চট্টগ্রামে গিয়ে রেস্টুরেন্ট বিড়ম্বনা ।

in Incredible India5 months ago (edited)

IMG_2086.jpeg

আমার গতকালের পোস্টটি লিখেছিলাম যে, ভাটিয়ারী থেকে বের হয়ে ঢাকা -চট্টগ্রাম হাইওয়ে ধরে আমরা চট্টগ্রামের দিকে রওনা দেই। একটা জিনিস আমি খেয়াল করেছি যতবারই আমি চট্টগ্রাম আসি ততবারই কিভাবে যেন প্রচুর বৃষ্টির সম্মুখীন হই।

অবশ্য চট্টগ্রাম সমুদ্র উপকূলবর্তী জায়গা হওয়ার কারণে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়াটাই স্বাভাবিক, কিন্তু তারপরও কেন যেন মনে হয় আমি আসলেই বৃষ্টি নামে। প্রথমবার যখন এসেছিলাম তখন তো বৃষ্টির ভয়ে সোজা কক্সবাজার চলে গিয়েছিলাম। কারণ তখন বৃষ্টি নামলে পুরো চট্টগ্রাম ডুবে যেত।

এখনো চট্টগ্রাম বৃষ্টির পানিতে ডুবে না, এমন না কিন্তু তারপর আগের চেয়ে এখানকার ড্রেনেজ সিস্টেম অনেক উন্নত হয়েছে।

প্রচুর বৃষ্টির মাঝে আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে চললাম চট্টগ্রামের দিকে। চট্টগ্রাম ঢোকার আমাদের তেমন কোন প্ল্যান ছিল না তাই আমরা চট্টগ্রামের নতুন বাইপাস বায়োজিদ বোস্তামি রোড ধরে এগিয়ে গেলাম। এই রাস্তায় চট্টগ্রাম শহরে না ঢুকেই রাঙ্গামাটি এবং আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় যাওয়া যায়।

দুই পাশে পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া তুলনামূলক নিরিবিলি এই রাস্তাটা ইদানিং ইউটিউবারদের কল্যানে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

IMG_2090.jpeg

কারণ মেইন ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়ে অনেক বেশি বিজি। চট্টগ্রাম মূলত বন্দরনগরী হওয়ার কারণে এখানে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানের প্রভৃতি বড় বড় যানবাহন চলাচল করে প্রচুর পরিমানে।

অপরদিকে বায়োজিদ বোস্তামী বাইপাস এসব থেকে বলা যায় অনেকটাই মুক্ত। যার কারনে রাস্তার মাঝে ইউটিউবারদের থেমে ভিডিও করতে অনেক বেশি সুবিধা হয়।
আমাদের যদিও শহরে ঢোকার কোন প্ল্যান ছিল না কিন্তু আমার দুই ছেলের চট্টগ্রামের বিখ্যাত মেজবান ও কালা ভুনা খাওয়ার ইচ্ছের কারনে আমরা চট্টগ্রাম শহরে ঢুকে পরলাম। ওদের পছন্দের রেস্টুরেন্টের নাম, 'মেজ্জান হাইলে আইয়ুন '।

এই রেস্টুরেন্টের নাম ওরা ইউটিউব থেকে সংগ্রহ করেছে ।ঢাকায় এর একটা শাখা আছে কি ওদের সেটার প্রতি তেমন একটা আগ্রহ নেই।ওদের আগ্রহ চট্টগ্রামের এই রেস্টুরেন্টের ওপর ।ওদের তিনটা ব্রাঞ্চ কিন্তু আমরা আসলে হয় বন্ধ থাকে নাহলে খুঁজে পাই না।
দুঃখজনক ভাবে আমরা এর আগেও দুইবার চট্টগ্রাম এসেছি কিন্তু প্রতিবারই এই রেস্টুরেন্ট বন্ধই পেয়েছি। তার চেয়েও বড়ো সমস্যা হলো এই রেস্টুরেন্ট খুঁজে পাওয়া।

IMG_2129.jpeg

চট্টগ্রামে আসার পরে আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, এখানে আমাদের রাস্তা খুজতে খুজতেই দিন সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয়। গুগল আমাদের একই জায়গা দিয়ে ঘোরায় আর স্হানীয় লোকজন আমাদের ভাষা কতটা বুঝতে পারে সেটা জানি না কিন্তু ওদের ভাষা আমরা খুব একটা বুঝতে পারি না।

আমাদের দেশে একটা প্রচলিত আছে যে, 'বাংলা ভাষা সিলেটে গিয়ে আহত হয়েছে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে'। চাটগাঁইয়া ভাষার কথা শুনলে মনে হয় বাংলা না অন্য কোন ভাষায় কথা শুনতেছি।

