবে। পাতুরি রান্না করার এটাই একটা ভালো জিনিস যে, এতে খুব কম পরিমাণে তেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তেল গরম হলে আগে থেকে কুচিয়ে রাখা কাঁচা টমেটো গুলো তেলের মধ্যে দিয়ে, সামান্য হলুদ দিয়ে ভাজতে হবে। এই সময় ঢেকে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, তাহলে টমেটোগুলো একেবারেই গলে যাবে।
টমেটোর মধ্যে সামান্য ভাজার দাগ দেখা গেলেই, তার মধ্যে আগে থেকে মেরিনেট করে রাখা মাছগুলোকে একটা একটা করে সাজিয়ে দিতে হবে, যেমনটা ছবিতে দেখতে পারছেন। তারপর যে পাত্রে মাছ ম্যারিনেট করা ছিল তাতে সামান্য জল দিয়ে সেই জলটাও কড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে দিতে হবে।
এরপর কড়াইটা ঢাকা দিয়ে, গ্যাসের ফ্লেম একেবারে কমিয়ে, প্রথমে একদিক ভালো ভাবে সেদ্ধ হতে দিতে হবে। এরপর খুব সাবধানে খুন্তির সাহায্যে মাছগুলোকে উল্টে দিতে হবে। এখানে কলাপাতা ব্যবহার করলে আলাদা করে খুন্তির ব্যবহার করা লাগে না। যেহেতু মাছগুলোকে ভাজা হয়নি তাই উল্টানোর সময় সাবধানতা অবলম্বন করতেই হবে নচেৎ মাছ গুলো ভেঙ্গে যেতে পারে।
একপাশ ভালোভাবে ভাজা হলে মাছটাকে উল্টে আরেক পাশ ভালো করে ভেজে নিতে হবে। হালকা পোড়া রং ধরলে বুঝতে হবে যে রান্না শেষ হয়ে এসেছে। এই মুহূর্তে আপনারা উপর থেকে ধনেপাতা ব্যবহার করতে পারেন, তাতে স্বাদটা আরও সুন্দর হয়। তবে সেদিন ঘরে ধনেপাতা না থাকায় আমি ব্যবহার করতে পারিনি।
যাইহোক এইবার গরম ভাতের সাথে সামান্য টমেটো ও মাছ নিয়ে, ভাত মেখে খেলে ভীষণ সুস্বাদু লাগে। কম তেল ব্যবহার করার জন্য স্বাদের পাশাপাশি এটি স্বাস্থ্যকরও বটে । যাইহোক আমি তো এইভাবে রান্না করেছিলাম, আপনারা কারা কারা পাতুরি খেতে পছন্দ করেন, তা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।
আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কাটুক, প্রত্যেকে ভালো থাকুন, এই প্রার্থনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। ধন্যবাদ।




















Thank you for your support 🙏.