Incredible India Monthly Community Contest for December #2: A Way to Overcome Prejudication!

আরো একবার কমিউনিটিতে ঘোষিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হাজির হয়েছি, এখনো যারা এই প্রতিযোগিতা সম্পর্কে ওয়াকিবহল হন নি, তাদের সুবিধার্থে নিচে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবার লিংক পুনরায় উল্লেখ করা হলো!👇
লেখা শুরু করবার আগে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে আমি আমন্ত্রন জানাতে চাইবো @mou.sumi, @nainaztengra এবং @sailawana দের!
প্রতিবার প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু নিজে নির্বাচন করে, আমিই প্রশ্ন তৈরি করে তার উত্তরগুলো দিয়ে থাকি যেখানে নিজের ব্যাক্তিগত অভিমত প্রকাশ করি নিজের মতো করে, তবে এবার একটু ভিন্নভাবে অর্থাৎ ঠিক প্রশ্নের হাত ধরে নয়, বরং বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে নিজের অভিমত পোষণ করবার প্রয়াস করছি!
এর পিছনে কারণ? প্রতিযোগিতা এখনো চলমান, আর বাকি বন্ধুদের অভিমতের মধ্যে নিজের লেখার ছায়া দেখলে কেমন যেনো পরীক্ষায় নকল করে লেখার মত মনে হয়!
তাই, একবার মনে হয়েছিল, এইবার থাকুক নয়তো! তারপর মনে হলো, আধুনিক সমাজের মধ্যে বসবাস করেও অনেক মানুষের মানসিকতা আজও অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে, তার পিছনের অন্যান্য অনেক কারণের মধ্যে রয়েছে কুসংস্কার!

How does one perceive the term "prejudication"? Is it regarded as a curse or as a blessing? |
|---|
উপরিউক্ত প্রশ্ন ধরে প্রয়াস করছি নিজের মতামত তুলে ধরবার, তবে লেখা এগোনোর আগে জানিয়ে রাখি আমরা মানুষ হিসেবে সকলেই ভিন্ন কাজেই, আমার কাছে যেটি কুসংস্কার সেটি অন্যের কাছে নাও হতে পারে!
কারোর বিশ্বাসকে আঘাত করবার কোনো মানসিকতা নিয়ে লেখাটি লিখছি না, যদি কোনো শব্দে কেউ আহত হয়ে থাকেন, তাহলে সেটি নিতান্তই কাকতালীয় কিংবা সমাপতন যাকে ইংরিজিতে বলা হয় কো-ইনসিডেন্ট!
আমি উদাহরণস্বরূপ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করতে পারি যেগুলো আমি আমার দেশের মানুষদের মধ্যে প্রায়শঃই দেখে থাকি, এমনকি এই উন্নত প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়েও!
চলুন তাহলে দেখে যাক কোন কোন কুসংস্কার আজও অলিতে গলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবার সেগুলো উল্লেখ করবার পালা!
এক্ শালিক সকালে দেখলে দিন খারাপ যাবে!
বেচারা শালিক আজকাল আর একলা আসে না, তার পার্টনার না পেলে!
কথাটা মজার ছলে লিখলাম বটে, তবে মোবাইল নেটওয়ার্কিং রেডিয়েশনের কারণে অনেক পাখির উপস্থিতি দিন দিন কমে আসছে, এরমধ্যে কাক ও সামিল!চলার পথে বিড়াল রাস্তা কেটে গেলে সেই রাস্তা দিয়ে আর যাবার উপায় নেই, বিপদ অনিবার্য তাই অন্য পথ ধরতে হবে!
আজও অনেকেই বিষয়টি বিশ্বাস করে, আর বিষয়টি পাড়ার বিড়াল বুঝে গিয়ে ইচ্ছে করেই খানিক যানজট কমাবার জন্য, পাড়ার গলিতে বেশি করে ঘুরে বেড়ায়!
মনে মনে হয়তো বলে, তোদের জন্য সরকার বড় রাস্তা তৈরি করে রেখেছে, কিছু তো আমাদের জন্য ছেড়ে দে!
অনেক বাড়িতেই পোষ্য হিসেবে বিড়াল থাকে, বেচারা কি বোঝে কুসংস্কারের মানে?

