শিবালয়ে একটি দিন।
গতকালের পোস্টেই লিখেছিলাম যে ,আমরা শিবালয় থানার ওসির আমন্ত্রণে তার কোয়ার্টারের উদ্দেশ্যে এক ছুটির দিনে যাত্রা করেছিলাম। পথে সব কিছু ঠিকঠাক মতোই চলতেছিল যার কারণে রাস্তার দুইপাশের সৌন্দর্য অবলোকন করতে করতে ঘন্টা দুয়েকের মাঝেই শিবালয় পৌঁছে গিয়েছিলাম ।
এই ভাই এমনিতে খুবই ব্যাস্ত থাকেন। তার বন্ধুরা সবাই বলেন যে ও হাতে আর ঘুমায়। এর মানে হলো তার আসলে ঘুমের সময়ও খুব একটা নেই। তার বাসা হলো সব বন্ধুদের জন্য সবসময় খোলা। যারা যায় তারা নিজেরাই অনেক সময় রান্না করে যদিও একজন সাহায্যকারী আছেন।
আগেই জানতাম যে ওই দিন ভাই-ভাবীর বিবাহবার্ষিকীও ছিল। তাই আগের দিন একটা টেবিলল্যাম্প কিনেছিলাম তাদের জন্য। সেটা ভাই-ভাবীকে দিলাম বিবাহবার্ষিকীর শুভকামনা জানিয়ে।
এই ভাইয়ের একটা জিনিস আমার কাছে খুবই ভালো লাগে ,তিনি খুব গাছপালা লাগাতে ভালোবাসেন। যে থানাতেই যান না কেন সেই থানাকে সাজিয়ে তোলেন। এখানেও দেখলাম বিভিন্ন জায়গায় টাইলস লাগিয়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধির চেষ্টা করেছে ও বিভিন্ন ধরণের গাছ লাগাচ্ছেন।
ভাইয়ের ভেতরে আরেকটা জিনিস আছে সেটা হলো সব থানাতেই একটা করে দোলনা ঝুলান। এককথায় খুব সৌখিন একজন মানুষ। কিন্তু এই পোস্টে যারা কর্মরত থাকেন তাদেরকে বেশিদিন এক থানাতে রাখা হয় হয় না ,যার কারণে তিনি সাজালেও বেশিদিন কোথাও থাকতে পারেন না।
শুনতে পেলাম যে ,এখন থেকেও খুব দ্রুতই অন্য জায়গায় চলে যেতে হবে তাকে।
থানার পাশেই পদ্মা নদী। শুধু যে নদী তাই না ,এটা আসলে একসময়ের বিখ্যাত পাটুয়ারি ফেরি ঘাট। এখন অবশ্য আগের সেই ব্যাস্ততা আর নেই। পদ্মা সেতু হওয়ার পরে একদমই ফাঁকা হয়ে গেছে।
এক ফাঁকে আমি চুপিসারে থানা থেকে বের হয়ে নদীর পারে চলে গিয়েছিলাম কিন্তু নামতে পারি নাই কারণ একেতো প্রচন্ড রকমের রোদ ছিল ঐদিন আর যাওয়ার সাথে সাথেই কল আসা শুরু হলো যে আমরা কোথায় আছি।
তাই মিনিট পাঁচেকের মাঝেই থানায় ফেরত আসলাম। এখানে আসার পরে একদল রাজহাঁসের মাঝে একজনের কৌতূহল গিয়ে পরলো আমার উপরে। দৌড়ে এসে আমার হাঁটুর পেছনে কামড় দিয়ে ধরার চেষ্টা চালালো। আমার চিৎকারে অবশ্য বাকিরা এগিয়ে এসে তার কামড় থেকে বাঁচালো আমাকে।
দুপুরে আমাদের পদ্মা রিসোর্টে খাওয়ার আয়োজন করেছিলেন ভাই। সেখানে আমরা যাওয়ার পরে পদ্মার সৌন্দর্য উপভোগ করার চেষ্টা করলাম কিন্তু দুপুরের প্রচন্ড রোদের কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছিলো না। কারণ সূর্যের এল নদীর পানিতে প্রতিফলিত হচ্ছিলো। বিকেল বেলা হলে খুব ভালো লাগতো। কিন্তু আমাদের বিকেল পর্যন্ত থাকা সম্ভব হচ্ছিলো না। কারণ আমাদের আরো একটা জায়গায় যাওয়ার কথা ছিল।
তার আগে রিসোর্টের রুমে গিয়ে সবাই কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে কফি খেলো তারপর আবারো বের হয়ে পরলাম।
এবারের গন্তব্য একটা সৌর বিদ্যুত প্রকল্প দর্শন। এখানে আসলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ কিন্তু ভাইয়ের কারণেই আমাদের পক্ষে ভেতরে ঢোকা সম্ভব হয়েছিল। একদম নদীর পার ঘেষে
এই প্রকল্পের অবস্থান। কঠোরভাবে নিরাপত্তা বজায় রাখা হয় এখানে। আমাদের আগে একটা পুলিশের গাড়ি থাকার পরেও সাথে সেখানকার নিরাপত্তা কর্মী আমাদের সঙ্গী হলো।
চার কিলোমিটারেরও বেশি জায়গা জুড়ে এই প্রকল্প।আমরা একদম নদীর তীরবর্তী একটা জায়গায় নামলাম কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে এসেছিলো তাই সামান্য সময় পরে আবারো গাড়িতে উঠে বসলাম থানার উদ্দেশ্যে।






@sduttaskitchen thank you so much