সভ্যতার পরিভাষা!

কারণ, আমি চিন্তিত, আমি সন্দিহান!
কি নিয়ে?
আমরা অর্থাৎ মানুষ, যারা প্রযুক্তির সাথে সাথে নিজেদের উন্নত বলে দাবি করতে এক্ মুহুর্ত চিন্তা করি না!
সময়ের সাথে শিখে নিয়েছি নতুন মোবাইলের দ্বারা কিভাবে এগিয়ে চলা যায়, আর সেই আধুনিক প্রযুক্তিকে একাধিক বিকৃতির কাজে ব্যবহার করতে বর্তমানে অহরহ দেখা যায়!
সভ্যতার পরিভাষা মানে বড় বড় আধুনিক ইমারত নির্মাণ, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরি করে দৈনন্দিন জীবনের সুবিধা বৃদ্ধি, কিংবা বিজ্ঞানের সৃষ্টিকে উন্নত করে সুস্থ্য জীবন দেওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি!
এখন এই যে উন্নতির কিংবা সভ্যতার পরিভাষার সমর্থনে কথা বলতে সোচ্চার হচ্ছেন, পরিপাটি পোশাক পরিহিত শিক্ষিত সমাজ;
তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, উন্নত মানসিকতা ছাড়া কি সত্যিই সভ্যতার পরিভাষার সংজ্ঞা সম্পূর্ণ হয়?
কেনো এমন প্রশ্ন আজকে তুলছি লেখার মাধ্যমে?

বলছি বড্ডো মর্মাহত হয়ে! আমি বিশ্বাস করি যতক্ষণ পারিবারিক শিক্ষা, প্রশাসন উন্নত না হবে, সঙ্গে উন্নত হবেনা সামাজিক পরিকঠামো, ততক্ষণ যান্ত্রিক উন্নয়ন দিয়ে সভ্যতা বিচার কতখানি সমীচীন আমার অবশ্য জানা নেই!
অকালে ঝরে যাওয়া প্রাণ, বিকৃত মানসিকতার শিকার হওয়া শিশু তথা সমাজের সাধারণ মানুষ (মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে) যতক্ষণ সুরক্ষার বেষ্টনীতে না আসতে পারছে, ততক্ষণ আমার ধিক্কার এই উন্নত সভ্যতাকে!
যারা প্রতিযোগিতায় নেমে এক্ দেশের সাথে তুলনা করে একদিকে নির্মাণে সামিল হচ্ছে, আবার সেখানেই অপরপক্ষে সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় বিফল!
তাকে কি সত্যি সভ্যতা আখ্যা দেওয়া যায়?
তাবড় তাবড় উন্নত দেশেও নারকীয় ঘটনা এখনো ঘটে চলেছে!
একদিকে যেখানে নিজেদের উন্নত, সভ্য, আধুনিক সবকিছুর মোড়কে নিজেদের মুড়ে রেখে, তারই অন্তরালে যে বর্বরতার ছবি উঠে আসে, সেটার দিকে সর্বাগ্রে নজর রাখা উচিত!
যেদিন নির্ভয়ে সাধারণ মানুষ ঘরের বাইরে বেরিয়ে সুরক্ষিত ঘরে ফিরতে পারবে, সেদিন হয়তো আমরা নিজেদের সভ্য বলতে পারবো।
যেদিন ঘরের অন্দরমহলে হোক কিংবা বাইরে বাক স্বাধীনতা থেকে অভিমতের সম্মান সমান হবে, সেদিন নিজেদের সভ্য বলতে পারবো!
যেদিন প্রতিহিংসার বলি হতে হবে না কোনো নারী কিংবা পুরুষকে সেদিন নিজেদের সভ্য বলতে পারবো!
আজও এমন অনেক নৃশংস ঘটনা সমাজে ঘটছে যেটি আর যাইহোক সভ্যতার পরিভাষা হতে পারে না!
ভালবাসা ছিল একজনের সাথে, কিন্তু পরিবার অন্যত্র বিবাহ ঠিক করায় বাধ্য হলো বিয়ে করতে, আর এই চাপিয়ে দেওয়া বিবাহের বলি হতে হলো একটি নিষ্পাপ প্রানকে!
এই সোস্যাল মিডিয়ার যুগে পরিচয় হয় একাধিক অজানা মানুষের সাথে আধুনিক মিডিয়ার হাত ধরে;
সময়ের সাথে সম্পর্ক তৈরি, এরপর অনৈতিক আবদার এবং পরিশেষে সেই বিশ্বাস এবং ভালোবাসার পরিণতিস্বরূপ প্রাপ্তি হয় ব্ল্যাকমেইল এর মত ঘটনার!
পরিবারকে বলতে না পারে আত্মঘাতী হবার মত ঘটনাও এক্ষেত্রে নজিরবিহীন নয়!
এগুলো কোন সভ্যতার পরাকাষ্ঠায় পড়ে,
আমার জানা নেই!
এরপর, পাড়ায় তৈরি হলো কিশোর কিংবা কিশোরীর প্রেম, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তাতে ভাটা পড়লো, এরপর শুরু হলো প্রতিহিংসা নেবার প্রয়াস, তারপর সময়ের সাথে লজ্জাহরণ এবং খুনের মত জঘন্য অপরাধ!

