জীবন নিজের, তাই নিয়ম, নিজের থাকাই বাঞ্ছনীয়!

স্বাধীনতা নিয়ে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করলেই তো আর শব্দটির যথার্থতা প্রমাণিত হয় না!
আমার কাছে অবশ্য স্বাধীনতা আর স্বাধীনচেতা শব্দযুগলের মানে পৃথক!
আমি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী কিন্তু সম্পূর্ণ স্বাধীনচেতা মনোভাবাপন্ন মানসিকতায় নয়!
এবার অনেকেই এই আংশিক বিশ্বাসের কারণ জানতে চাইবেন, তাহলে জানাই একটি ছেলে যখন চাকরি করে, আর রাতে তাকে কাজের সূত্রে অফিসে থাকতে হয়;
সেটাকে পরিবার তথা সমাজ বলবে প্রয়োজন!
আর, ঠিক একই বিষয় যখন একটি মেয়েকে পালন করতে হবে, তখন সেই একই বিষয়টিকে তির্যক
দৃষ্টিতে দেখবে এবং তার সমালোচনা করবে ঘর তথা সমাজের এক্ শ্রেণীর মানুষ! এই বিষয়টির বিরুদ্ধে আমি।
তাই আংশিক সমর্থক আমি স্বাধীনচেতা মনোভাবাপন্ন মানসিকতায়, সম্পূর্ণ নয়!
যারা এই স্বাধীনতার অপপ্রয়োগ করে, সেটা পুরুষ এবং নারী নির্বিশেষে সেক্ষেত্রে আমি প্রতিবাদী উভয় ক্ষেত্রেই!
স্বাধীনচেতা হতে গিয়ে নিজের শারীরিক ক্ষতি, পরিবারের সম্মানের ক্ষতি কিংবা সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট, সবটার বিরোধী আমি।
তবে, স্বাধীনতা, সেটা বাক স্বাধীনতা হোক, কিংবা অর্জিত শিক্ষাকে সঠিক কাজে প্রয়োগ করে কর্মের মাধ্যমে সমাজসেবার মত কাজের আমি সমর্থন করি!
কিভাবে? একটি উদাহরণ এখানে তুলে ধরতে চাই!

দেখুন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে কিংবা প্রশাসনে নারী পুরুষ উভয়েই কাজের সাথে যুক্ত!
এখন দায়িত্ব পালনের সময় যদি স্বাধীনতায় পরিবার ব্যাঘাত ঘটায় নারীর ক্ষেত্রে;
আর, সেই বিষয়টিকে নিয়ে কোনো নারী যদি প্রতিবাদী হন, এবং পরিবারের মতের বিপক্ষে দাড়িয়ে নিজের কর্তব্যকে সম্মানিত করেন;
নিজের স্বাধীনতা বজায় রাখতে সচেষ্ট হন, সেটা প্রশংসার দাবিদার, সমালোচনার নয়!
একটি পরিবারের কথা ভাবার চাইতে লক্ষ লক্ষ পরিবারকে সুস্থ্য জীবন দিতে এবং সুরক্ষা দিতে গিয়ে যদি প্রতিবাদী হতে হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে আজকের শীর্ষক অবশ্যই প্রযোজ্য বলে আমি মনে করি!
জীবন নিজের, কিন্তু শুধুমাত্র একটি পরিবার কিংবা মুষ্টিমেয় মানুষকে ভালো রাখার জন্য কিন্তু এই জীবন নয়, বরং একাধিক এনজিও তে কাজের সূত্রে উপলব্ধি করেছি, পরিবারের পাশাপশি, এই জীবনের উপর সামাজিক খানিক দায়বদ্ধতাও বর্তায়।

আচ্ছা, ধরুন পাহাড় যদি ভাবতো, তার উপর দিয়ে বয়ে চলা জলরাশির উপর কেবলমাত্র তার অধিকার, তাহলে কি সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা পৃথিবী আমরা পেতাম?
আবার যদি সমুদ্র বাধ সাধতো, তার বুকে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না!
কি হতো তাহলে? ধরুন আকাশ মেঘ নিজের মধ্যেই ধারণ করে রাখতো, তাহলে বর্ষা রূপে পৃথিবীর বুকে কি সেই মেঘ ঝরে পড়ত?
জল ছাড়া তো জীবনের অস্তিত্বই থাকতো না, তাই না?
তেমনি নিজের জীবনের স্বাধীনতার রাশ যদি অন্যের হাতে থাকে, তাহলে জীবন যে খুব একটা সুখকর হয় না, এর ভুরি ভুরি প্রমাণ রয়েছে।
সিদ্ধান্ত ভুল হোক, কিংবা ঠিক সেটা নিজের মতো করে নিয়ে, তার পরিণতিকে সাদরে গ্রহণ করার নাম অভিজ্ঞতা!
বট গাছের ছায়ায় থেকে কি সত্যি নিজের জীবনের মানচিত্রে অভিজ্ঞতার পালক স্থাপন সম্ভব?
আমিও বুঝতে পারতাম না, যদি না একলা জীবনের অধিক পথ হেঁটে পেরিয়ে আসতে হতো!
বলতে সহজ হলেও, এই অভিজ্ঞতা অর্জনের পথচলা কিন্তু ততটাও সহজ নয়!
এতে করে অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে!
কেউ অকারণে দয়া, করুণা দেখায়নি!
সবটার আড়ালে ছিল কিছু না কিছু আত্মস্বার্থ!
এই জীবনে সৃষ্টিকর্তা ব্যতীত, আমার জীবনে কারোর বিশেষ কোনো কৃতিত্ব নেই, কিংবা কাউকে আজ আর কৃতিত্ব দেবো না!
আমার শেখার নিরানব্বই শতাংশ আমি সৃষ্টিকর্তার শিক্ষালয় থেকে অর্জিত।
আর তাই অনেক সিদ্ধান্তের যন্ত্রণা বইতে হয়েছে, অনেক ক্ষতি মেনে নিতে হয়েছে, অনেক মুখের আড়ালের মুখোশ উন্মোচন হয়েছে সময়ের সাথে সাথে, আবেগ নিয়ে, অনুভূতি নিয়ে, দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছেন অনেকেই, তবে পাশাপশি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়েছে ততোধিক।

তাই, ভালো হোক কিংবা মন্দ নিজের জীবনের, নিজের আবেগের রাশ যে অন্যের হাতে দিতে নেই, সে যত কাছের যতই আপন হোক না কেনো!
অবাক হবার বিষয় নয়, বোঝার বিষয়, এসেছি একা, আর যাবো একা!
তাই, নিজের জীবনের নিয়ম নিজের হাতে থাকলে চোখের জল যেমন কম খরচ হয়, তেমনি মেরুদণ্ড মজবুত হয়!
উপরিউক্ত ভাবনা একান্তই নিজস্ব! নিজকে ভালবাসতে শেখা এবং শেখানো উভয় সমান গুরুত্বপূর্ণ, আমার সেটাই মনে হয়, আর আপনাদের?



Curated by: @kouba01