"এবছরের দোল পূর্ণিমার দিনটি আরও বিশেষ হয়ে উঠলো গৌর পূর্ণিমা তিথির কারনে"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটা খুব ভালো কেটেছে।
লেখার শুরুতেই সকলকে জানাই দোল পূর্ণিমার অনেক শুভেচ্ছা। বাঙ্গালীদের ঘরে ঘরে আজ রঙের উৎসব। প্রতি বছর এই দিনটিতে সকলেই নিজেদের মতো করে বিভিন্ন রঙের আবীর মেখে রঙীন হয়ে ওঠেন। আর বাচ্চারা মেতে ওঠে বিভিন্ন রঙ ও পিচকারি নিয়ে। এ যেন প্রতি বছরের এক পরিচিত ছবি।
তবে এই বছরের দোলের দিনটা আরও অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ, তার কারন বহুবছর বাদে আজ একই দিনে গৌর পূর্ণিমা তিথিও পরেছিলো। যে তিথিতে শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। অনেকেই হয়তো জানেন যে আজ ছিলো পূর্নগ্ৰাস চন্দ্রগ্রহণ।
পুরোনো দিনে চন্দ্রগ্রহণ হোক কিংবা সূর্যগ্ৰহণ তার অনেক বিধিনিষেধ মানা হতো। বিশেষ করে বিধবা ও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এই বিধিনিষেধ ছিলো আরও বেশি। গ্ৰহণ শুরুর পর থেকে অন্ন, জল বা অন্যান্য কোনো খাদ্যগ্ৰহন করা নিষিদ্ধ ছিলো।
খাবারের মধ্যে অনেকেই তুলসী পাতা দিয়ে রাখতেন। এমনকি এখনও এটা অনেকেই মেনে চলেন। তবে সময়ের সাথে সাথে অন্যান্য অনেক নিয়ম অনেকেই বাদ দিয়েছেন।
![]()
|
|---|
গ্ৰহণ ছাড়ার পরে সকলেই স্নান করে নিতো। তারপর জল পান হোক কিংবা খাদ্যগ্ৰহন সবটাই করতো। মহাপ্রভুর জন্মতিথির দিনও ছিলো এই রকম পূর্নগ্ৰাস চন্দ্রগ্রহণ। আপনারা অনেকেই জানেন দোলপূর্ণিমার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার নবদ্বীপে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
আজ যেমন সন্ধ্যা ৬.৪৮ মিনিটে গ্ৰহন শেষ হয়েছে। সেদিনও এমন সন্ধ্যা বেলায় গ্ৰহণ শেষ হওয়ার পর সকলে স্নান সেরে যখন সন্ধ্যা পুজো দিচ্ছিলো। চারিদিকে শঙ্খধ্বনি উলুধ্বনি শব্দ শোনা যাচ্ছিলো, সেই পূর্ন্য তিথিতেই গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু আবির্ভুত হয়েছিলেন।
বহুবছর বাদে আজ আবার সেই তিথি এসেছে। সেই দোল পূর্ণিমা, সেই পূর্নগ্ৰাস চন্দ্রগ্রহণ, সন্ধ্যায় গ্ৰহণ ছাড়ার পর ঘরে ঘরে বেজে উঠেছে শঙ্খধ্বনি উলুধ্বনি। এ যে এক অভূতপূর্ব অনুভূতি। এমন একটা দিনের সাক্ষী থাকতে পেরে যেন মনে হচ্ছে মানবজীবন পেয়ে আমি ধন্য।
![]()
|
|---|
আজ সারাদিন নিরামিষ আহার করবো ভেবেছিলাম, পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে উপবাস করলাম। ভেবেছিলাম সন্ধ্যা বেলায় গ্ৰহণ ছাড়ার পর স্নান সেরে পুজো দিয়ে নিরামিষ খাবার খাবো। তবে আর ইচ্ছা করলো না তাই একটু প্রসাদ আর অল্প কয়েকটা কিসমিস ও আমন্ড খেয়ে নিলাম। আজকের দিনটায় আমি দোলের থেকেও যেন গৌর পূর্ণিমা তিথির গুরুত্ব উপলব্ধি করলাম।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই আজ ঘরের কাজ শেষ করে, স্নান সেরে পুজো দিতে বসেছিলাম। ঠাকুরের প্রায়ে আবীর দিয়েই দিনটা শুরু করতে চেয়েছিলাম আজ। শুভর অফিস ছুটি ছিলো, তাই আর কোনো সমস্যা হয়নি। গতকাল সকালে আবীর, ফল, মিষ্টি কিনে নিয়ে এসেছিলাম।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
সকালে ফ্রেশ, ঠাকুর ঘরের সব কাজ সেরে, স্নান করে, ফুল তুলে, ঠাকুর পুজো সেরে, ভগবত গীতা পাঠ করে, তুলসী মঞ্চ সাজিয়ে নিলাম আবীর ও ফুল দিয়ে। এটা প্রতিবছর করা হয়। তারপর প্রদীপ ও ধূপকাঠি জ্বেলে পুজো সম্পন্ন করলাম।
আজ আবার শুভর বন্ধুরা আমাদের বাড়িতে দুপুরে খাওয়া দাওয়া করেছে। আমার দায়িত্ব ছিলো চিকেন কষা রান্না করার। গতকাল রাতে শুভ চিকেন নিয়ে এসেছিলো। যাইহোক রান্নাবান্না শেষ করে আমি আবার স্নান করে নিয়েছিলাম। আমিষ রান্না করে স্নান না করে প্রসাদ নিতে ইচ্ছা করছিলো না।
![]()
|
|---|
গ্ৰহণ শুরু হওয়ার আগেই আমাদের খাওয়া দাওয়া শেষ হয়েছিলো। এরপর দুপুরে একটু বিশ্রাম নিলাম। গ্ৰহণ ছাড়ার পর স্নান করে পুজো দিয়ে নিলাম। ভেবেছিলাম একটু নিরামিষ সেদ্ধ ভাত খেয়ে নেবো, তবে ইচ্ছা করলো না। তাই অল্পকিছু খেয়ে বসলাম পোস্ট লিখতে। রঙের ছোঁয়া বলতে শুভ, শশুর মশাই ও শাশুড়ি মা একটু আবীর দিয়েছেন।
দোলের দিন বড়দের পায়ে আবীর দিলে তারা যেটুকু মাখায় ঐটুকুই। তবে তাতে আফসোস নেই। রঙের ছোঁয়া না পেলেও খুব ভালো কেটেছে আজকের দিনটা। অন্তত মনের দিক থেকে কেমন যেন প্রশান্তি পেলাম আজকের দিনে উপোস করে।
আপনাদের দোলের দিনটা কেমন কাটলো জানাতে ভুলবেন না। সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। সকলে ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।






Thank you for your support 🙏.