বাসায় নতুন অতিথির আগমন
এর আগে এক পোস্টে আমি লিখেছিলাম যে, আমার ছেলে ক্লাস শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে সপ্তাহ তিনেকের এক ছোট্টবিড়ালের বাচ্চাকে নিয়ে বাসায় এসেছিলো।
বাসায় এনে সেটাকে গোসল করানোর পরে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে ওর শরীরের ভেজা লোমগুলো শুকিয়ে দিলো।সাধারণত হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে বিড়ালের শরীর শুকানো এক প্রকার যুদ্ধ করার মতো।আঁচড়ে কামড়ে একাকার করে দেয় ওরা। কিন্তু এটা এতোই ছোট যে,কিছুই বুঝতে পারলো না চুপ করে বসে রইলো যতক্ষন হেয়ার ড্রায়ার চললো।
এরপরে ছেলে জানালো যে, ওকে কে যেন রাস্তায় ফেলে রেখে গেছে। কয়েকটা কুকুর ওকে কামড়ানোর চেষ্টা করতেছিলো। কিন্তু ওকে এক দারোয়ান কুকুরের হাত থেকে বাঁচাতেছিলো।
আমার ছেলে আমাকে জানালো যে, ওকে কুকুরের কামড়ানোর চেষ্টা দেখে আমার মাথা কোন কাজ করে নাই। শুধু মনে হয়েছিলো ওকে বাঁচাতে হবে। জানি তুমি ওকে ফেলবে না তাই নিয়ে এসেছি।
সত্যি বলতে এতো ছোট্ট বাচ্চা আমি আগে কখনও পুষি নাই এমনকি কাউকে পুষতেও দেখি নাই। তাই কি করবো কিছুই বুঝে উঠতে পারতেছিলাম না।
ওইদিকে পাশের রুমে আমার আরেক বিড়ালের একটানা হিংস্র শব্দ পাচ্ছিলাম। ও'যে শক্ত কেন খাবার খেতে পারবে না সেটা বুঝতে পারছিলাম।কিন্তু ওকে আমাদের বাড়িতে থাকা পাউডার দুধ কিংবা গরুর দুধ কোনটাই খাওয়ানো ঠিক হবে না সেটা জানা ছিলো। ওর জন্য ল্যাক্টোজ ফ্রি দুধ লাগবে।
কিন্তু ওর চিৎকারে থাকা যাচ্ছিলো না।তাই বাসায় থাকা পাউডার দুধ চামচের মাথায় সামান্য নিয়ে একদম পাতলা করে গুলে ওকে খেতে দিলাম। কিন্তু আমি যা ভয় পেয়েছিলাম সেটাই দেখতে পেলাম। ও এখনো খাওয়া শিখে নাই। ও মায়ের দুধ খেয়ে অভ্যাস্ত।
মানুষ এমন একটা দুধের বাচচাকে কিভাবে মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে এটা ভেবে নিজেকে মানুষ ভাবতেও ঘৃনা হচ্ছিলো।
ছেলে আর আমি মিলে বাসায় থাকা আ্যান্জেলের ওষুধের ড্রপার দিয়ে কোনমতে সামান্য দুধ খাওয়াতে পারলাম। ওই দুধটুকু খেয়েই ও ঘুমিয়ে পরলো। বেচারা একটানা কান্না করে করে ক্লান্ত হয়ে পরেছিলো।
ওকে কোথায় রাখবো কিছুই বুঝতে পারতেছিলাম না।কারন আ্যান্জেলের আচরণ রীতিমতো ভয় ধরিয়ে দিতেছিলো আমাদের। এরপরে হঠাৎ বাসায় থাকা একটা বাস্কেটের কথা মনে পরায় ওকে সেটার ভেতরে রেখে গরম কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখলাম।
এরপরে ছেলেকে বললাম ওর জন্য ক্যাট রিপ্লেসার ও ফিডার কিনে আনতে। বিড়াল -কুকুরের সবকিছু কাঁটাবনে পাওয়া যায়। ও আমাকে বললো যে, কাটাবনে আমাকে দেখলে অনেক দাম চাইবে।তারচেয়ে অনলাইনে দেখি।কিন্তু সবাই ডাকাত।
দারাজে অনেকটাই কম দামে পাওয়া যায় কিন্তু সেটা পেতে ২/৩দিন সময় লাগবে। ততদিন ওকে আমি কিভাবে বাঁচাবো তাই ছেলেকে বললাম কিছুটা কমে যদি পায়, সেটাই অর্ডার দিতে।
ওর দুধ ও ফিডাবের পেছনে আমার ১১০০ টাকার মতো খরচ হয়ে গেল।
কিছুক্ষনের মাঝেই দুধ ও ফিডার বাসায় পৌঁছে দিয়ে গেল।১ চামচ দুধে ৬চামচ পানি দিতে হবে। সেটা খাওয়ানো আবার আরেক যুদ্ধ। ও নিজে ধরে খাবে কিন্তু কিভাবে ধরতে হয় সেটা জানে না।ওর নখের আঁচড়ে আমার হাত ফালাফালা হয়ে যাওয়ার উপক্রম।
আমি যেন আবার নতুন করে মা হলাম।মাঝরাতে উঠে ওর জন্য দুধ বানানো , ওকে লিটার বক্সে নিয়ে যাওয়া, ওকে আ্যান্জেলের হাত থেকে বাঁচানো, ওর জন্য বাসা থেকে বের হওয়া বন্ধ.. সবকিছু মিলিয়ে আমার অবস্থা খারাপ। আর এর মাঝে বাসার দায়িত্বতো আছেই।
কিন্তু সময় যতোই খারাপ হোক না কেন, কোন না কোন ভাবে কেটেই যায়। আমারও দিনগুলো কেটে যাচ্ছে....




