ভালবাসা বড় নির্মম!

আজকের শীর্ষক দেখে দয়া করে যারা ভালোবাসায় হাবুডুবু খাচ্ছেন, তারা দয়াকরে কোনো তির্যক মন্তব্য করবেন না!
ব্যক্তি বিশেষে, পরিস্থিতির নিরিখে এবং বাস্তবিক জীবনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা সকলেই পৃথক!
তাই, খেয়াল করে দেখবেন, একই মন্দিরে ভিন্ন ভিন্ন মানুষ ঈশ্বরের সামনে উপস্থিত হয় ভিন্ন ভিন্ন আবদার নিয়ে!
আবার একটু গুছিয়ে বললে কিছু লেনদেনের একটা অঙ্ক কষে তারা দ্বারস্থ হয়!
ইচ্ছে পূরণের বিনিময়ে তারা কি কি করবেন ভবিষ্যতে তার তালিকা নিয়ে।
এবার সেটা যে মন্দির হবে এমন কোনো কথা নেই, যেকোনো ধর্মস্থান হতেই পারে।
না মানে, আমি যেহেতু হিন্দু তাই উদাহরণটি মন্দিরের দিলাম।
একাধিক মন্দির জুড়ে তালা ঝুলিয়ে মনস্কামনা বেঁধে চাবি জলে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার মতো নিদর্শন দেশে শুধু নয়, বিদেশেও দেখা যায়।
আবার মন্দির ছাড়াও অন্যান্য ধর্মস্থানেও দেখা যায় একই বিষয়!
অথচ সময়ের হাত ধরে, কালের স্রোতে কতগুলো তালা পরিণতি পেয়েছে সে বিষয়ে আমি সন্দিহান!
শুধু শুধু তালার মূল্য বৃদ্ধি, অবশ্য এর পাশাপশি ওই চত্বরের কিছু মানুষের ব্যবসায়িক দিক দেখলে তাদের আয়ের দেখা যাবে এটাই স্রোত!
দেখুন আমার প্রায় সমস্ত লেখার শীর্ষক এর সাথে একটা না একটা প্রমান সর্বদাই তুলে ধরেছি। আজকেও তার অন্যথা করিনি, দ্বিতীয় ছবিটা একটু মনোযোগ দিয়ে দেখলেই কথার সত্যতা খুঁজে পেয়ে যাবেন! কিভাবে?
দ্বিতীয় যে ছবিটি লেখায় তুলে ধরেছি সেটা আলমোড়ায় অবস্থিত চিতাই গোলু মন্দির, কিংবা বেল টেম্পল নামে পরিচিত!
এটি মূলত শিব মন্দির এবং ন্যায়ের দেবতা বলে প্রচলিত।
এবার এই যে ন্যায় পাওয়ার আশায় অথবা সঠিক বিচার পেতে দর্শনার্থী এখানে ঘণ্টা বাঁধেন!
তাই মন্দিরটির আরেকটি নাম বেল টেম্পল!

এখন এই ঘণ্টা তো বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধার মত বাধার বিষয় নয়, এই প্রতিটি ঘণ্টার আড়ালে রয়েছে এক্ একটি গল্প!
যার বেশিরভাগটাই জুড়ে রয়েছে ভালোবাসা!
কেউ মানত করেছে, তার স্বামীর জন্য, কেউ সন্তানের জন্য, কেউ তার কাছের মানুষের জন্য!
অর্থাৎ যদি খুব সূক্ষ্ম ভাবে বিচার করা যায়, তাহলে দেখা যাবে, সবকিছুর আড়ালেই রয়েছে আপনজনের মঙ্গল কামনা, অর্থাৎ ঘুরিয়ে সেই ভালবাসা।
তবে, এই বিষয়টি ততটাও সুখকর নয়, অর্থাৎ সবার সব ইচ্ছে যে পূরণ হয়, সব ভালোবাসা পরিণতি পায় কিংবা পরিণতি পাওয়া ভালবাসার গভিরত্ব চিরকাল গভীর, গভীরতর হতে হতে গভীরতম হয়, এমনটা কি সকলে বলতে পারবেন?
কেউ মানিয়ে নেয়, কেউ মেনে নেয়, আবার কেউ মেনে নিতে নিতে হেরে গিয়ে মাঝপথে চির বিদায় নেয়, আবার কেউ কেউ পুরোনো সব ভালবাসা ঝেড়ে ফেলে পথ বদলে নেয়, আর আছে, যারা স্মৃতি আঁকড়ে পুরো জীবন পার করে দেন।

