ভাটিয়ারীর পথে একদিন।
কিছুদিন আগে হঠাৎ করেই চট্টগ্রাম এর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম।বলা যায় কোন রকমের প্ল্যান ছাড়াই। চট্টগ্রামে ঘোরার মত অনেক জায়গা থাকলেও আমরা কোথায় যাব, সেটা আমাদের ঠিক করা ছিল না।
রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে নেটে সার্চ দিয়ে একেকজন একেক জায়গার নাম বলতেছিলো।তবে ব্যক্তিগতভাবে আমার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল বাঁশখালী কিংবা গুলিয়াখালি সি বিচে।
বাঁশখালি সমুদ্র সৈকতের নাম জনপ্রিয় না হলেও এটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত। এই সব সমুদ্রসৈকতগুলি বলা চলে এতদিন একরকম লোক চোখের অন্তরালেই ছিল। তবে ইদানিং ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
আর গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতটা একেবারেই অন্যরকম। সবুজ ঘাসে ঢাকা, ফাঁকে ফাঁকে পানি।
গুলিয়াখালীতে আমার কখনো যাওয়া হয় নাই, শুধু ছবিতে দেখা ছাড়া। চট্টগ্রামে গেলেই আমি ঘ্যানঘ্যান করতে থাকি গুলিয়াখালীতে যাওয়ার জন্য। কিন্তু একবারও যাওয়া হয় না সময়ের অভাবে।
চট্টগ্রামে একদিন না থাকলে যাওয়া সম্ভব না। আমরাতো যাই সকালে আর চলে আসি রাতে। যাইহোক এবার আমরা চট্টগ্রামের কাছাকাছি গিয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, ভাটিয়ারী যাবো। এই জায়গাটার নাম শুনেছি শুধু কিন্তু এখানেও আগে কখনো যাই নাই।
এখানে চমৎকার একটা পার্কের মতো জায়গা রয়েছে বলেও শুনেছি অনেকের কাছে। ভাটিয়ারী চট্টগ্রাম যাওয়ার রাস্তায় পরে। তাই আমরা ঢুকে পারলাম ভাটিয়ারির রাস্তায়।
সরু রাস্তাটা আস্তে আস্তে রাস্তায় রাস্তায় পরিণত হলো। আর এর মাঝেই শুরু হলো বৃষ্টি। মনে হলো যে, আজকে বোধকরি আমাদের আর কোথাও নামা সম্ভব হবে না। কিন্তু কিছুক্ষনের মাঝেই বৃষ্টিও কমে এলো।
আঁকাবাঁকা রাস্তা ধীরে ধীরে পাহাড়ে উঠে গেছে আর তার দুই পাশে ঘন সবুজ জঙ্গলে ঢাকা পাহাড়। কিছুক্ষনের মাঝেই রাস্তার পাশে লেক দেখতে পেলাম।
পাহাড়ের উপরে আঁকাবাঁকা লেক চলে গেছে।তার সৌন্দর্য আসলে বর্ণনা করা যায় না এমনকি ক্যামেরাতেও ধরা যায় না। কয়েকটা জায়গাতে আমরা রাস্তার পাশে নামলাম কিন্তু গুঁড়িগুড়ি বৃষ্টির কারনে আবারও গাড়িতে গিয়ে ঢুকে পরতে হলো।
আর আর্মিদের এলাকা হওয়ায় সব জায়গাতে নামাও সম্ভব হচ্ছিলো না। একটু পর পরই আমাদের পাশ দিয়ে আর্মিদের গাড়ি চলে যাচ্ছিলো।
যাওয়ার পথে দেখতে পেলাম রাস্তার পাশে ছোট্ট ছোট্ট দোকান পেতে বসে কলা, বাতাবি, কচুর লতি, পেপে সহ নাম না জানা আরো পাহাড়ি জিনিসপত্র বিক্রি হচ্ছে। আমরা পেপে ও বাতাবি কিনলাম কয়েকটা করে।
কিছুক্ষন পরে আমরা সেই বিখ্যাত পার্কের সামনে থামলাম। তবে আমরা আর ভেতরে ঢুকলাম না কারন আমাদের পতেঙ্গা যাওয়ার প্ল্যান আছে। এখানে বেশি সময় কাটালে ওইখানে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে।
আমরা আবারও চলতে শুরু করলাম সামনের দিকে। কিছুক্ষন পরে পাহাড়ি এলাকা আস্তে আস্তে সমতল ভুমিতে পরিনত হওয়া শুরু করলো। বুঝতে পারলাম যে আমরা হয়তো ভাটিয়ারী এলাকা পার হয়ে এসেছি।
তাই ইউটার্ন নিয়ে আবারও সামনের দিকে চলা শুরু করলাম। একসময় ঢাকা চিটাগং হাইওয়েতে উঠে পরলাম। আমরা হাইওয়ে ধরে আবারও চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম।




Hello there! 👋🏼
So excellent you've shared about traveling. 🤩
There's a travel community that is active now through this link:
https://steemit.com/trending/hive-188972
Suscribe and feel free to share your travel adventures there moreover of tips, food, nature and more.🚌
~ Join the Discord server + Telegram group and have a happy day.👍🏼