গ্যালারিতে পাওয়া কয়েকটি ছবি ও কিছু চিন্তা ।
সময় পেলেই ফোনের গ্যালারী থেকে ছবি ও ভিডিও ডিলিট করি আমি। ছেলেরা সারাক্ষনই পাখির মতো ক্যাচর-ম্যাচর করে ছবি ও ভিডিও ডিলিট করার জন্য।কারন আমার ফোনে জায়গা প্রায় শেষ।
আই ক্লাউড কিংবা গুগুলে এতো ছবি রাখাটাও ব্যায়বহুল তাই সময় পেলেই কিছু কিছু করে কমাই।
তবে যদি দুটো ছবি ডিলিট করি তাহলে আরো নতুন করে ছয়টা এড করি। যার কারনে জায়গা আর বের হয় না।
আজকেও ছবি ডিলিট করতে গিয়েই শায়েস্তাগন্জের এই ছবিগুলো সামনে আসলো।
সেদিন আবার মোটেও শায়েস্তাগঞ্জ যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না। শুধু আমাকে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল এমন না ছেলেরও যাওয়ার কোন ইচ্ছে ছিল না। বরং আমরা যেতে চেয়েছিলাম শায়েস্তাগঞ্জ পার হয়েছে শ্রীমঙ্গলে।
একটা সময় আমরা প্রতি বছরই শ্রীমঙ্গল যেতাম যার কারনে এই জায়গার প্রতি একটা অসম্ভব রকমের দুর্বলতা কাজ করে।কিন্তু কোভিডের বিভিন্ন কারণে আমাদের আর যাওয়া হয়নি। ইদানিং এখানে রাস্তার কাজ চলার কারণে রাস্তার অবস্থাও খারাপ।
যার কারনে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সেটাকে বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ নেয়া হয় না।কিন্তু এবার আমার হাসবেন্ড তার এক কলিগের কাছে শায়েস্তাগঞ্জের কথা শোনার পর থেকেই৷ অস্থির হয়ে উঠেছেন যাওয়ার জন্য।
এই এলাকার নাম আমি প্রথমবারই শুনেছি। পর্যটকদের কাছে এলাকাটা এখন পর্যন্ত তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি, অনেকটা লোক চক্ষুর অন্তরালেই রয়ে গেছে বলা যায়।।
আশেপাশে থাকার জন্য তেমন হোটেল কিংবা রিসোর্টের সংখ্যাও একদমই কম।নতুন করে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বলা যায়। আর সেটাও বাইকার বিশেষ করে ইউটিবারদের কল্যানে।এদিকে থেকে ইউটিউবারদের ধন্যবাদ দিতেই হয়।
কারন তারা নতুন বতুন এলাকা পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় করে তুুলছে। এতে করে পর্যটকদের সাথে সাথে ওই এলাকার মানুষরাও উপকৃত হচ্ছে ও তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে।
আবার বিপরীত কিছু যে হচ্ছে না এমনও না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, মতো কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওরের বুকে পানির মাঝ দিয়ে চলা রাস্তা যখন প্রথমদিকে জনপ্রিয়তা পেল তখন সেখানকার মানুষ খুব বিরক্ত হয়েছিলো কারন তারা এতো মানুষের কোলাহলে অভ্যস্ত ছিল না। যদিও পরবর্তীতে তাদের মেনে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিলো না।
বাইক নিয়ে চলাচলের একটা সবচেয়ে বড় সুবিধা হল যেখানে গাড়ি যায় না সেই জায়গাগুলোতে খুব সহজেই বাইক নিয়ে যাওয়া সম্ভব। সেই সাথে খরচও অনেক কম।
যাইহোক সেদিন আমরা অনেকটা ইচ্ছার বিরুদ্ধে শায়েস্তাগঞ্জ গেলেও একদমই হতাশ হয় নাই। বরং আমরা যা আশা করি নাই সেটাই পেয়েছি এই জায়গাতে।এই জায়গাকে মিনি শ্রীমঙ্গল বলা যেতে পারে। তেমনি শান্ত ও সৌন্দর্যেঘেরা একটা জায়গা তবে শ্রীমঙ্গল এর তুলনায় অনেক বেশি নীরবতা এই জায়গায়।
এক ভালোলাগায় ভরা মূহুর্তে স্মৃতি নিয়ে সেদিন আমরা ফেরত এসেছিলাম সেখান থেকে। ফোনের গ্যালারীতে ছবিগুলো দেখতে দেখতে সেইদিনের স্মৃতিচারণ করতে করতে ভাবতেছিলাম, আবার কবে যাবো।