তাহলে, এবার কি মানবেন ভালোবাসা সব সময় সুখকর নয়, বরং অধিক ক্ষেত্রেই নির্মম!
এই নির্মমতা সামনে আসে যখন দাঁড়িপাল্লায় একদিকে থাকে নেওয়া, আরেকদিকে থাকে দেওয়ার হিসেব!
এই হিসেব রাখা মানুষগুলো কোনোদিন নিজেরা কতখানি পেয়েছেন, সে হিসেব কষে না, কেনো জানেন, কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভালোবাসা মূল্যায়িত হয় টাকার অঙ্কে!
সময় দিয়ে, অন্তর দিয়ে জীবনের শেষ পর্যন্ত মুখবুজে ভালবেসে যাওয়া মানুষের মূল্যায়ন খুব কম হয়!
হিসেব কষা মানুষগুলো মনেই রাখে না, তাদের জন্য কে কতখানি গভীর জলে নেমেছেন সাঁতার না জেনেও!
কত রাত নির্ঘুম অতিবাহিত করেছেন, কত শব্দের আঘাত হৃদয়কে ভিতর থেকে অপরপক্ষের মানুষটিকে আহত করে, রেখে গেছে চির ক্ষত!

একটি গান এই মুহুর্তে লিখতে লিখতে মাথায় আসছে, সেটা হলো,
"তেরে লিয়ে দুনিয়া ছোড় দি হ্যায়, তুঝ পেহি শাঁস আকে রুকে;
ম্যায় তুঝকো কিতনা চাহ্তি হুঁ,
ইয়ে তু কভী সোচ না সকে!"
এরকম ভাবনা নিয়ে অনেকেই ভালোবাসা শুরু করেন কিন্তু খুব দুঃখের সাথে লিখতে বাধ্য হচ্ছি কোনরকম সহমতের প্রত্যাশা না রেখেই,
বাস্তবে এর একটি অক্ষর পালন করে না কোনো না কোনো এক্ পক্ষ!
অর্থাৎ বিশ্বাসের জায়গায় আজ ভালোবাসা এক্ অর্থে মৃত!
যারা এই স্বার্থপর ভালোবাসার জন্য পৃথিবী ত্যাগ করে, তারা বোকা!
আমি নারী পুরুষ উভয়ক্ষেত্রেই কথাটি বলছি, তবে এটি না উল্লেখ করলেই নয়, পুরুষ যেভাবে একসাথে সমান দক্ষতার সাথে একাধিক ভালোবাসা বয়ে বেড়াতে সক্ষম, নারীরা বোধকরি ততটা পারদর্শী এখনো হয়ে উঠতে পারে নি!
নাহ্! আমি ভুল হতেই পারি।
আর, পারি বলেই শীর্ষক বেছে নিয়েছি ভালোবাসা বড় নির্মম!
এখন এই নির্মমতা যেকোনো পক্ষ থেকেই আসতে পারে, তবে আমি এক প্রজাতিকে রসুন আখ্যায়িত করেছি জীবনে বেশ কিছু অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গিয়ে!
আর, যারা আমাকে খানিক কাছ থেকে চেনেন, তারা এই কথার পিছনের প্রজাতিদের বিষয় ওয়াকিবহল!
ভালবাসা এরপর হয়তো থাকলেও সেখানে শর্তাবলী প্রযোজ্য ট্যাগ থাকবে, না মানে নির্মমতার চাইতে, এই ট্যাগ শ্রেয়;
পছন্দ হলে এগোবে, নইলে নয়!


Curated by: @ ripon0630