আমার কাছে
ভেবে দেখুন একসাথে তিনজন, কিংবা কাউকে বেজোড় কিছু দেওয়াকে যদি অশুভ ভাবা হয়, সেটি নিতান্তই সংস্কারের অভাব ছাড়া আর কি হতে পারে?
- বাঁ হাতে কিছু নেওয়া কিংবা দেওয়া শিক্ষার তথা সম্মানে আঘাত হিসেবে অনেকেই দেখেন!
ভেবে দেখুনতো যারা বা হাতেই কাজ করতে অভ্যস্থ! অথবা কোনো দুর্ঘটনায় ডান হাত হারিয়েছেন!
তাদের ক্ষেত্রে কি উত্তর দেবেন এই ধরনের মানুষ যাদের মধ্যে সংস্কারের অভাব আজও রয়ে গেছে!

- জোড়া ফল খেলে যমজ শিশু জন্মাবে!🤔
মুশকিল হলো, পুঁথিতে উপরিউক্ত কোনো বিষয় কিন্তু উল্লেখিত নয়, তৎসত্ত্বেও ছত্রাকের মত মানুষের মধ্যে কুসংস্কারের ভীতি আস্থা গেড়ে বসে আছে!
সংস্কার নিয়ে যত না আলোচনা হয়, ততোধিক শৈশব থেকে গৃহের অভ্যন্তরে শিশুরা কুসংস্কার শিখে বেড়ে ওঠে!
আমাদের খনার বচনের মধ্যেও উল্লেখিত আছে মঙ্গলে ঊষা, বুধে পা, যথা ইচ্ছা, তথা যা!
শুরুতেই উল্লেখিত কোনো ধারণা, কোনো ব্যক্তি, বস্তু কিংবা ঘটনা কে ছোটো করে দেখাবার মানসিকতা আমার নেই, তবে যদি দিনের কথা বলতেই হয়, তাহলে সনাতন ধর্মের মধ্যে এক্ একটি দিন এক্ একজন ঈশ্বরকে উৎসর্গিত!
আর সেভাবে দেখতে গেলে, মঙ্গলবার বজরঙ্গবলি কে উৎসর্গিত!
যিনি মহাদেবের রূপ!
ধর্মের অভ্যন্তরে আমি যাবো না, কারণ আমার কাছে বিষয়টি হলো, একটি বাস্তব শিক্ষার অভাব!
যেমন অন্ধ বিশ্বাস, অন্ধ ভালোবাসা, কিংবা অতিরঞ্জন, অতি বাড়াবাড়ি সবটাই বর্জনীয় তেমনি, সংস্কারে আমরা যতক্ষণ আবদ্ধ আছি, ততক্ষণ সব কিছুই ঠিক তবে শব্দের আগে কু বসে গেলেই সবটা ব্যতিক্রম হয়ে যায়!
আমি এমন মানুষদের দেখেছি, শুধুমাত্র কুসংস্কারাচ্ছন্ন স্বভাবের কারণে, মানসিক রোগীতে পরিণত হয়ে গিয়েছিলেন একটি বয়সের পরে!
বারংবার, পা ধোয়া, ঠাকুরের জল আনতে গিয়ে কারোর ছোঁয়া লেগে যাওয়া, ইত্যাদি অনেক কিছুই আমার কাছে কুসংস্কার এর মধ্যে সামিল।
শিশুদের শৈশব থেকেই সংস্কারের শিক্ষায় গড়ে তোলা, আর ব্যাক্তিগত ভাবে আমি বিশ্বাস করি, মন শুদ্ধ থাকলে সব শুদ্ধ!
মনের মধ্যে আত্মকেন্দ্রিকতা রেখে, ঈর্ষা নিয়ে, স্বার্থপর মনোভাব নিয়ে, কেবলমাত্র কুসংস্কার বৃদ্ধি পায়, সংস্কার নয়!
এই ছিল আমার অভিমত প্রতিযোগিতার বিষয় নিয়ে, আর অনেক কিছুই লেখার ইচ্ছে থাকলেও ইচ্ছে করেই খানিক বাকি রেখেছি, ওই যে শুরুতেই লিখেছি, নকল হইতে সাবধান!


