"এমন একজন পোষ্য থাকলে মানুষ হিসাবে নিজেকে একটু উন্নত করা যায়, অনেক ভালো কিছু শেখা যায় এদের থেকে"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
শরীরের সাথে সাথে আজ মনটাও বেশ খারাপ। গত কয়েকদিন ধরেই শরীরটা বেশ নরবরে চলছিলো। তার ওপর গত দুদিন ধরে বেশ কিছু খবর মনটাকেও ভারাক্রান্ত করে তুলছে। আমাদের জীবন কতখানি অনিশ্চিত কিছু কিছু খবর তা যেন আরও স্পষ্ট ভাবে বুঝিয়ে দেয়।
তবে তাতেও যেন হুঁশ ফেরেনা আমাদের। একটা সময় জীবন ফুরিয়ে যাবে, এই পৃথিবী থেকে সাথে করে আমরা কোনো কিছু নিয়ে যেতে পারবো না। যখন সময় ফুরিয়ে যাবে সমস্ত কিছুই এখানে ফেলে রেখেই আমরা চলে যাবো। এই কথাটা জানি না এমন মানুষ গোটা পৃথিবীতে নেই। তা সত্ত্বেও মানুষের মনেই যতো হিংসা।
একে অপরের সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ লেগেই আছে। আমরাই মনের মধ্যে বিদ্বেষ পুষে রাখি। অপরের ক্ষতি করার চেষ্টা করি। যাদের সাথে মতের মিল হয়না, তাদের ক্ষতির প্রার্থনা করতেও দুবার ভাবি না। অথচ দেখুন একটা সময়ের পরে গিয়ে আদেও এই পৃথিবীতে কি হচ্ছে, কি চলছে, তার কোনোটাই কিন্তু আমাদের আর দেখার সুযোগ হবে না।
কথাগুলো খুব সাধারন। অথচ এই সাধারন কথাগুলো একটু গভীরভাবে ভাবলেই, জীবনটাকে আরো সাধারণভাবে নিতে পারলেই, হয়তো একটা অসাধারণ জীবন কাটানো সম্ভব হয়। তবে খুব কম সংখ্যক মানুষ আছেন, যারা এমন জীবন কাটানোর সৌভাগ্য নিয়ে জন্মান।
![]()
|
|---|
গতকাল রাতে পিকলুর কথা খুব মনে পড়ছিলো। ফোনের গ্যালারিতে সেভ করে রাখা ওর ভিডিও গুলো দেখতে দেখতে চোখ ঝাপসা হয়ে উঠছিলো। ওর উপস্থিতি যেন চারিদিকে অনুভব করতে পারছিলাম।
এ এমন এক আত্মিক টান যা আসলে ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। তবে যাদের বাড়িতে পোষ্য আছে, যারা পশুদের ভালবাসেন, তাদের কাছে হয়তো আলাদাভাবে এই অনুভূত প্রকাশের প্রয়োজন হবে না।
একটা সময় আমার পোস্টে প্রায়শই পিকলুর কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতাম। কারণ ও আমার জীবনে প্রতিদিনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিলো। ওর সাথে থেকে মানসিক দিক থেকে আমি নিজে এক অবর্ণনীয় শান্তি পেতাম, যা বুঝিয়ে বলতে পারবে না আপনাদের।
![]()
|
|---|
ঈশ্বর শুধু ওদের ভাষায় নিজের অনুভূতি প্রকাশের ক্ষমতা টুকু দেননি, তবে মানুষদের থেকেও অনেক বড় মন দিয়েছে ওদের। আর সাথে দিয়েছেন বিশ্বাসযোগ্যতা।বিশ্বাসঘাতকতার সাথে ওদের কোনো কালেই পরিচয় হয়নি। এই গুন শুধু মানুষের মধ্যেই আছে। তাই খুব প্রিয় মানুষগুলো চোখের পলকে মিথ্যে বলে আমাদের বিশ্বাস ভাঙতে পারে, আমাদের কষ্ট দিতে পারে।
তবে পিকলুর মতন পোষ্যরা কোনোদিন কাউকে কষ্ট দেয় না। ওরা কষ্ট দিতেই জানে না। কিন্তু আমরা মানুষেরা নির্দ্বিধায় ওদেরকে কষ্ট দিতে পারি, কারণ ওরা কারোর কাছে নালিশ জানাতে পারে না। তাই অবলীলায় ওদেরকে মারতে পারি, ওদেরকে বকতে পারি।
![]()
|
|---|
