Better Life With Steem | The Diary game ,September, 28 , 2025।
ভেটের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরে হুয়াটসএপে পাঠাানো ছবি |
|---|
আজকেও সকাল বেলা ঘুম ভেঙেছে প্রতিদিনের মতোই পান্ডার মিয়াও মিয়াও সব দেব। পান্ডা আমার নতুন বিড়াল ছানার নাম।
ওর চোখ দুটো দেখতে পান্ডার চোখের মতো বলেই ওর নাম পান্ডা রাখা হয়েছে। পান্ডারও দুই চোখ কালো, যার কারণে চোখ বোঝা যায় না ওর একই রকম। আর এই কারনেই ওর এমন নামকরণ।
যদিও আমার ছোট ছেলে প্রায় সময় অস্ট্রেলিয়ান গরু বলে ডাকে ওকে।অস্ট্রেলিয়ান গরুও দেখতে ওর মতোই এরকম সাদা-কালো ছোঁপ ছোপ হয়ে থাকে।
প্রতিদিন রাতের বেলায়ই পান্ডা থাকে আমার রুমে আর এঞ্জেল থাকে ছেলেদের রুমে। ওরা ভোরের দিকে রুম থেকে বের করে দেয় ওকে।
আজকে রুম থেকে বের হয়েই এন্জেলের দিকে চোখ পরতেই কিছুটা চমকে উঠলাম। কারন ওর বাম চোখ দেখলাম লাল হয়ে আছে।
বিড়ালের চোখ খুব সেন্সেটিভ হয়ে থাকে এটা জানা আছে আমার। ঠিকমতো চিকিৎসা না পেলে খুব দ্রুত অন্ধও হয়ে যেতে পারে। কিছুক্ষনের মাঝেই খেয়াল করলাম যে ওর চোখের এই লাল ক্রমাগত বেড়েই চলেছে সাথে চোখ দিয়ে পানি পরতেছে। সেই সাথে চোখ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তাকাতে পারতেছে না।
ছেলেকে ডেকে তুলে বললাম ওকে ভেটের কাছে নিয়ে যেতে। ছেলে ওকে নিয়ে ভেটের গেলে আমি দুপুরের রান্না করার জন্য রান্না ঘরে ঢুকে পরলাম।
কিন্তু এর মাঝেই বার বার কল দিয়ে আপডেট দিতে থাকলো।একেতো গ্যাস এর প্রেশার একদমই নাই তার ওপর ওর কল রিসিভ করতে করতে ১১টার বেশি বেজে গেল।
১১ঃ৩০ টার দিকে রিং টোনের শব্দ পেয়ে ফোন রিসিভ করতে গিয়ে দেখি ভাই কল দিয়েছে। রিসিভ করার পরও আমাকে জিজ্ঞেস করল আমি খবর পেয়েছি কিনা। কিসের খবর জিজ্ঞেস করতেই জানালো যে, রুমিকে আজকে নিয়ে আসতেছে। ১২টার দিকে এয়ারপোর্টে এসে পৌঁছানোর কথা।
রুমি আমার ছোটবেলার বান্ধবী। ওর দুটো কিডনিই ড্যামেজ হয়ে গিয়েছিল। ও চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে ছিল এতদিন। ওর কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট হয়ে গিয়েছিল কিন্তু ওর অবস্থা উন্নতির বদলে দিন দিন অবনতি হয়েছে।এবার মৃত্যু যেন পিছু ছাড়ছে না আমার । পাঁচ দিন আগে ও মারা গিয়েছে।
তবে ওকে যে আজকেই নিয়ে আসবে এটা জানতাম না। কারন আমাকে ভাই জানিয়েছে যে ওর আসতে আরও ৪-৫ দিন সময় লাগবে ,এটা ওর বড়ো ভাই জানিয়েছে ওকে । যার কারণে ধামরাই যাওয়ার জন্য কোন প্রিপারেশনে ছিল না আমার।
এর মাঝে ছেলে বিড়ালকে নিয়ে এসে উপস্থিত। এসে জানালো যে, বিড়ালের চোখের ডাক্তার দেখানোর সাথে সাথে ফ্লু 'র ভ্যাকসিনও দিয়ে নিয়ে এসেছে। ভ্যাকসিন দিলে ওরা দিন সাতেক খুব কষ্ট করে।
পূজার ছুটির কারনে ছোট ছেলে আজকে বাসায়ই থাকবে। তাই ওকে বললাম যে ও যেন আজকে বাইরে না যায়। এই বলে বড় ছেলেকে সাথে নিয়ে ধামরাই এর দিকে রওনা দিলাম।
বাসা থেকে বের হবার সময় ধরে নিলাম যে গিয়ে পাবো না ওকে। কিন্তু এয়ারপোর্ট থেকে বের হতে লেট হওয়ার কারনে সৌভাগ্যবশত দেখতে পেলাম।
ওকে দেখতে পেলাম বললে ভুল হবে, ওর কফিন দেখার সুযোগ হলো। ওকে বাসায় আনার পরে খুব একটা লেট করে নাই।
ওর কবর ওর কুমিল্লাতে ওর শশুর বাড়ির এলাকাতে দিবে। তাই ওকে বহনকারী লাশবাহী এম্বুলেন্স কুমিল্লার দিকে রওনা দিলো।
ওকে দেখার জন্য প্রচুর মানুষ এসেছিলো। সত্যি বলতে কেউ মারা গেলে এত মানুষ আমি আগে দেখেছি বলে মনে হয় না। শুধু যে মানুষ এসেছেই এমন না , তারা কান্না করতেছিলো ওর জন্য ।এটা ওর অর্জন ছিলো ।
ও ছিলো প্রচন্ড রকমের মিশুক ধাঁচের মানুষ। যেখানে যেত সেখানে একাই সবাইকে মাতিয়ে রাখতো।
ও কে যে কখনো এমন কফিন বন্দী অবস্থায় দেখতে হবে সেটা ভাবি নাই কখনো।
ও চলে যাবার পরে ওর বাসার পাশেই আমার আরেক বান্ধবীর বাসায় গেলাম। সেখানেই কিছুটা সময় সবাই কাটালাম। এর পরে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।



