আস্থা/Faith!

প্রশ্ন যখন আস্থা অথবা বিশ্বাস নিয়ে তখন পরিস্থিতি এবং সময়ের নিরিখে নিজেদের সুবিধানুসারে সেটি বদলে যায়!
ধরুন কোনো মানুষের সময় খারাপ যাচ্ছে, সেটি শারীরিক হতে পারে, মানসিক কিংবা আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সবচাইতে মূল্যবান আর্থিক দিক থেকে!
দেখবেন সেই সময় সৃষ্টিকর্তার প্রতি যারা ভালো সময় আস্থা নেই কিংবা নিজেদের নাস্তিক বলে দাবি করেন, রাতারাতি কেমন আস্তিক হয়ে উঠেছে!
অর্থাৎ এই যে বিশ্বাস, কিংবা আস্থার দিক পরিবর্তিত হয় মানুষের বর্তমান পরিস্থিতির উপরে।
যে নামেই সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করা হোক না কেনো, সেই স্মরণের উপর যে আস্থার মানদণ্ড রয়েছে সেটি মানুষের পকেটের ওজন তথা নিজস্ব প্রয়োজনের উপরে নির্ভরশীল।
ভালো সময় আস্থার বাজার দর কমে যায়, আমার পরিস্থিতি প্রতিকূলে গেলেই সেই সৃষ্টিকর্তার শরণাপন্ন হতে মুহুর্ত সময় ব্যয় করেন না বেশিরভাগ মানুষ।
আরেকটি খুব পরিচিত উদাহরণ দিলে বোধহয় আজকের লেখার শীর্ষক এর তাৎপর্য সুস্পস্ট হবে।
![]() | অন্তর্যামী জানেন অন্তরের কথা! |
|---|
মনে পড়ে সেই স্কুল জীবনের কথা? সারা বছর পড়াশুনা না করে পরীক্ষার ঠিক আগের দিন সৃষ্টিকর্তার শরণাপন্ন হয়ে পরীক্ষায় উৎরে দেবার অনুরোধ নিয়ে, নিজেদের আস্থাকে শূন্য থেকে একশ ডিগ্রিতে পৌঁছে দিয়ে মাথা নত করে প্রার্থণা, পাশাপশি পরবর্তীতে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে, মনোযোগ সহকারে লেখাপড়া করবার অঙ্গীকার! তবে, একবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গেলেই, রাতারাতি অঙ্গীকারের কথা ভুলে যাওয়া!
আপনাদের মধ্যে কারা কারা উপরের উদাহরণটি মেলাতে পারছেন জানাবেন!
এরকম একাধিক বাস্তব উদাহরণ আমাদের বুঝিয়ে দেয়, মানুষ কেবলমাত্র আত্ম স্বার্থে আস্থা শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন, মুষ্টিমেয় ব্যতিক্রমী মানুষ আছেন যারা শব্দটির আক্ষরিক অর্থ বোঝেন এবং সেটি বহন করে চলেন বাস্তব জীবনে।
মুশকিল হলো, এই আস্থা কিংবা বিশ্বাস যাই বলুন, এটি সম্পর্ক তথা ব্যাক্তি জীবনে অক্ষুন্ন রাখাটাই এখনকার জীবনের সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ!
একপক্ষ আস্থা অক্ষুন্ন রাখছে মানে, অপরপক্ষ একই পথে হাঁটবে এমনটি ভাবা আজকের দিনে সবচাইতে বড় বোকামি।
![]() | কোনো স্থাপত্য আস্থার সার্টিফিকেট হতে পারে না! |
|---|
অথচ প্রত্যাশা থাকে শতভাগ অপরপক্ষের নিজেরা যতই উল্টোপথে হাঁটুক না কেনো!
মানুষের বাহ্যিক ব্যবহার, শিক্ষা এবং তার বেড়ে ওঠার পরিবেশের খানিক প্রভাব থাকলেও সেটি কারোর আস্থাকে সার্টিফাই করে না।
একটি মানুষ নিজেকে যতক্ষণ অন্য মানুষটির মানসিক স্তরে নিজেকে রেখে পরিস্থিতি বুঝতে সক্ষম না হন, ততক্ষণ এই আস্থার গুরুত্ব তাদের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়।
আর সেই মানসিক স্তরে হাত ধরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, সেটি নিজেদের সাথে ঘটলেই একমাত্র উপলব্ধি সম্ভব।
অর্থাৎ নিজেদের আস্থা যখন অন্যের দ্বারা ক্ষুণ্ন হয়, একমাত্র তখন অন্যের সাথে নিজেদের কৃতকর্মের নাগাল পাওয়া যায়।
প্রতিদিন কখনও চোখের সামনে, আর অধিক সংখ্যক ক্ষেত্রে দৃষ্টিগোচরের বাইরে আস্থা ভঙ্গুরের বেদনার লড়াইটা লড়ে যাচ্ছেন, মুখে অমলিন হাসি নিয়ে বহু মানুষ।
এটাকেই বোধহয় বলে সাদাকালো বাস্তব!




Hi there @sduttaskitchen, I hope you are well, I am running a witness node (faisalamin) for the past 2 years. And the SteemPro is the leading project of my witness, My contributions also include in
SteemPro is also open-source and I am activily making it more and more useful for the end user. You support for witness @faisalamin will be highly appreciated. Please consider voting witness faisalamin
https://www.steempro.com/witnesses#faisalamin