ফোনের গ্যলারিতে পাওয়া কয়েকটি ছবি ও প্রায় হারিয়ে যাওয়া কিছু স্মৃতি ।
স্টিমিটের জন্য পোস্ট লিখতে গিয়ে ভাবতেছিলাম আজকে কি নিয়ে লেখা যায়। যেটা ভাবতে ভাবতে ফোনের গ্যালারিতে ঢুকেছিলাম। সত্যি বলতে ছবি তুলতে আমার খুব ভালো লাগে যদিও ফটোগ্রাফির "ফ"-ও বুঝিনা।
তবে মানুষের ছবির চাইতে প্রকৃতির ছবি ও জীব-জন্তুর তুলতেই বেশি পছন্দ করি আমি। অবশ্য জীব-জন্তু আমার আশেপাশে খুব একটা পাইনা, যার কারণে জীবজন্তুর ছবি কম আর প্রকৃতির ছবিই বেশি আমার গ্যালারিতে।
আজকে ফোনের গ্যালারিতে ঘাটতে ঘাটতে হঠাৎ করেি কয়েকটি ছবির দিকে নজর গেল। ছবিগুলো আমার বাবার বাড়ি ধামরাই থেকে ঢাকায় আসার সময় তোলা। সাভার ক্যান্টনমেন্টের একটা গেটের সামনে থেকে তুলেছিলাম।
এখান দিয়ে অসংখ্যবার আসা-যাওয়া করেছি কিন্তু এখানে থামা হয় নাই।সাধারণ মানুষের পারমিশন আছে কিনা সেটাও অবশ্য জানা নেই। এই ক্যান্টনমেন্টের সাথে আমার একটা স্মৃতি জড়িয়ে আছে আর সেটা হলো খুব ছোটবেলায় বাবার সাথে একবার এক মেজরের বাসায় গিয়েছিলাম রাতের বেলা দাওয়াত খেতে।
তবে সেই স্মৃতিও খুব ভালোভাবে স্মরণে নেই। শুধু মনে পরে রাতে বাড়ি ফেরার পথে খুব বৃষ্টি নেমেছিলো যার কারনে বাস থেকে নেমে কোন রিকশা না পেয়ে হেঁটে বাড়িতে ফিরেছিলাম।
সেই রাস্তার দূরেত্ব যে অনেক বেশি ছিলো তেমন না কিন্তু আমি ছোট থাকার কারনেই হয়তো রাস্তাটা অনেক বেশি মনে হয়েছিল।
আরেকবার ইউনিভার্সিটিতে এডমিশন টেষ্ট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কোন কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিলো। যার কারনে সেদিনও বলা চলে প্রায় পুরো রাস্তাই পায়ে হেঁটে বাড়ির পথে এসে পরের দিন পায়ের ব্যাথায় অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। যদিও শেষের দিকে একটা বাস পেয়ে সেটায় উঠতে পেরেছিলাম।
সেদিন এই ক্যান্টনমেন্টের কোন এক চেক পোস্টে একজন সৈনিক এর কাছ থেকে পানি চেয়ে খেয়েছিলাম। তৃষ্ণাতো মিটে গিয়েছিলো সেই সময়ই ।তবে রয়ে গেছেন সেই নাম না জানা স্মৃতি থেকে হারিয়ে যাওয়া মুখচ্ছবির সেই সৈনিক। অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও তার কাছ থেকে পাওয়া ভালো ব্যাবহারটুকু আজও মনে আছে।
ছবি দেখতে দেখতে এসব পুরোনো স্মৃতিতে ডুব দিয়ে ভাবছিলাম যে, মানুষের মস্তিষ্ক কি অদ্ভুত! সামান্য ছবি দেখে কত স্মৃতি, যেগুলো বলা যায় আমি প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম, সেগুলো মনে পরে যাচ্ছে।
কোথায় যেন পড়েছিলাম যে, আমরা আমাদের ব্রেনের মাত্র ৫℅ ব্যাবহার করতে পারি আর বাকি ৯৫% সাব-কনশাস মাইন্ডকে ব্যাবহার করতে পারি না। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে এই সাব-কনশাস মাইন্ডকে শান্ত মনে হলেও বাস্তবে সে মারাত্মক রকমের ক্ষমতাসম্পন্ন।
এসব পুরোনো স্মৃতি থেকে আবার চলে আসি ছবির গল্পে। সেদিন আগেই বলে রেখেছিলাম ক্যান্টনমেন্টের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় যেন গাড়ির স্পিড একদমই কমিয়ে ফেলে। যাতে এখানে আমি ছবি তুলতো পারি।
আমার কথামতো স্পিড কমিয়ে গাড়ি নিয়ে গেটের কাছাকাছি থামিয়ে ফেলেছিলো যাতে আমি ছবি ভালোমতো তুলতে পারি।
গাড়িকে এতটা কাছাকাছি থামতে দেখে চেক পোস্টে বসে থাকা সৈনিক এর সন্দেহ হয় এবং সে সামনে চলে আসে আমরা কি করতেছি সেটা দেখার জন্য।
পরে তাকে গ্লাস খুলে জানাই যে ছবি নিতে চাই। পরে অবশ্য তিনি আর কিছু বলেন নাই। আমি কয়েকটি ছবি তুলে আবার ঢাকার পথে রওনা হই।





Curated By: @damithudaya
@damithudaya, thank you so much sir.