যা-ই হোক, আমরা রেস্টুরেন্ট খুঁজতে গিয়ে যথারীতি একই এলাকায় চক্কর খেতে থাকলাম।পুলিশকে জিজ্ঞেস করায়,একজন জানালো সে ডিউটিতে আজকেই প্রথমবার এসেছেন আরেকজন চিনেন না।
ওইদিকে আমার হাসবেন্ড তার ব্যাংকের চাকরির কল্যানে একটা নির্দিষ্ট টাইমে খাওয়ায় অভ্যস্ত। প্রায় চারটার কাছাকাছি বেজে যাওয়ায় তার অবস্থা কাহিল। এমনিতেও তার খিদে পেলে সে আমাদের কাউকেই তেমন একটা চিনে না। সে শুধু খাওয়ার বিষয়েই না সবকিছুতেই সময় মেনে চলেন।

সে অস্থির হয়ে একসময় গাড়ি থেকে নেমে কই যেন হারিয়ে গেল। আমরা তাকে কল দিতেই থাকলাম কিন্তু সে রিসিভ করলো না।আমরা গাড়ির ভেতরে বিরক্ত হয়ে গেলাম। ওইদিকে গাড়ি পার্কও করা যাচ্ছিলো না।

একসময় সে কল দিয়ে জানালো যে, রেস্টুরেন্ট খুঁজে পেয়েছে। আমরা কিছুটা অবাক হলাম কারন গুগল এই এলাকায় ওই রেস্টুরেন্ট আছে বলে জানায় নাই।
যাই হোক, অনেকটা দূরে গাড়ি পার্ক করে আসার পরে সে আমাদের যে জায়গায় নিয়ে গেল সেখানে আমরা আগেও দুইবার খেয়েছি। আমাদের ধারণা এটা চট্টগ্রামের সবচেয়ে বাজে রেস্টুরেন্ট। একসময় বেশ নামকরাই ছিলো কিন্তু ইদানীং বাজে হয়ে গেছে।
আর আমার হাসবেন্ড চট্টগ্রামের ওই একটা রেস্টুরেন্টের নাম ছাড়া মনে হয় অন্যকোন রেসটুরেন্টে নাম জানে না।

IMG_2136.jpeg

ছেলেরা ওইখানে যাবে না। মাঝখানে আমি পরলাম ঝামেলায়।তারপর দুজনকে বুঝিয়ে নিয়ে গেলাম ভেতরে। বাচ্চাগুলোকে দেখে খারাপই লাগলো। তিনবারই ওদের পরিকল্পনা ব্যার্থ হয়ে গেল।
কোনরকমে খাওয়া শেষ করে আমরা বাইরে বের হয়ে আসলাম দ্রুত কারন আমাদের পরবর্তী গন্তব্য পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত।
এর পরে কি হলো সেটা পরবর্তী পোস্টে জানাবো।



Thank You So Much For Reading My Blog

45GhBmKYa8LQ7FKvbgfn8zqd6W2YEX34pMmaoxBszxVcFZtXBBbvSyg7mut1UXDfs91vJBbjvRWniW7kqxJWyzxfBiUR15zUSmmBJcNfGq...Ht8czzm6jLNcmNtMoo5CkngVjPkfuaMSLwsyZ4C5H6d9jw4uJUs6CASqouF5fYyKSD1UQmTGYWz78pUD8S1PSYbAD7jA5t5jwPtEujVi2vgQth35XJdpamtpjp.png

Sort:  

Want to grow faster on Steemit? Try www.pussteem.com – the first platform that lets you use $PUSS tokens to power up your posts. For just $0.50, you can receive $10 worth of upvotes through our curated support system.

➤ Learn more: Unlock the Power of Your Steemit Journey
➤ Step-by-step guide: How to Get Started -Video Tutorial

Join the movement – boost your visibility, earn more, and grow with Pussteem!
:globe_with_meridians: https://pussteem.com
Join with us on Discord: https://discord.gg/g4KWCtFJbk

_Spend $0.5 in $PUSS — Get $10 in UPVOTE! Boost Your Steemit Journey with P_20250602_220938_0000.png

Loading...

Hello there! 👋🏼 So excellent you've shared about traveling. 🤩 There's a travel community that is active now through this link: https://steemit.com/trending/hive-188972 Suscribe and feel free to share your travel adventures there moreover of tips, food, nature and more.🚌 ~ Join the Discord server + Telegram group and have a happy day.👍🏼

Blue Minimalist World Environment Day Banner.gif

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.32
JST 0.064
BTC 69760.91
ETH 2152.16
USDT 1.00
SBD 0.47