পিকলু আমার জীবনে নেই প্রায় এক বছর হতে চললো। ওর জায়গা আর কেউ কখনো নিতে পারবে না। আর আমিও ঠিক করেছি বাড়িতে আর কখনো কোনো পোষ্য আনবো না। পিকলুকে হারিয়ে যে তীব্র যন্ত্রণা আমি অনুভব করেছি, ক্রমাগত করে চলেছি, তা আর দ্বিতীয়বার সহ্য করার ক্ষমতা নেই আমার মধ্যে।
কিন্তু কি অদ্ভুত বিষয় জানেন? কয়েকদিন আগে আমাদের এখানে একটা ছোট্ট কুকুর তিনটে বাচ্চা দিয়েছে। মূলত মা কুকুরটিই ভীষণ ছোটো, তার উপরে তিনটি সন্তানের জন্ম দিয়ে ও যেন আরও বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
প্রেগন্যান্ট অবস্থা থেকেই আমাদের বাড়ির সামনে দিনের বেশিরভাগ সময় শুয়ে থাকতো। গেট খোলার আওয়াজ যেই পেতো মুখ ঘুরিয়ে তাকাতো খাওয়ার আশায়। প্রথমে ভেবেছি এক দুবারই হয়তো খাবে। কখন বাচ্চা হবে তা ঠিক নেই, তাই তখন থেকেই ওকে খাবার দেওয়া শুরু করেছি।
তিন সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরেও এখনো সেই নির্দিষ্ট সময় গেটের বাইরে এসে বসতে তার ভুল হয় না। কি সুন্দর ভাবে ও যেন আমাদের রুটিনের সাথে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। দুপুরে এবং রাতে সঠিক সময়ে এসে উপস্থিত হয়ে যায় খাবার খাওয়ার জন্য।
![]()
|
|---|
ওকে খাবার দেওয়াটা এখন আমাদের অভ্যাস। একবার না দিতে পারলে মনটা যেন ভালো লাগে না। আবার শশুর মশাই গিয়ে রাস্তা থেকে ওকে ডেকে নিয়ে আসে। অদ্ভুত বিষয় আজকাল আর ডাকাও লাগে না। শ্বশুর মশাই রাস্তায় গিয়ে দাঁড়ালেই বুঝতে পারে ওকে ডাকতে এসেছে।
**এভাবেই যেন আবার একজনের মায়ায় জড়িয়ে পড়ছি। কিন্তু এমায়া বড় ভয়ংকর। কাটিয়ে ওঠা প্রয়োজন বুঝতে পারি, কিন্তু কিছু করতে পারি না। গতকাল ঐ কুকুরটাকে খাবার দিতে গিয়ে হঠাৎ করে পিপুলের জন্য মনটা খারাপ লাগছিলো।
আমি আমার গ্যালারিতে পিকলুর ছবি বা ভিডিও দেখি না। শুধু শুধু মন খারাপের বোঝা বাড়িয়ে লাভ কি বলুন? তবে গতকাল আর নিজেকে আটকাতে পারিনি, তাই বসে বসে ভিডিও গুলো দেখছিলাম।
![]()
|
|---|
কি জানি কোথায় আছে পিকলু টা, তবে নিশ্চয়ই ভালো আছে। কারণ ও নিজেই বড্ড ভালো ছিলো। তাই এ জন্মে হয়তো আরও ভালো কোথাও গেছে। একটা পশুর প্রতিও যে এত টান হতে পারে, তা বোধহয় পিকলু আমার জীবনে না আসলে বুঝতে পারতাম না।
আর কিছু না হোক পিকলু আমাকে কিছুটা ভালো মানুষ হতে সাহায্য করেছে এ কথা বলতে পারি। তাই নিজের মধ্যে যদি কিছু পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হয়, তাহলে এদেরকে সাথে রাখা উচিত। নিজের কষ্ট যদি মানুষের কাছে প্রকাশ করতে দ্বিধাবোধ করেন, তাহলে এদের কাছে প্রকাশ করা উচিত, বা বলা ভালো এদের কাছে প্রকাশ করার প্রয়োজন হয় না। কিভাবে যেন ওরা নিজেরাই বুঝে যায়।
আমার সাথে এমনটা হয়েছে বহুবার। আমার মন খারাপের সময় পিকলু যেন সবটাই বুঝতে পারতো। আমার কোলে এসে শুয়ে পরতো, অথবা পাশে এসে শুয়ে পরতো। যেন বোঝাতে চাইতো মন খারাপ করো না, আমি আছি।
এখনও আমার মন খারাপ হয়, কিন্তু তা বোঝার কেউ নেই পিকলু। তবে তুই যতদিন ছিলিস আমাকে ভালবাসা দিয়েছিস, তোর এই ভালোবাসাটাই বলতে পারিস এই জীবনে আমার সব থেকে বড় প্রাপ্তি। তুই ভালো থাকিস রে।






Thank you for your support @solaymann. 🙏