শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি ।
থাইল্যান্ডে যাওয়ার তারিখ ঠিক হওয়ার পরে আমাদের যাওয়ার প্রস্তুতি পর্ব চলতে থাকেন। আসলে দেশের বাইরে যাব বলেই যাওয়া যায় না সাথে জড়িত থাকে অনেক সমস্যা। আর এ ক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড়ো সমস্যা ছিল আমাদের বিড়াল দুটোকে খালি বাসায় রেখে যাওয়া।
এর জন্য আমাদেরকে বুয়াকে প্রতিদিনই প্রায় বুঝিয়ে বলতাম কোনটার পরে কি করতে হবে বা না করতে হবে। কারণ এর আগে একবার ওদেরকে বুয়ার ভরসায় দুই দিনের জন্য রেখে কক্সবাজার গিয়েছিলাম। এসে দেখি লিটার বক্স পরিষ্কার করে নাই।
পুরো বাসা দিয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। বিড়ালরা এমনিতে খুব পরিচ্ছন্ন জীব। লিটার বক্স ঠিক মত পরিষ্কার না করলে ওরা বাইরে পি-পটি করে।
এরপর ওদের জন্য মাছ মাংস আর ক্যাটফুড বেশি করে কিনে রেখে যাই যেন আমাদের না থাকাকালীন সময়ে কম না পরে। ভাইয়ের বাসায়ও কিছু মাছে- মাংসের ছোট ছোট প্যাকেট করে রেখে আসি যেন বুয়া যদি না আসে তাহলে যেন ওদেরকে সেদ্ধ করে খেতে দিতে পারে।
এর মাঝে টাকার যোগারও করতে হয় কারন ওইখানে গিয়ে যদি টেস্ট কিংবা সার্জারী করতে হয় তাহলে যেন সমস্যায় না পরতে হয়।
থাইল্যান্ডে আমার এক ভাসুরের ছেলে থাকে অনেক বছর ধরেই। ও আমাদেরকে আশ্বস্ত করে বলে যে আপনারা আসেন ,কোন সমস্যা হলে আমি তো আছিই। সত্যি বলতে আমাদের জন্য এটা একটা অনেক বড় একটা সাহস ছিলো ।
নরমালি সবাই দেশের বাইরে গেলে সেখান থেকেই শপিং করে। কিন্তু আমরা আসলে জানতাম না যে সেই সুযোগ পাবো কিনা। তাই সবার জন্য টুকটাক কিছু কেনাকাটাও করা হয়।
তারপরও ছেলেরা প্ল্যান করে কোথায় কোথায় যাবে। যদিও পরবর্তীতে আমার অসুস্থতার জন্য আর সেইসব জায়গাতে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
এরই মাঝে হঠাৎ করেই অসুস্থতার ছাপ আমার মুখে পরতে শুরু করে ।চোখের নিচ , গাল ভেঙে যেতে শুরু করে এবং মুখ ঝুলে পরে। পরে জানতে পারি যে প্রোটিন ভেঙে যাচ্ছিল।এছাড়া অন্য কোন লক্ষন ছিলো না।
যাওয়ার সপ্তাহখানেক আগে একবার টেস্টগুলো করে ফেলি যাতে ব্যাংকক গিয়েই যেন ওই টেস্টগুলো আর না করতে হয় ।সৌভাগ্যবশত প্রতিটা টেস্টের রিপোর্টই আগের তুলনায় ভালো আসে ।এতে বুঝতে পারি যে ঔষধগুলো ভালোই কাজ করতেছে ।
থাইল্যান্ডে যাওয়ার দুই তিন দিন আগে আমার ছোট মামী ফোন জানায় যে আমাদের সব মামা ও কাজিনদেরকে সহ একটা ছোটখাট গেট টুগেদার করতে চাচ্ছে। সেখানে আমিও যেন যাই।
দওয়াতের তারিখটা ছিলো ব্যাংকক যাওয়ার আগের দিন ।পরের দিন সকাল ১১ টার দিকে আমাদের ফ্লাইট । আসলে আমি আমার অসুস্থতার কথা তখন তখন পর্যন্ত মামীদেরকেও বলি নাই।
আমি যদিও জানতাম যে, দেশের বাইরে যাওয়ার অন্তত দিন ১৫ আগে থেকে যেন প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের না হওয়াটাই সবচাইতে ভালো। কিন্তু আমি এই সাধারণ নিয়ম ভঙ্গ করে সবাই আসবে শুনে মামীর প্রস্তাবে রাজী হয়ে যাই। আর এটাই ছিলো আমার চরম ভুল সিদ্ধান্ত। আর এই সিদ্ধান্তের খেসারত আমাকে দিতে হয়েছে খুব বাজে ভাবে।
যা-ই হোক, মামীর বাড়িতে গিয়ে দেখি সবাই সেখানে উপস্থিত হয়েছে। দিনটা সবাই মিলে খুব আনন্দে কাটিয়ে বাসায় ফেরত আসি। আসার দিন রাত থেকেই আমার বাসার সবারই জ্বর আসে। পরে জানতে পারি যারা যারা মামার বাসায় গিয়েছিলো তাদের সবারই কম -বেশি জ্বর এসেছে এবং সাথে কাশি।
সাথে আরো জানতে পারি যে, এটা করোনারই একটা নতুন ভ্যারিয়েন্ট।ফ্লু এবং করোনা দুটো মিলে তৈরী হয়েছে এবং এর নাম যতটা মনে পরে "ফ্লুয়েনা"।
এই ফ্লুয়েনাকে সঙ্গী করেই পরের দিনের ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুতি নেই আমরা।
◦•●◉✿ Thanks Everyone ✿◉●•◦
◦•●◉✿ Thanks Everyone ✿◉●•◦




Congratulations! This post has been voted through steemcurator09. We support quality posts, good comments anywhere and any tags.