মুশকিল হলো, সচেতনতা শুধুমাত্র একটি পরিবার কিংবা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিয়ে তৈরি সম্ভব নয়!
এই আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শেখানোর মত গুরু দায়িত্ব বেশিরভাগ পরিবার নিচ্ছে না!
শিশু কি দেখছে? কার সাথে যোগাযোগ রাখছে? কাদের সাথে ভাব বিনিময় হচ্ছে? প্রতিনিয়ত সবটা একটা বয়স পর্যন্ত নজর রাখবার দায়িত্ব পরিবারের সকলের!
প্রাইভেসি শব্দের ব্যাখ্যা শেখাতে হবে শিশুদের! কতখানি বিষয়কে প্রাইভেসি বলে, কোন বয়সে এটি প্রযোজ্য, তথা কোন কোন বিষয় এবং ব্যাক্তির ক্ষেত্রে এগুলোকে প্রয়োগ করতে হয়, সবটাই গোড়ার শিক্ষা!
এই বিষয়গুলির দিকে কতজনের নজর আছে বলুন তো?
যেখানে বাড়িতে পরিবারের বড়রা রিলে ব্যস্ত সেখানে ছোটরা কোনটা ভালো, আর কোনটা মন্দ কার কাছ থেকে শিখবে?
আমি উন্নতির বিপক্ষে নই, তবে সেই উন্নতির যথার্থ প্রয়োগ না শিখে যখন ব্যবহার করা হয়, আমি অবশ্যই তার বিপক্ষে!
অল্প বয়সে কৌতূহল থাকবেই, তবে সেই কৌতূহল যেনো শিশুরা নিজেদের ঘরের মানুষের সাথে ভাগ করে, তার নিবারণ করতে সক্ষম হয়,
এমন একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ যদি ঘরের অভ্যতরে গড়ে তোলা যায়, তাহলে অনেক অঘটন এড়ানো হয়তো খানিক সম্ভবপর হবে।
দিনশেষে কতখানি উপার্জন হলো সেটার হিসেব যেমন থাকে, তেমনি কতখানি সভ্য নিজেদের করতে পারলাম, কতখানি মানসিক উন্নত নিজেদের করতে সক্ষম হলাম, সেই হিসেব রাখাটাও বোধকরি আবশ্যক!
আপনাদের কি মনে হয় এই বিষয় নিয়ে?
সভ্যতা মানেই কি শুধু ডিগ্রি, নাকি উন্নত মানসিকতার গুরুত্ব সমান গুরুত্বপূর্ণ?




Much appreciated your support @steemcurator07 and @memamun 🫰